রাশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীতে জলের গভীরে চলা চালক বিহীণ ডুবোজাহাজ যোগ হতে চলেছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন ঐক্যবদ্ধ জাহাজ নির্মাণ কর্পোরেশনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ফরমাশ বিভাগের প্রধান আনাতোলি শ্লেমভ. তাঁর কথামতো, স্বয়ংক্রিয় ও মানুষের বাসযোগ্য নয়, এমন জলের নীচে চলতে পারা যানের সৃষ্টি রাশিয়াতে শুরু হয়েছিল গত শতকের আশির দশকের শেষ থেকেই.

সেই ১৯৮৯ সালে এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বিশেষ সব কাজকর্ম মানুষ সহ ডুবোজাহাজ দিয়ে করা ঠিক হবে না. সামরিক বাহিনীর লোকরা হিসাব করে দেখেছিলেন যে, সমস্ত রকমের অন্তর্ঘাত করার ও তা প্রতিহত করার কাজকর্ম সবচেয়ে ভাল হয় রোবট চালিত যান দিয়ে করলেই. এই প্রসঙ্গে বাসযোগ্য নয় এমন সব জলের গভীরে পাঠানোর উপযুক্ত জাহাজ অনেক বেশী ধরনের কাজ করতে সক্ষম: তা যেমন সামরিক লক্ষ্যের বিষয়ে, তেমনি অসামরিক ক্ষেত্রেও, তাই সামুদ্রিক সামরিক কাজকর্মের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির শ্যেরবাকভ বলেছেন:

“এই ধরনের কাজ, যেমন, জলের গভীরের নির্দিষ্ট জায়গায় অনুসন্ধান, জলের নীচের বিভিন্ন জিনিষের বিষয়ে অনুসন্ধান, যা ডুবুরি বা মানুষ সমেত ডুবোজাহাজ নামিয়ে করা কঠিন, জীবনের জন্য বিপজ্জনক অথবা দামী. সেই গুলির সঙ্গে আবার বিশেষ কাজও করা সম্ভব – জাহাজ ধ্বংস করা, প্রতিপক্ষের ডুবোজাহাজ ধ্বংস করা, বিভিন্ন ধরনের জায়গা, নানা রকমের ঘাঁটি ও বন্দরে ধ্বংস করে দেওয়া ইত্যাদি. অনেক কাজই করা যেতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল নানা রকমের অনুসন্ধানের কাজ করা”.

একই সময়ে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, যুদ্ধ জাহাজ ধ্বংস করার জন্য অনেক বেশী ফলপ্রসূ ও কম দামের ব্যবস্থা রয়েছে, যেমন টর্পেডো ও মাইন. আর ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে মাইন, মাইন পাতা এলাকা খুঁজে দেখা, সেই গুলিকে ধ্বংস করে দেওয়া খুবই বাস্তবোপোযোগী কাজ. এই দিকে প্রকল্প তৈরী করতে হলে, অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয় ও প্রয়োজন রয়েছে খুবই উন্নত মানের প্রযুক্তিরও. কিন্তু এই ধরনের ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে নৌবাহিনী বা অসামরিক বা অন্য কোনও দপ্তরও, যারা সমুদ্র ও মহা সমুদ্রের সঙ্গে জড়িত, তারা স্বাভাবিক ভাবে উন্নতি করতে পারবে না. এটা এই ভাবেই প্রমাণিত হয় যে, শুধু রাশিয়াই নয়, বরং অন্যান্য উন্নত দেশ গুলি খুবই সক্রিয়ভাবে এই ধরনের পাইলট বিহীণ ডুবো জাহাজের বাহিনী তৈরী করছে, এই কথাই উল্লেখ করে ভ্লাদিমির শ্যেরবাকভ বলেছেন:

“এখানে যেমন আমেরিকার লোকরা, তেমনই ইজরায়েল ও আরও বেশ কিছু ইউরোপের দেশ – যেমন ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, সুইডেন আর জাপানও তৈরী করছে. এখানে কোনও একটি দেশ অথবা কোম্পানীকে আলাদা করে দেওয়া কঠিন হবে, কারণ তারা সকলেই নিজস্ব জায়গায় বিশেষ করে কাজ করছে. কেউ তৈরী করছে সামরিক প্রয়োজনের যন্ত্র, কেই বানাচ্ছে ডুবুরিদের প্রয়োজনের যান, তার মধ্যে আবার রয়েছে খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোম্পানী গুলির সমুদ্রের পৃষ্ঠে কাজ করার জন্য এই ধরনের জাহাজ. কিছু পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর জন্যও যান তৈরী করা হচ্ছে, যা সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তৈরী”.

ড্রোন সাবমেরিন সৃষ্টি সারা বিশ্বের বর্তমানে সামরিক প্রযুক্তি রোবট চালিত করার সার্বিক প্রবণতার সঙ্গেই জড়িত. আজ বিশ্বের সমস্ত নেতৃস্থানীয় দেশের সামরিক বাহিনীতে বেশী মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে সামুদ্রিক যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত বিষয় গুলির প্রতি. এই কথা মনে রেখে, বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন যে, বিশেষ অপারেশনে পাঠানোর উপযুক্ত ড্রোন সাবমেরিন তৈরীর কাজ শুধু সক্রিয় হতেই থাকবে.