বিশ্বের কাছে বর্তমানের রাশিয়া সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, রুশ হৃদয়ের ঐতিহ্যময় আত্মিক ও বৌদ্ধিক শক্তির পরিচয় দেওয়া, সভ্যতার বিকাশে এই দেশের বিশাল অবদানকে জানতে দেওয়া – এটাই করা উচিত্. কি করে এই কাজ করা হবে, তাই নিয়ে মস্কো শহরে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের কার্যকরী পরিষদের প্রতিনিধিরা ও বিদেশে রুশ অনাবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনা করছেন.

বর্তমানের “রসসত্রুদনিচিয়েস্তভো” বা রুশ সহযোগিতা সংস্থা হল বিদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সারা সোভিয়েত দেশ ব্যাপী মৈত্রী সংস্থার উত্তরসুরী. ৮৫ বছর আগে এই সংস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, যাতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করা যায়, একে অপরকে বোঝা ও মেনে নেওয়া সম্ভব হয়, তার জন্য গায়ের রঙ, ভাষা বা ধর্মের বাধাকে অতিক্রম করা যায়. রাশিয়া জন্য জটিল গত শতকের সেই নব্বইয়ের দশকের পরে এখন এই সংস্থার সামনে এক কাজ উপস্থিত হয়েছে, যাতে রাশিয়ার মানবিক উপস্থিতি বিদেশে আবার পুনর্বহাল করা যায়, এই কথাই মস্কো শহরে বিশ্বের সত্তর টিরও বেশী দেশ থেকে আসা সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সামনে উল্লেখ করেছেন রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:

“আমাদের দেশের বিশ্বে অবস্থানকে দৃঢ় করতে, মানবিক মাধ্যমে আমাদের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিতে, এটা রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কর্মসূচী. আজ মানবিক পরিমাপ আন্তর্জাতিক জীবনের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে. রসসত্রুদনিচিয়েস্তভো যেন একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয় বা বলা যেতে পারে যে নরম জোর হয়. রাষ্ট্রের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে নিজেদের জাতীয়, সাংস্কৃতিক মূল্য বোধকে, ভাষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে. এই সমস্ত মাধ্যম অনেক সময়েই দেখা যায় যে, অনেক বেশী সংজ্ঞাবহ, অন্যান্য সব মাধ্যমের চেয়ে, আর তা এক বিশেষ অর্থও উপলব্ধি করতে দেয়. বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, সেই সব দেশই, যাদের শক্তিশালী রকমের তথাকথিত “নরম জোর” প্রদর্শনী করার মতো ব্র্যান্ড রয়েছে, তারাই অধিক পরিমানে দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ টেনে আনতে পারে, প্রযুক্তি আনতে পারে”.

বিদেশে দেশের ইমেজ সংক্রান্ত সমস্যা রাশিয়ার জন্য সম্পূর্ণ রকমেরই এক ব্যবহারিক মূল্য রাখে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী রাশিয়া এক খুবই উচ্চ মানের বিনিয়োগের ক্ষমতা সম্পন্ন দেশ, যা যতটা প্রয়োজন, ততটা আপাততঃ বাস্তবায়িত করতে পারে নি, এই কথাই বলেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. দেশের মন্ত্রীসভার প্রধানের উল্লেখ করা “নরম জোর” এই শব্দ- বন্ধ আজ থেকে কুড়ি বছর আগে উদয় হয়েছিল, যখন আমেরিকার এক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও রাজনীতিবিদ জোসেফ পাই প্রথম এই কথার ব্যবহার করেছিলেন. তিনি এটাকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন পছন্দসই হওয়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা রূপে, কোন কঠোর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, - সেটা সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে নয়. দেশের সঠিক প্রতিবিম্ব তৈরী সংক্রান্ত কাজের মধ্যে রাশিয়ার সামনে এখন রয়েছে পড়াশোনার পরিষেবার বাজারে প্রতিযোগিতার উপযুক্ত হওয়া. অংশতঃ, ২০২০ সালের মধ্যে কম করেও হলেও পাঁচটি রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মন্ত্রীসভার প্রধান লক্ষ্য রেখেছেন প্রথম একশটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারা. তখন রাশিয়াতে পড়াশোনা করা বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও বেশী করে আগ্রহের বিষয় হবে, এই কথা বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কথাকে সমর্থন করে বলেছেন:

“আমি প্রস্তাব করতাম যে, রসসত্রুদনিচিয়েস্তভো সংস্থাকে একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামো হিসাবে স্বীকৃতী দেওয়ার, যারা রাশিয়ার উচ্চ শিক্ষায়তন গুলিতে বিদেশী ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনার বিষয় স্থির করে দেবে. বিদেশে খুবই প্রসারিত প্রতিনিধিত্ব মূলক দপ্তর থাকার ফলে এই সংস্থা পারে এই ধরনের কাজ সার্থক ভাবেই করতে ও রাশিয়াতে শিক্ষা লাভের জন্য যথেষ্ট শিক্ষিত, উদ্যমী ও সম্ভাবনাময় ছাত্র ছাত্রীদের এদেশে আসার জন্য বাছাই করে পরামর্শ দিতেও পারে. আমরা প্রতি বছরে বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার জন্য দশ হাজার রাষ্ট্রীয় বৃত্তি দিয়ে থাকি, আমি প্রস্তাব করব এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০ হাজার করার ও তার মধ্যে বিশেষ করে আমাদের অনাবাসীদের জন্য বিশেষ করে ব্যবস্থা করে দেওয়ার আর তার মধ্যে যেন আমাদের বন্ধু দেশ গুলির থেকে শিক্ষার্থীরাও থাকে”.

এখানে উল্লেখ করা ঠিক হবে যে, এই সংস্থার প্রতিনিধি বর্গের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন “রেডিও রাশিয়ার” নেতৃত্বও. রেডিও কোম্পানীর কাজ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাজ বহু ক্ষেত্রেই একই ধরনের: রুশ বংশোদ্ভূত লোকদের বিদেশে ঐক্যবদ্ধ করা ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের কাছে রুশ দেশ সম্বন্ধে, দেশের জীবন সম্বন্ধে এবং বিশ্বের ঘটনাবলী সম্বন্ধে মস্কোর মন্তব্য পৌঁছে দেওয়া. আর সেই কারণেই রেডিও রাশিয়া ও রসসত্রুদনিচিয়েস্তভো সর্ব ক্ষণেরই সহকর্মী, সমস্ত রকমের বড় ইমেজ সংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে, যা দেশের ইতিবাচক ছবিকেই আরও মজবুত করে তোলে.