গণ প্রজাতন্ত্রী চিন ও ভারতবর্ষ চুক্তি করেছে যে, তারা আবার যৌথ ভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ করবে ও দুই দেশের সামুদ্রিক নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে. এই বিষয়ে দিল্লী শহরে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিয়াং গুয়াঙ্গলিয়ে ও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরাক্কাপারামবিল কুরিয়েন অ্যান্টনির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরে প্রকাশিত এক খবরে প্রকাশ করা হয়েছে. এটা বিগত আট বছরের মধ্যে প্রথমবার চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ভারত সফর. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

অ্যান্টনি এই আলোচনাকে বলেছেন খুবই ফলপ্রসূ বলে. চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিজের তরফ থেকে ঘোষণা করেছেন যে, দুই পক্ষই সহযোগিতার উপযুক্ত সহমতে পৌঁছেছে. এশিয়ার দুই বৃহত্ শক্তির মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়া – ভাল খবর, বলেই মনে করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“চিন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ ও সম্মিলিত ভাবে মহড়া এমন একটি বাস্তব বিষয়, যা দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট মাত্রায় সম্পর্ক ভাল হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়. অন্তত, রাজনৈতিক ও সামরিক উচ্চপদস্থ লোকরা দুই দেশেই বুঝতে পেরেছেন যে, সম্মুখ যুদ্ধে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় হতেই পারে. সাবধানে একে অপরের কাছে এলে, সম্মিলিত ভাবে মহড়া দিলে, চিন ও ভারতের পক্ষে সেই ধরনের সহযোগিতার মানে উপনীত করবে, যা অনেকটাই দুটি পারমানবিক শক্তি সম্পন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধের ঝুঁকিকে কমিয়ে দেবে”.

ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক বিগত দশ বছরের মধ্যে জটিল হয়েছিল এলাকা ও সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যার জন্যই. বিগত বছর গুলিতে চিন ও ভারতের সম্পর্ক খুবই ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল দিল্লী ও ওয়াশিংটনের মধ্যে খুবই দ্রুত উন্নতিশীল নৈকট্যের জন্যই. ভারতের সঙ্গে জোটকে আমেরিকার কূটনৈতিক মহল চিনের প্রভাব বৃদ্ধির একটা গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত ওজন বলেই ভাবতে শুরু করেছিল. বেজিং উত্তর হিসাবে পাকিস্তানের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার পথকেই বেছে নিয়েছিল. পাকিস্তানের গাধার বন্দরে চিনের সামরিক নৌবাহিনী ঘাঁটি গড়তে পারে, এই কানাঘুষো খবর ভারতের পক্ষ থেকে খুবই সিরিয়াস ভাবেই নেওয়া হয়েছিল.

কিন্তু জীবন ও বাস্তব স্বার্থ দুই দেশকেই সহযোগিতার পথে ঠেলে দিয়েছে. উত্তেজনার অতিরিক্ত বৃদ্ধি যেমন বেজিং, তেমনই দিল্লীর প্রয়োজন নেই. চিন চেষ্টা করছে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কম করতে, জাপানের সঙ্গে ও অন্যান্য দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে এলাকা সংক্রান্ত বিরোধ তুঙ্গে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে. ভারতের রাজনৈতিক উচ্চ মহলে বোধহয়, টের পাওয়া হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নৈকট্য খুব বেশী রকমের হয়ে গিয়েছে আর চিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করে চেষ্টা হচ্ছে এই ভারসাম্য হীণতা দূর করার. আর এটাও ঠিক যে, অর্থনৈতিক স্বার্থও বাধ্য করেছে উত্তেজনার প্রশমন করার জন্যই: দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমান দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে ও বর্তমানে সাত হাজার পাঁচশো কোটি ডলারের সমান অর্থমূল্য ছাড়িয়েছে.