আমেরিকা আক্রমণাত্মক সাইবারনেটিক অস্ত্র ছাড়তে শুরু করেছে. মার্কিনী সামরিক কর্মীরা ক্ষতিকর কম্পিউটার নেট-ওয়ার্ক ধ্বংস করতে সক্ষম, এরকম প্রোগ্র্যাম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর পেন্টাগন স্ট্র্যাটেজিক কেন্দ্রগুলির মানচিত্র সারাক্ষণ অনুধাবন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. ওয়াশিংটন যদিও এতকাল ভারচ্যুয়াল আক্রমণের কোনোরকম পরিকল্পনা অস্বীকার করছিল, কিন্তু এবার তারা ভাবী সাইবারনেটিক আক্রমণে নেমেছে.

মার্কিনী রাষ্ট্রীয় ক্রয়ের জন্য সরকারী সাইটে দু-দুটো টেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে. প্রথমটায় জানানো হয়েছে, যে সামরিক বাহিনী এমন প্রোগ্র্যাম কিনতে চায়, যা প্রতিপক্ষের কম্পিউটার নেট-ওয়ার্ক অ্যাডমিশন শুদ্ধ নস্যাত করে দিতে পারবে. সেখানে ভাইরাস ও সার্ভার ভেঙে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে. দ্বিতীয় টেন্ডারটি ঘোষণা করেছে পেন্টাগনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা দপ্তর, যে এই খাতে ১১ কোটি ডলার ব্যয় করতে প্রস্তুত, ঐ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্ল্যান-এক্স’. প্রতিপক্ষের সব সামরিক কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক মানচিত্র সেখানে সারাক্ষণ যেন দেখা যায়. এই প্রসঙ্গে ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বিশেষজ্ঞ ইয়েভগেনি ইউশুক বলছেন

অবশ্যই যখন অস্ত্র ও তাদের পরিচালনা কম্পিউটার নির্দ্ধারন করে, তখন তাদের ধ্বংস করে দেওয়াই লক্ষ্য. রাডারগুলোকে অন্ধ করে দেওয়া, পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোতে সেন্ট্রিফিউজগুলোকে অচল করে দেওয়া. আগে যার জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠাতে হতো, অতঃপর দূর থেকে কম্পিউটার প্রোগ্র্যামের মাধ্যমেই এই কাজ করা যাবে.

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সাইবারনেটিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে. মে মাসে ইরানের ওপর নিখুঁত আক্রমণ করা হয়েছিল. তেহরান আবিস্কার করেছে, যে সরকারী দলিলপত্র হাওয়া হয়ে যাচ্ছে. প্রোগ্র্যামারদের উত্কন্ঠিত করে তুলেছে ‘ফ্লেম’ নামক গুপ্তচর-ভাইরাস. রাশিয়ার ভাইরাসবিরোধী ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা একে সবচেয়ে উত্কর্ষজনক সাইবারনেটিক অস্ত্র বলে অভিহিত করছেন. ভাইরাস কম্পিউটারে ঢোকে, সব ইনফরমেশনের কপি করে, তারপরে নিয়ন্ত্রক সার্ভারে সেই সবকিছু পাঠিয়ে দিতে পারে. মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ দিয়েও এরকম আক্রমণ করা যেতে পারে. রাশিয়ায় সাইবারনেটিক্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মাসালোভিচ বলছেন, যে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক কেন্দ্রগুলোও তোপের মুখে পরবে.

আক্রমণ চলছে নিয়মিত পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলিতে, অস্ত্রের মজুতভান্ডারে. ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় নেট-ওয়ার্কগুলোর ওপর হামলা করারও চেষ্টা করা হচ্ছে. আমরা এসব স্বচক্ষে দেখেছি ও স্ক্রীনশটে সেসব দেখাতে পারি.

এর পেছনে হ্যাকাররা নাকি শিক্ষিত সাইবারনেটিক যোদ্ধারা – সেটা বিশেষজ্ঞদের যাচাই করতে হবে. তবে রাশিয়া এ ব্যাপারে উত্কন্ঠিত ও জাতিসংঘের মাধ্যমে ভারচ্যুয়াল অস্ত্রের প্রয়োগ নিষেধ করতে চায়. এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক. স্থানীয় লড়াই থেকে শুরু করে এমনকি বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত.