শুরু করছি আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠাণ ‘রাশিয়া-ইন্দোস্তান’- ঘটনা, মানুষ ও স্মরণীয় তারিখ. স্টুডিওয় ভাষ্যকার ল্যুদমিলা পাতাকি ও কৌশিক দাস.

মহান চিন্তাবিদদের চিন্তাধারা কখনো পুরনো হয়ে যায় না. ‘ভারতীয় দর্শন’ নামক নিজের বইয়ে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান লিখেছিলেন প্রাচীন সব কল্পনা মাঝে মাঝে আধুনিক যুগেও আমাদের বিস্মিত করে. ১৯৫২ সালে তিনি মস্কোয় রাষ্ট্রদূতের ভূমিকায় কাজ করেছিলেন, আর ভারতের রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় ১৯৬৪ সালে আমাদের দেশ সফর করেছিলেন. কিন্তু রুশবাসীদের স্মৃতিতে তিনি দার্শনিক হিসাবেই অমর থাকবেন. তাঁর রচনা – ‘ভারতের দর্শন’ বহু বিদেশীকে ভারতের প্রাচীন সভ্যতার আধ্যাত্মিক সম্পদ উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে. ৫০ বছরেরও বেশি আগে ঐ বইটি রুশী ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছিল ও এখনো পাঠকদের বইটির প্রতি বিপুল আগ্রহ. ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের জন্ম হয়েছিল ১৮৮৮ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর.

ভারতের সাহিত্যিকদের সাথে লেভ তলস্তোয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও মহাত্মা গান্ধীর উপর তাঁর সুবিশাল আধ্যাত্মিক প্রভাব সুবিদিত. “হিংসাকে প্রতিরোধ করবেন না, কিন্তু নিজেরাও কখনো হিংসার পথ নেবেন না” – লেভ তলস্তোয়ের করা এই উক্তি ছিল গান্ধীজির জন্য আমরন মুলমন্ত্র. ১৯২৮ সালে তলস্তোয়ের ১০০-তম বার্ষিকী পূর্তি উপলক্ষ্যে যুবকসভায় ভাষণ দিয়ে গান্ধীজি বলেছিলেন – যে তলস্তোয় ছিল তার জমানায় সবচেয়ে ন্যায়পরায়ন ব্যাক্তিত্ব. “সারা জীবন ধরে তিনি সত্যের সন্ধান করেছেন. সত্যকে খুঁজে বের করতে ও জীবনে তাকে পরিবসিত করার জন্য ছিল তাঁর আমরন সংগ্রাম. তিনি জীবনে কখনো সত্যকে অস্বীকার করেননি বা বিকৃত করেননি. সেইজন্য তিনি শাসনক্ষমতার রোষকেও ভয় পাননি”. লেভ তলস্তোয়ের জন্ম হয়েছিল ১৮২৮ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর.

পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্রষ্টা মুহম্মদ আলি জিন্না বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে হিন্দু ও মুসলমানদের ঐক্যের স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করে গেছেন. এমনকি গোপালকৃষ্ণ গোখলে তাকে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের সেরা দূত বলে অভিহিত করেছিলেন. কিন্তু ১৯৪০ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি ঘোষণা করেন ২টি স্বাধীন রাষ্ট্র – ভারত ও পাকিস্তানের উদ্ভবের প্রয়োজন আছে বলে. জিন্না তার এই ঘোষণাকে বাস্তবায়িত করেছিলেন. তারপরেই ১৯৪৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর জিন্না পরলোকগমন করেন.

ভারতীয় উপমহাদেশে বুদ্ধধর্ম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ও ভারতীয় ধ্রুপদী দর্শনের পন্ডিত ফিওদর শেরবাতস্কিকে খুব ভালো করেই জানে. তাকে রুশী বুদ্ধধর্ম চর্চার প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ধরা হয়. ১৯১০ সালে শেরবাতস্কি প্রথমে বোম্বের শহরতলীতে, তারপরে বেনারসে, কোলকাতায় ও দার্জিলিংয়ে বসবাস করেছেন. সর্বত্র তিনি ভারতীয় পন্ডিতদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেছিলেন, যেখানে সম্ভব ছিল, পুরনো ভারতীয় পান্ডুলিপির কপি সংগ্রহ করেছিলেন. তিনি ছিলেন উদ্যোগীদের মধ্যে অন্যতম, যারা ১৯১৫ সালে সেন্ট-পিটার্সবার্গে বৌদ্ধ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিল. ওখানে হিন্দু মন্দির প্রতিষ্ঠা করবারও পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তারপরে বিপ্লব রাশিয়ায় ঐ প্রকল্প রূপায়ন করতে দেয়নি. ফিওদর শেরবাতস্কির রচনাবলী রাশিয়ায় ও ভারতবর্ষে বহুবার প্রকাশিত হয়েছে. তাঁর স্মৃতিসমাধিতে লেখা আছে অসাধারন বাক্য – “তিনি ভারতের প্রাচীন চিন্তাবিদদের মতাদর্শ রাশিয়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন”. ১১ই সেপ্টেম্বর ফিওদর শেরবাতস্কির ১৪৬-তম জন্মবার্ষিকী.