সংস্কৃতির মধ্যে আলোচনার থেকে আলোচনার সংস্কৃতিতে পৌঁছনো! এই রকমেরই এক স্লোগান সামনে রাখা হয়েছে আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের তাতারস্থান রাজ্যের রাজধানী কাজান শহরে উদ্বোধন হতে যাওয়া মুসলিম চলচ্চিত্র উত্সবের.

এই শহরের ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশী পুরনো. এক রুশ চিন্তাবিদ এই শহরকে নাম দিয়েছেন ইউরোপীয় ধারণার এশিয়াতে যাওয়ার পথে ও এশিয়ার চরিত্রের শক্তি ইউরোপে আসার পথে এক যাত্রাপথের সরাইখানা বলে.

এই দিয়েই, এক টিকে যাওয়া ধারণায় কাজান চলচ্চিত্র উত্সবের বিশেষত্বকে নির্দিষ্ট করা যেতে পারে, যা এবারে হতে চলেছে এর মধ্যেই অষ্টমবার, তাই তাতার সিনেমা কোম্পানীর প্রধান ও এই উত্সবের আয়োজক পরিষদের এক সদস্য ভ্লাদিমির বাত্রাকভ বলেছেন:

“এই উত্সবের সৌন্দর্য হল যে, এর নিজেরই একটা বর্ণময় রূপ রয়েছে: এখানে ইউরোপ ও এশিয়া একসাথে হয়েছে, - কারণ এটা ইতিমধ্যেই অষ্টম উত্সব, তাই বলা যেতে পারে যে, এটা প্রতি বছরের সঙ্গেই আরও পরিণত হচ্ছে – এখনই নিজের দর্শক জড়ো করতে পেরেছে, এক দল লোক রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের কাজ আমাদের কাছেই এনে দেখাতে চান, এই কাজান শহরেই. যদি উত্সবের প্রথম দিকের বছর গুলিতে আমরা সিনেমার লোকদের কাছে তাদের কাজ এখানে পাঠানোর জন্য আবেদন নিবেদন করতাম, তবে এখন আমরা আগেই নানা ধরনের প্রস্তাবের নীচে চাপা পড়ে যাই, বাছাই করার পর্ষদের কাছে বিশাল সংখ্যায় সিনেমা এসে জমা পড়ে. আর আমরা চেষ্টা করি এর মধ্যে সবচেয়ে ভাল গুলিকেই বাছাই করে নিতে”.

এই বছরে বাছাই করার পর্ষদের কাছে বিশ্বের ৫৫টি দেশ থেকে প্রায় ৩০০টি ছবি পাঠানো হয়েছিল. তার মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া হয়েছে ২০টি দেশের ৪০টি সিনেমা. তার মধ্যে রয়েছে – রাশিয়া, বাহরিন, টিউনিশিয়া, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, ইরান.

এই বছরে প্রথমবার তাতারস্থানের মুসলমান ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের সিনেমা বাছাইয়ের কাজে যোগ দেওয়ানো হয়েছিল, তাতারস্থান রাজ্যের উলেমা সভার সভাপতি রুস্তাম বাদরভ আমাদের সংবাদদাতাকে এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমরা সমস্ত সিনেমাই দেখেছি, যা এবারে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পাঠানো হয়েছিল, আর তার মধ্যে থেকে শুধু সেই গুলিকেই বাছাই করেছি, যা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম চলচ্চিত্র উত্সবের ধারণার সঙ্গে মেলে. আমরা সেই ধারণা থেকেই উপনীত হয়েছি যে, উত্সব এটা একটা ধর্ম নিরপেক্ষ ঘটনা, কিন্তু সিনেমা, যা শুধু ধর্মীয় নয়, তা যেন ঐস্লামিক মূল্যবোধকেই প্রতিফলিত করে, মুসলমান সংস্কৃতির উন্নতিকে দেখায়. আমি এটাকে বরং বলতে চাইব সপরিবারে দেখার মতো সব সিনেমা, আর তাতে রয়েছে মুসলমান আঙ্গিক”.

রাশিয়া ও তাতারস্থানের সিনেমা এই বছরের উত্সবের সমস্ত রকমের প্রতিযোগিতার মধ্যেই রয়েছে – তা যেমন কার্টুন ফিল্ম, তেমনই ফিচার ফিল্ম ও তথ্য চিত্রের বিভাগে, তাই রুস্তাম বাদরভ বলেছেন:

“আমাদের স্রষ্টারা চেষ্টা করেছেন রাশিয়ার বাস্তবতাকে নিয়ে ভেবে দেখার. অনেক সিনেমা, যা রাশিয়ার ইতিহাসের স্মরণীয় ঘটনার উদ্দেশ্য তৈরী করা হয়েছে. আমি মনে করি যে, এটা আমাদের চলচ্চিত্র উত্সবের প্রয়োজন রয়েছে, ফিচার ফিল্মের মধ্যে আমার যেটা ভাল লেগেছে তা হল তাতারস্থানের চিত্র পরিচালকের ছবি “কুকুর”. এক ব্যক্তি যে, নিজের আত্মার মূল্যবোধ হারিয়েছে, সে একটা জন্তুতে পরিণত হয়েছে – এই ছবির এটাই মূল বিষয়”.

কে এই অষ্টম মুসলিম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের বিজয়ী হবেন এটা ১১ই সেপ্টেম্বরে জানা যাবে. সামনে রয়েছে – এক সপ্তাহ ধরে ছবি দেখা, তাই ভ্লাদিমির বাত্রাকভ বলেছেন:

“ঐতিহ্য মেনেই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী চিত্র পরিচালকরা আসেন ইরান ও তুরস্ক থেকেই, কিন্তু এই বছরে রয়েছে ভারত ও কাজাখস্থান থেকে আসা শক্তিশালী সব ছবি. খুবই বড় অনুষ্ঠান এখানে দেখাবে কিরগিজিয়া. ভাল সিনেমা বিভিন্ন দেশে বেশী করেই হচ্ছে. আর এটা এই উত্সবের অপরিবর্তিত ধারণার সঙ্গেও মিলেছে – পর্দায় কোন রকমের হিংসা নয়. শুধু ভাল কাজ, ন্যায়, পর ধর্ম সহনশীলতা – অর্থাত্ শুধু উঁচু আর বনেদী ধারণা.”

এই গুলি ছাড়া কোন রকমের আলোচনাই সম্ভব নয়, তার মধ্যে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে করা আলোচনাও রয়েছে.