সোমবারে পাকিস্তানের আদালত খ্রীষ্টান মেয়ে রিমশা মাসিখকে আরও চার দিনের জন্য জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে. স্থানীয় ইমাম খালেদ জাদুন ধর্ম অবমাননার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল. পাকিস্তানের প্রশাসন তদন্তে রায় দিয়েছে যে, কিছুটা পুড়ে যাওয়া কোরানের পাতা স্থানীয় এই ইমাম নিজেই সেই সব পোড়া আবর্জনার সঙ্গে রেখেছিল, যা এই ১১ বছরের অপ্রকৃতিস্থ বাচ্চা মেয়েটি আগুনে পুড়িয়ে ছিল. সুতরাং, তার কোন দোষ নেই, তবুও আদালত তাকে জেলে রাখার মেয়াদ বাড়িয়েছে. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে বলেছেন গিওর্গি ভানেত্সভ.

বর্তমানের এই ঘটনা পাকিস্তানে এক অনতিপূর্ব সামাজিক প্রতিধ্বনির উদ্রেক করেছে. পাকিস্তানে শুরু হয়েছে এক গণ আন্দোলন. প্রতিবেশী যারা মাসিখের বাড়ীর কাছে থাকেন, তারা ঘরবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন, এই ভয়ে যে, এবারে মুসলমান লোকরা এসে তাদের উপরে অত্যাচার করবে. এই বিষয় একেবারে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি অবধি গড়িয়েছে, তিনি বাধ্য হয়েছেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে ও দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে দাবী করতে যে অবিলম্বে এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্ত করে রিপোর্ট করতে. সমাজে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির কাজ সমর্থন অর্জন করেছে, এই কথা উল্লেখ করে পাঞ্জাব রাজ্যের রাজ্যপালের পরামর্শদাতা ফারুক আরশাদ বলেছেন:

“এখন ভরসা করেই বলা যেতে পারে যে, পাকিস্তানের শতকরা ৯৫ ভাগ নাগরিক ধর্ম সহিষ্ণুতার পক্ষে ও তারা ভিন্ন মত সহ্য করার স্বপক্ষে. বর্তমানে দেশে যে আইন ব্যবস্থা রয়েছে, তা সমস্ত ধর্মের প্রতিনিধিদেরই সাম্যের গ্যারান্টি দেয়. এই ছোট মেয়েটির সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, তার ক্ষেত্রেও আইন ও ন্যায় সম্পূর্ণ ভাবেই দেখতে পাওয়া যাবে. আর তাকে অন্যায় ভাবে অভিযোগ করা মোল্লাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে”.

পাকিস্তান বহু প্রজাতি ও বহু ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশ. ধর্মীয় ঐক্যতান ও সহনশীলতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস রক্ষা করা – দেশের সরকারের একটি অন্যতম কাজ.

দুঃখের বিষয় হল যে, রিমশা মাসিখের ঘটনা মোটেও এই দেশের একমাত্র ঘটনা নয়. আজকের দিনে পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলে বেশ কিছু লোক ধর্ম অবমাননার দায়ে বন্দী হয়ে রয়েছেন. পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মীরা জোর গলায় বলেছেন যে, এই ধরনের বহু অভিযোগই কৃত্রিম. প্রশাসন সরকারি ভাবেই এদের পক্ষ নিয়ে তাদের মুক্ত করে দিতে পারেন, কিন্তু এই কাজ করার জন্য সাহস সমস্ত রকমের রাজনীতিবিদদের নেই. পাকিস্তানের লোকরা মনে করতেই পারেন, যে ভাবে গত বছরের ৩রা জানুয়ারী ইসলামাবাদের এক অভিজাত এলাকায় নিজেরই দেহরক্ষীর হাতে গুলিতে খুন হয়েছিলেন পাঞ্জাব রাজ্যের তত্কালীন রাজ্যপাল সলমন তাসির, যিনি এক খ্রীষ্টান মহিলাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, যার নামে কোরান পোড়ানোর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল.

যে কোন ধরনের প্রচেষ্টাই, যা ধর্মীয় বিরোধ এক জটিল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক অবস্থার মধ্যে সৃষ্টি করে, তা খুবই বিপজ্জনক. চরমপন্থী শক্তি গুলিকে তা সক্রিয় করে তোলে, সমাজে বিরোধের বৃদ্ধিই করে থাকে. ধর্মীয় চরমপন্থা যে কোন ধরনের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে শেষ করে দিয়ে দেশকে মাত্স্যন্যায়ের দিকে ঠেলে দিতে সক্ষম. নিকটপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশ গুলিতে বিগত সময়ের ঘটনাই এর জন্য প্রচুর উদাহরণ হতে পারে. কিন্তু বোধহয়, এটাই চরমপন্থীরা করার চেষ্টা করছে?