ইন্টারনেটের যুগে কাগজের বইয়ের কি কোনও দরকার রয়েছে? কি করে বুদ্ধিদীপ্ত গদ্যের সঙ্গে গণ হারে পাঠকের সেতুবন্ধন করা যায়? এই রকম আরও অনেক প্রশ্ন, যা আধুনিক সাহিত্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে ও বই প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত, সেই গুলির উত্তর খুঁজতে আজ থেকে মস্কোতে উদ্বোধন করা হয়েছে পঁচিশতম আন্তর্জাতিক বইমেলা.

তাতে যোগ দিতে এসেছেন প্রকাশক, সাহিত্য কর্মী ও সমালোচকদের প্রতিনিধি দল, বিশ্বের ৬০টি দেশ থেকে, আর তাঁদের মধ্যে আছেন প্রাচ্যের দেশ থেকে আসা ব্যক্তিরাও, এই কথা রেডিও রাশিয়ার সংবাদদাতাকে জানিয়ে এই প্রদর্শনী ও মেলার জেনারেল ডিরেক্টর নিকোলাই অভসিয়ান্নিকভ বলেছেন:

“এই বারে ইরানের বইয়ের শিবির হয়েছে বড় করে. এখানে যোগ দিয়েছেন ইরানের সংস্কৃতি কেন্দ্র, দূতাবাস ও ইরানের প্রকাশকেরা, যাঁরা আলাদা করে নিজেদের স্ট্যান্ড তৈরী করেছেন. বিরাট স্ট্যান্ড রয়েছে সৌদি আরবের. অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে ইজিপ্ট. এই প্রদর্শনীতে ২ লক্ষেরও বেশী নানা ধরনের বই উপস্থিত করা হয়েছে, তার মধ্যে মুসলমান বিষয় বস্তুর প্রচুর বই রয়েছে”.

ঐতিহ্য মেনেই বইমেলা মস্কোতে দেখতে আসেন বেশ কিছু লক্ষ মানুষ. মেলা – এটা এক ধরনের সম্ভাবনা, যেখানে সব রকমের বইয়ের নতুন গুলির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়, আর একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় বই কিনতে পারা যায় সস্তায়, মানে প্রকাশকের দামেই.

তাছাড়া, এখানে প্রিয় লেখকদের সঙ্গেও দেখা হয়ে থাকে. বহু বিদেশী ও রুশী সাহিত্য কর্মী মস্কোতেই নিজেদের নতুন বই গুলি উপস্থাপনা করে থাকেন.

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে সেখানে হয়েছিল “সাহিত্যের উন্মুক্ত পাঠশালা”, লেভ তলস্তয়ের নামে উত্সর্গ করে. এই ধরনের পাঠ – মস্কোর প্রদর্শনীতে নতুন ব্যাপার. এই পাঠে পরিচালনা করেন বিখ্যাত সাহিত্য গবেষকরা. তাঁরা চেষ্টা করেন কিছু প্ররোচনা মূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে – যেমন – কেনই বা আধুনিক সাহিত্য পাঠের প্রয়োজন হবে, “যদি আমাদের এমনিতেই লেভ তলস্তয় ও ফিওদর দস্তয়েভস্কি রয়েছেন, তাহলে?”

প্রায় ৩০টিরও বেশী দেশ থেকে যোগ দেওয়া ১৫০ জনেরও বেশী অনুবাদকের উপস্থিতিতে এক বিশেষ সম্মেলনে আলোচনা করা হবে সাহিত্য কর্ম অনুবাদের সমস্যা নিয়ে. এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা ও জন সংযোগ সংস্থার উপ প্রধান ভ্লাদিমির গ্রিগোরিয়েভ বলেছেন:

“রাশিয়া প্রজাতন্ত্রে বছরে প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার বই প্রকাশিত হয়ে থাকে. এটা অনেক – এটা বিশ্বের সমস্ত প্রকাশনায় চতুর্থ ফলাফল. এই সমস্ত প্রকাশনার মধ্যে রাশিয়াতে মোটামুটি শতকরা ১২ শতাংশ হল অনুবাদ সাহিত্য. রাশিয়াতে – এক দারুণ ঐতিহ্য রয়েছে অনুবাদ সাহিত্য কর্মের. কিন্তু বর্তমানের অনুবাদ কর্মের মধ্যে আর সব তত ভাল অবস্থায় নেই. আর এটা প্রাথমিক ভাবে রুশ সাহিত্য বিদেশী ভাষাতে অনুবাদের বিষয়ে”.

অনুবাদকদের সম্মেলনের মধ্যে, যার বিষয় – “রুশ সাহিত্যের বিদেশী ভাষায় অনুবাদ: সমস্যা ও সম্ভাবনা”, এই বারে প্রথম “রাশিয়াকে পড়ো” পুরস্কার দেওয়া হতে চলেছে. এটি একটি বাত্সরিক পুরস্কার, যার চারটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে – আধুনিক সাহিত্য, আধুনিক কবিতা, রুশ গদ্য এবং পদ্য সাহিত্য উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে. অনুবাদক এবং প্রকাশনা, যারা এই ক্ষেত্রে বই প্রকাশ করেছেন, তাঁরা পাবেন আর্থিক পুরস্কার. আর পাঠকেরা কি পেতে চলেছেন? তাঁরা পাবেন সেরা রুশ সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয়ের কারণে সন্তোষ. রাশিয়াকে পড়ুন.