সমাকলন – এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বন্ধক রাখার মতো বিষয়, - এই ভাবেই ভ্লাদিভস্তকে শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান ধারণাকে বর্ণনা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে রাশিয়ার রাষ্ট্র প্রধানের এক প্রবন্ধ আমেরিকার নেতৃস্থানীয় সংবাদপত্র “দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের” এশিয় সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে.

রাশিয়া ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক ভাবেই – এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার এক বাদ দেওয়ার অনুপযুক্ত অংশ. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সম্পূর্ণ আকারে প্রকাশকে মস্কোতে মনে করা হয়েছে দেশের সাফল্য মণ্ডিত ভবিষ্যতের এক অপরিহার্য অঙ্গ বলেই, সাইবেরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের এলাকা গুলির উন্নতির জন্যও, এই কথাই ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন.

এই এলাকার সফল বিকাশের অন্যতম অপরিহার্য অঙ্গ হল আগামীতে আরও সমাকলন – রাশিয়ার নেতার এটাই বিশ্বাস. আর এই ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৈরী করা হয়েছে ভ্লাদিভস্তকের শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় বস্তু. তার ওপরে সমাকলনের অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই রয়েছে: রাশিয়া, বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থান তৈরী করেছে শুল্ক সঙ্ঘ ও ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকা. এই ধরনের জোট সম্পূর্ণ ভাবেই তৈরী করা হয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতি মেনে, যার সঙ্গে মস্কো যোগ হয়েছে. আর ভবিষ্যতে রয়েছে – ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক জোট সৃষ্টি. পুতিনের মতে, ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক জোট শুধু বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেই মিলে যাবে না, বরং আন্তর্জাতিক আলোচ্য তালিকা নির্ধারণে খুবই সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে. তা হতে পারে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার মধ্যে সেতুর কাজ করবে, এই বিশ্বাসই রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির.

রাশিয়ার নেতৃত্বের লক্ষ্যের মধ্যে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে চেষ্টা করা হবে – বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়মাবলীকে শিথিল করার. রাশিয়ার নেতা যে রকম উল্লেখ করেছেন যে, কিছু দেশ সংরক্ষণশীলতা নিয়মের বাজে ব্যবহার করছে. বিশ্ব সঙ্কটের পরিস্থিতিতে এটা মনে হতে পারে যে, একটি সঠিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু ফলে তা গতিহীণতার সৃষ্টি করতে পারে. পুতিনের মতে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির উন্নয়নের স্থিতিশীল গতি বজায় রাখা সম্ভব শুধু সমস্ত রকমের বাধা নিষেধ প্রত্যাহার করলেই. আর তা শুধু অর্থনৈতিকই নয়: জ্ঞান, প্রযুক্তি ও ধারণার স্বাধীন চলাফেরাকে বজায় রাখতে হবে, বৈজ্ঞানিক নীতির মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে হবে. রাশিয়া প্রস্তাব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলির মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরী করার, শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে বিনিময় চালু করার.

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সদস্য ও সহকর্মী দেশ গুলির বিচারের জন্য রাশিয়া বেশ অনেক গুলি প্রস্তাব দিয়েছে, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” উল্লেখ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ব্যবসায়িক ক্লাবের ডিরেক্টর দেনিস ত্যুরিন বলেছেন:

“এটা সেই সবই যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সমাকলন এই সব কিছুকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় স্বাধীন বা মুক্ত ভাবে করার জন্য রয়েছে. দ্বিতীয় হল – খাদ্য নিরাপত্তাকে মজবুত করা. প্রসঙ্গতঃ, দ্বিতীয়টি প্রথম ধারণার সঙ্গেই জড়িত. কারণ রাশিয়া বিগত সময়ে, বিশ্বের এক বৃহত্তম কৃষি পণ্য রপ্তানী কারক দেশ হয়ে ওঠার কারণেই, প্রায়ই সংরক্ষণশীল ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা অন্যান্য দেশ নিয়ে থাকে. আর এই অর্থে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক স্ট্র্যাটেজি সহমতে নেওয়া প্রয়োজন, এই প্রস্তাব পেশ করার পিছনে একে অপরের জন্য বাজার খুলে ধরার প্রস্তাব খুবই জায়গামতো হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, এখানে শুধু রাশিয়ার স্বার্থের কথাই হচ্ছে না, সমস্ত এলাকার স্বার্থের কথাই হচ্ছে”.

ভ্লাদিভস্তকের শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে প্রায়ই এক প্রশ্ন শুনতে পাওয়া গিয়েছে: রাশিয়া তার প্রাধাণ্যের দিক পরিবর্তন করছে না তো – পূর্বের দিকে ফিরতে গিয়ে পিছনে পশ্চিমকে ফেলছে না তো? কিন্তু বিষয় বস্তুর দিক থেকে প্রশ্নই সঠিক নয়, এই রকম মনে করেই দেনিস ত্যুরিন বলেছেন:

“পশ্চিমের দিক থেকে রাশিয়া জুড়ে রয়েছে খুবই বড় সমস্ত বর্তমানের সমাকলনের বিষয় দিয়ে – ইউরোপীয় সঙ্ঘের সাথে. আর পূর্বে – এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সঙ্গে, যেখানে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সমাকলনের প্রক্রিয়া চলছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়ে বাধা দূর হচ্ছে. তাই রাশিয়া আর তারই সঙ্গে রাশিয়ার অভিভাবকত্বে ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক জোট, এই বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রের মধ্যে জোড় দেওয়ার অংশ হতেই পারে”.

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার শীর্ষ সম্মেলন, যা ভ্লাদিভস্তকে হতে চলেছে, তা আরও একবার বিশ্বকে দেখাতে পারে যে, রাশিয়া – বহুল প্রসারিত সম্ভাবনার দেশ. ভ্লাদিমির পুতিন নিজের প্রবন্ধে তাই বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: মস্কো তৈরী আছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সকলের সৃষ্টির লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে সম্মিলিত ভাবেই কাজ করতে.