বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, রাশিয়ার উচিত্ হবে মহাকাশে সৌর চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা. এর ফলে বিশ্বের জ্বালানীর বাজারে এক নেতৃ স্থানীয় অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে. ২০১৬ সালেই এই ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রাথমিক গঠন দেশে দেখতে পাওয়া যেতে পারে, এই খবর “রেডিও রাশিয়াকে” দিয়েছেন কেন্দ্রীয় যন্ত্র নির্মাণের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মী ভিতালি মেলনিকভ.

প্রতি সেকেন্ডে একজন ইউরোপীয় নাগরিক ১০ কিলো ওয়াট বিদ্যুত শক্তি ব্যবহার করে থাকে. যদি গাড়ী তৈরী, জামা কাপড় তৈরী, যন্ত্র তৈরী, গৃহ নির্মাণ ও আরও সমস্ত কিছুই, যা আমরা ব্যবহার করে থাকি নিত্য প্রযোজনীয় রূপে, তার সব কিছু যোগ করলে খুব একটা কম জ্বালানী ব্যবহারের পরিমান হয় না. মানুষের নিত্য প্রয়োজন শুধুই বাড়ছে, আর বিদ্যুত শক্তি, যা এই কাজের জন্য দরকার, তা উত্পাদন করাও, প্রতি দিনের সঙ্গেই আরও কঠিন হচ্ছে, তাই প্রফেসর মেলনিকভ বলেছেন:

“একদিকে এই শক্তি উত্পাদনের উপযুক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ অন্তহীণ নয়, আর অন্য দিকে আমাদের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের উপরে এই উত্পাদনের প্রভাব মনই হচ্ছে, যে বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে. আপনারা বহু লক্ষ কোটি বছর ধরে সৃষ্ট প্রাকৃতিক খনিজ দ্রব্য জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, তাও খুবই কম সময়ের মধ্যে, আর সেই গুলি শেষ হয়ে আসছে, কিন্তু তাদের প্রভাব এমনই, যে আপনারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে ফেলছেন”.

এটা ও অন্যটাও এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে, যদি খুবই মনোযোগ দিয়ে নক্ষত্রের দিকে তাকানো যায়, আর সঠিক করে বললে, মহাকাশে সৌর শক্তি চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা যায়. কয়েক বছর পরেই এই ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার পরিকল্পনা নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. একই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার করে জাপান ২০২৫ সালের মধ্যে ঠিক করেছে বিশ্বে বর্তমানে যে খরচে বিদ্যুত শক্তি তৈরী হয়, তার চেয়ে ছয় ভাগ কম দামে এই শক্তি মহাকাশ থেকে পাওয়ার. যদি রাশিয়া এই বাজারে নিজেদের সম্বন্ধে জানান না দেয়, তবে বাইরেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে আর নিজেদের দেশের বাজেটে আয়ের থেকে বঞ্চিত হবে, বলে বিশ্বাস করেই বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

“তারা বিভিন্ন অঞ্চলকে প্রস্তাব করবে এখানকার চেয়ে ছয় ভাগ কম দামে বিদ্যুত শক্তি ক্রয়ের. সকলেই তা কিনতে শুরু করবে – খনিজ তেল ও গ্যাসের দাম কমে যেতে শুরু করবে. আমাদের দেশের বাজেটের শতকরা ১৮ ভাগ আসে খনিজ তেল ও গ্যাস থেকে, আমরা সেই আয় আর করতে পারবো না”.

রাশিয়া এই ধরনের আহ্বানের জন্য তৈরীই রয়েছে বলে বিজ্ঞানী মনে করেছেন. আমাদের দেশে বিশাল মহাকাশ বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা রয়েছে, বৈজ্ঞানিক কর্মীও অনেক এবং আমরা খুবই কম সময়ের মধ্যে একটি বৈপ্লবিক প্রকল্প উদ্ভাবন করতে পারি. এই কাজ করতে হলে আমাদের লেসার প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যাতে আমাদের দেশ ঐতিহ্যবাহী ভাবেই শক্তিশালী, তাই বিজ্ঞানী আরও বলেছেন:

“আমরা যথেষ্ট বেশী পরিমানে সবচেয়ে আধুনিক লেসার এলিমেন্ট তৈরী কতে পেরেছি, আর মহাকাশ প্রযুক্তিতে আমাদের সম্ভাবনা একেবারেই অন্তহীণ. এই ধরনের একটি বিদ্যুত প্রকল্প তৈরী করতে আমাদের প্রয়োজন শুধু ১ হাজার কোটি রুবল (প্রায় ৩০ কোটি ডলারের সমান) অর্থ. এটা বিশ্বের যত এই বিষয়ের জন্য অর্থ পরিকল্পিত রয়েছে, তার তুলনায় অতি সামান্য, যেন খুচরো পয়সা, জাপান যেমন স্থির করেছে এই কাজের জন্য ২ হাজার চারশো কোটি ডলারের সমান অর্থ ব্যয় করবে. এটা হবে একটা মডেলের মতো, যা দেখিয়ে দেবে যে, এই ধরনের বিদ্যুত কেন্দ্রের সম্ভাবনা, তার অসুবিধা ইত্যাদি সবই, যখন এই ধরনের কেন্দ্র আমরা ভবিষ্যতে তৈরী করব, তখন যে বিষয় গুলির সম্মুখীণ হতে হবে, তার”.

এই প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য তৈরী করতে হবে এক মহাকাশ বিমান সংক্রান্ত শিল্প ক্ষেত্র – যা তৈরী হবে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষায়তন গুলির সমন্বয়ে, রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের ও আরও অনেক বৈদ্যুতিন এবং মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রযুক্তি উত্পাদনের কোম্পানীর সঙ্গেও. সৌর শক্তির সম্ভাবনার, বিজ্ঞানীর মতে বিশাল ভবিষ্যত রয়েছে. তা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদকে সংরক্ষণ করতে দেবে, আর পারমানবিক শক্তি প্রকল্পের তুলনায় এর জন্য জটিল ধরনের পরিকাঠামোর প্রয়োজন হবে না আর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থারও দরকার পড়বে না.