৪৩-বছর বয়সী মস্কোবাসীনি স্ফেতলানা কাপানিনা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পদকপ্রাপ্ত নারী পাইলট. তিনি ৭ বার হায়েস্ট ফ্লাইটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে জয়লাভ করেছেন. মস্কোর শহরতলী ঝুকভস্কিতে প্রতিবছর আয়োজিত মাকস নামক বিমান প্রদর্শনীতে জনপ্রিয়া পাইলটকে আকাশের রানী বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে. এবছর রাশিয়ার এয়ারফোর্সের ১০০-তম বার্ষিকীর প্রতি উত্সর্গীকৃত ছিল ও কাপানিনার উড়ান ছিল দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বেশি আকর্ষক. যখন কাপানিনা স্টিয়ারিং ধরে, তার প্রতিটি ফ্লাইট মুগ্ধ করে দেয়. বিদেশী প্রচারমাধ্যমগুলি তার উড়ানকে চিকনের সাথে তুলনা করে থাকে. মহিলা দর্শকদের অভিভূত করেন তথাকথিত ঘন্টা নামক উড়ানে, যেখানে তিনি প্রথমে সোজাসুজি ওপরে ওঠেন, তারপরে ল্যাজ নীচে নামিয়ে ল্যান্ডিং করতে শুরু করেন. পৃথিবীতে কেবলমাত্র ১৫-২০ জন পাইলটই এরকম মুন্সীয়ানা প্রদর্শন করতে সক্ষম.

রুশী মহিলা পাইলটটিকে বহুবার বিদেশে উড়ান প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে – যেমন ১৯৯৮ সালে বৃটেনে. তখন বৃটেনের রানীর এয়ারফোর্সের ৮০-তম বার্ষিকী পালিত হয়েছিল. ঝুকোভস্কিতে সাম্প্রতিক এয়ার শোয়েতেও হাজার হাজার জনতা কাপানিনার উড়ান দেখতে গেছিল, যাদের মধ্যে তার সহকর্মী পুরুষরাও ছিল, যারা তার ভক্ত. হায়েস্ট ফ্লাইটে কাপানিনা প্রায় ৪০টি স্বর্ণপদক জিতেছেন. তিনি বলছেন আকাশকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজসাধ্য কাজ নয়, কিন্তু ঐ কাজ অমূল্য.

“হায়েস্ট ফ্লাইট খুব জটিল স্পোর্টস ইভেন্ট ও যখন তুমি প্লেনের স্টিয়ারিং ধরো এবং যখন শরীরের উপর ওভারলোডের সমস্যা শুরু হয়, সেটা সত্যিই মুশকিল. কিন্তু প্লেনের সাথে একাত্ম হতে হবে. শুধু তখনই উড়ানের হারমোনি আসে, সৌন্দর্য ও পেলবতার আবির্ভাব হয়. আর প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য আমি সবসময় নিজেকে বলি এই যে, এটাকে ভালোবাসা দরকার. কারণ সবকিছু দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে পরে”.

১৯৬০-৮০ সালে যখন কোনো সোভিয়েত শিশুকে জিজ্ঞাসা করা হতো, যে ভবিষ্যতে কি হতে চায়, তার উত্তরে অধিকাংশই বলতো – মহাকাশচারী. তখন সোভিয়েত ইউনিয়নে মহাকাশযাত্রার রমরমা. স্ফেতলানার জন্ম হয়েছিল ১৯৬৮ সালে. তখন প্রথম মহিলা মহাকাশচারী ভালেন্তিনা তেরেশকোভার সদ্যসমাপ্ত মহাকাশযাত্রা নিয়ে হইচই. আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মুখ্য কসমোড্রোম, কাজাখস্তানে অবস্থিত বৈকানুরের কথা সবাই জানতো. স্ফেতলানারও জন্ম হয়েছিল কাজাখস্তানে, আর তাই ছেলেবেলা থেকে তার উড়ানের রোম্যান্টিক স্বপ্ন মনে গেঁথে গেছিল. তবে মহাকাশে নয়, আকাশে . ২০ বছর বয়সে স্ফেতলানা প্যারাশ্যুট স্পোরটর্সের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে, আর ফলশ্রুতিতে হায়েস্ট ফ্লাইট বেছে নেয়. এ বিষয়ে কাপানিনা বলছে.

আমি বরাবর শরীরচর্চা করেছি, জিমন্যাস্টিকস খুব ভালোবাসতাম. সবসময় প্যারাশ্যুট থেকে খোলা আকাশে লাফ দিতে চেয়েছিলাম, যাতে মুক্তির আনন্দ অনুভব করতে পারি.

স্ফেতলানা মস্কোর অনতিদূরে কালুগায় এয়ার পলিটেকনিক থেকে পাশ করেছিল. ১৯৯৫ সালে তার প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪৪ জন পুরুষ পাইলটের সাথে সে ছিল একমাত্র মহিলা প্রতিদ্বন্দী. ওখানে স্ফেতলানা ২য় স্থান অধিকার করেছিল. কাপানিনা বলছেন, যে মেয়েরা রাশিয়ায় ও গোটা পৃথিবীতে ক্রমশঃই কম ফ্লাইট করে, মহিলাদের তাই পুরুষদের দলের সাথে একজোট করতে হচ্ছে, আর সেখানে মহিলাদের পুরুষদের সাথে শারিরীক ও মানসিক দিক থেকে পাল্লা দেওয়া অত্যন্ত শক্ত.

কাপাকিনা বলছেন, যে পুরুষদের ঈর্ষা মহিলাদের তুলনায় অনেক বেশি ভারী. যদি মেয়ে পুরুষের চেয়ে কোনো বিষয়ে অধিকতর উত্কর্ষতা দেখায়, তাহলে সেটা প্রমাণ করতে হবেই. প্রকৃতি বা মানবসমাজ সেরকমই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুদিন আগে.