রাশিয়ার উদ্ভাবনকারীরা ভারতকে বৃষ্টির জমা জলকে পাণীয় জলে পরিণত করার, যে প্রকল্প সৌরশক্তি ও বাতাসের মাধ্যমে কাজ করে, সেই প্রযুক্তি ও গুড়ো ইস্পাত সরবরাহ করার  প্রস্তাব করেছে.

ইন্দো-রুশী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষা ল্যুদমিলা করনাউখভা বলছেন – রুশী ও ভারতীয় বিজ্ঞানীদের গোল-টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে শীঘ্রই.

ল্যুদমিলা করনাউখভা বলছেন – আমরা রাশিয়ার সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক প্রযুক্তি প্রকল্পগুলি বেছেছি. এই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের কনস্ট্রাকসন ব্যুরো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কাজ করছে. রুশী ও ভারতীয় বিজ্ঞানীদের কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিত অত্যন্ত উজ্জ্বল. যেমন সিসমোলজির ক্ষেত্রে. রাশিয়ায় উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি দুই দেশের বিজ্ঞানীরা ভুমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যাপারে পরখ করে দেখতে চান. ওশানোলজির বিষয়েও দুই দেশের বোঝাপড়া হয়েছে. সমুদ্রের অনেক গভীরে গ্যাসের হাইড্রেট নিস্কাষন করে, শিল্পক্ষেত্রে তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে. গোল-টেবিল বৈঠকে অন্যান্য প্রকল্প নিয়েও বিজ্ঞানীরা আলোচনা করবেন.

ইন্দো-রুশী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র চালু করা হয় মস্কোয় ২ বছর আগে. আর তার শাখা নয়াদিল্লীতে এই বছর থেকে কাজ করতে শুরু করেছে. সোভিয়েত, রুশী ও ভারতীয় বিজ্ঞানীদের দীর্ঘকালীন সহযোগিতাই এই কর্মকেন্দ্রের উতসে. ৭০-এর দশকেই রুশীরা ভারতীয়দের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া ও কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর ব্যাপারে সর্বতোভাবে সাহায্য করতো. রাশিয়ার সহায়তায় ভারতবর্ষে এ্যান্টিবায়োটিক উত্পাদনের কারখানা খোলা হয় ও কয়েকটি তাপবিদ্যুতকেন্দ্র চালু করা হয়. সোভিয়েত মহাকাশযানে ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী হিসাবে মহাকাশ পরিক্রমা করেন. রাশিয়া ও ভারতের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চলছে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে. এরমধ্যে ভারত রাশিয়াকে ‘পারাম’ নামক সর্বাধুনিক কম্পিউটার সরবরাহ করেছিল. ঐ সব কম্পিউটার আবহাওয়াবিদদের ও পাইলটদের সঠিক হিসাব করতে সহায়তা করতো. একসারি যৌথপ্রকল্পের উপর কাজ এখনো চলছে.

রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত দিক আজকের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা আমাদের ২ দেশের বিজ্ঞানীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনে মদত দেয় – বলছেন কর্নাউখভা. মস্কো ও নয়াদিল্লীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেন্দ্র এইসব নিয়েই কাজ করে.

নয়াদিল্লীতে আসন্ন গোল-টেবিল বৈঠকে জ্বালানী শক্তির প্রশ্ন হবে মুখ্য. তাছাড়াও প্রথাগত চিকিত্সা ও ওষুধপত্র নিয়েও আলোচনা হবে. ঐ বৈঠক হবে মস্কো ও তোমস্কের বিশ্ববিদ্যালয় ও রাশিয়ান বণিকসভার তত্ত্বাবধানে. ল্যুদমিলা কর্নাউখভ বলছেন, যে অক্টোবরে দিল্লীতে বর্ষার মরসুম শেষ হয়ে যাবে ও আমরা ট্যাবলেটের কার্যকারিতা দেখাতে পারবো না. তবে আশা রাখছি, যে এই নো-হাউ সমেত অনেক নতুন প্রযুক্তি ভারতের বিজ্ঞানীদের প্রস্তাব করতে পারবো.