রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন দলের প্রশাসনের সঙ্গেই কাজ করতে তৈরী. রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাব্লিকান দলের প্রার্থী মিট রোমনি যদি ৬ই নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হন, তাহলে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে পারবে কি না এই প্রশ্নের উত্তরে পুতিন উত্তর দিয়ে বলেছেন:

“পারবো. যাঁকে আমেরিকার জনগন নির্বাচন করবেন, তাঁর সঙ্গেই কাজ করব. ততটাই ফলপ্রসূ কাজ হবে, যতটা আমাদের সহকর্মীরা চাইবেন”.

এই ঘোষণা রাশিয়া টুডে টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক দুই মাস আগে উচ্চারিত হল.

এমনিতেই এই ধরনের ঘোষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে অথবা অন্য যে কোন দেশেরই নেতা নির্বাচনের আগে খুবই সাধারন ও তা খুবই আপাতঃ বিষয়. এটা একটা কূটনৈতিক ভাবে এড়িয়ে যাওয়া, সেই প্রশ্নকে: যে কার সঙ্গে আপনার কাজ করতে সুবিধা হবে – নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অথবা তার আগের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে? রিপ্লাবিকান দলের মিট রোমনি, না কি ডেমোক্র্যাটিক দলের বারাক ওবামার সঙ্গে?

কিন্তু এমনকি এই ধরনের আপেক্ষিক ভাবে কোন পক্ষের না হওয়া উত্তরেও একটি নিজের আভ্যন্তরীণ মূলধারা রয়েছে. প্রথমতঃ, পুতিন আরও একবার করে জোর গলায় বলছেন যে, মস্কোর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, কে ৬ই নভেম্বরের পরে হোয়াইট হাউসে থাকবেন, বরং তার থেকেও বেশী গুরুত্ব দেওয়া হবে যে, কি রাজনীতি তিনি করবেন, সেই বিষয়ে. শেষমেষ, রাশিয়া আগেও, এখনও আর এর পরেও কাজ করেছে, করছে ও করবে কোন “বন্ধু জর্জ”, “বন্ধু বারাক” অথবা “বন্ধু মিটের” সঙ্গে নয়, বরং তা হবে আমেরিকার সঙ্গেই. পারমানবিক শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য দেশনেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাল মন্দ অবশ্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূচক. কিন্তু তা মোটেও একেবারে সব কিছু নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়. দুই পক্ষেরই বিশ্ব জোড়া স্বার্থ কোন ভাবেই ব্যক্তি সম্পর্কের উপরে জড়িয়ে থাকতে পারে না. এটা বিপজ্জনক.

দ্বিতীয়তঃ, এটা আরও একটা আপাতঃ দৃষ্টিতে প্রমাণ সেই বিষয়েই যে, মস্কো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের সম্পর্ক পাল্টাতে তৈরী নয়. এক প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছি – অন্য প্রশাসনের সঙ্গেও করা হবে. শুধু দেখতে বাকি রয়েছে যে, এই অন্য পক্ষ তৈরী আছে কি না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষ থেকেই নিজেদের কিছু অবস্থানের বিষয়ে আবার করে বিচার করতে তৈরী আছে কি না, রাশিয়ার স্বার্থের কথা বিচার করে. অথবা নিয়মিত ভাবেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে “অপরের দিকে পদক্ষেপ” ব্যাপারটা একটা স্রেফ ঘোষণার অঙ্গ হয়েই থাকবে.

প্রাথমিক দিক থেকে এটা অবশ্যই যে, কথা হচ্ছে ইউরোপে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের সমস্যা নিয়ে.

এই ক্ষেত্রে আমাদের আগে থেকেই নিজেদের সন্তোষ পোষণ করে লাভ নেই. যদি এটা বারাক ওবামার সময়েই, যখন এমনকি সঠিক কোন পরিকল্পনাই এই বিষয়ে ছিল না, তখনই বন্ধ করা সম্ভব না হয়ে থাকে, তবে মিট রোমনির সময়ে তো তা হওয়ার সম্ভাবনা আরও কম.

সেই সিওল শীর্ষ সম্মেলনের সময়েই ২৬শে মার্চ ২০১২ সালে বারাক ওবামা তখনকার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভকে বলেছিলেন যে, তাঁর পক্ষে এই বারের নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে, রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা প্রশ্নে তাঁর হাত আরও খোলা থাকবে. এই বৈঠকের প্রোটোকল মেনে বেঁধে দেওয়া সময়ের পরেও এবিসি নিউজ কোম্পানীর মাইক্রেফোন সেই দিন কাজ করছিল, তাই ওবামা যে তখন বেরিয়ে যাওয়ার পথে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে বলেছিলেন যে, “এটা আমার শেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, নির্বাচিত হওয়ার পরে আমার আরও বেশী নমনীয়তা থাকবে”. মেদভেদেভ উত্তর দিয়েছিলেন ইংরাজীতেই – “আমি বুঝেছি, আমি এটা ভ্লাদিমিরকে বলে দেবো”.

রিপাব্লিকান দলের লোকদের তখন এটা একেবারেই খেপিয়ে তুলেছিল. মিট রোমনি এমনকি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি প্রায় আমেরিকার স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন বলে, যা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিপজ্জনক খেলার তূল্য.

রাশিয়া খুব বড় কোনও পরিবর্তন আশা করছে না. ওবামার কাছ থেকেও নয়, আর রোমনির কাছ থেকেও নয়.

এখানে ভাল হয় মনে করিয়ে দিলে যে, এই বছরের জুন মাসেই মেক্সিকোর লস কাবোস শহরে ওবামার সঙ্গে “জি – ২০” দেশের শীর্ষ বৈঠকের “নেপথ্যে” সাক্ষাত্কারের পরে ঠিক কি বলেছিলেন.

আর তিনি তখন সাংবাদিক সম্মেলনে বৈঠকের ফলাফল নিয়ে বলেছিলেন যে, ইউরোপে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দেখাই যাচ্ছে যে, কে বিজয়ী হবে, তার উপরে নির্ভর না করে সমাধান করা যাবে না. আর তার সমাধান সম্ভব শুধু রাশিয়ার স্বার্থকেও বিচার করেই. অর্থাত্ মস্কো রাজী হবে শুধু একত্রিত ভাবে রকেট বিরোধী ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ একসাথে. তারা পুতিনের ধারণা অনুযায়ী “এই প্রক্রিয়ায় সব পক্ষই সমানাধিকারী হতে বাধ্য”.

রাষ্ট্রপতি পুতিন ও রাষ্ট্রপতি ওবামা কয়েক দিনের মধ্যে ভ্লাদিভস্তকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষ সম্মেলনের “নেপথ্যে” দেখা করবেন এটাই আগে ঠিক করা ছিল, কিন্তু তা হচ্ছে না.