তথাকথিত স্বাধীন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর যোদ্ধারা ঘোষণা করেছে যে, তারা ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে দামাস্কাস ও আলেপ্পো বিমান বন্দরে উড়ে আসা অসামরিক বিমান গুলিকে ধ্বংস করতে শুরু করবে. নিজেদের সিদ্ধান্ত, তারা এই ভাবে ব্যাখ্যা করছে যে, দামাস্কাস নাকি অসামরিক বিমান গুলিকে ব্যবহার করছে দেশ সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র আমদানীর জন্য. লন্ডনে “আশ-শার্ক অল-ঔসাত” সংবাদপত্র এই মর্মে খবর প্রকাশ করেছে. এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ, তিনি বলেছেন:

“সিরিয়ার বিরোধীদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও তার মধ্যে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেই গুলি লিবিয়া থেকে রপ্তানী হয়েছে, আনা হয়েছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি থেকে, তুরস্ক থেকেও. প্রসঙ্গতঃ, আঙ্কারা কোন গোপন করা চেষ্টা করে নি যে, তাদের দেশের এলাকা থেকেই সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধীদের বাহিনীর সাহায্য করার কেন্দ্র রয়েছে.

সেই সব শক্তির পক্ষে, যারা হুমকি দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কৌশল ব্যবহারের, তুরস্ক, যারা একাধিকবার নিজেরাই সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে, কেন মদত দিচ্ছে? খুব সম্ভবতঃ, এটা – খুবই গুরুতর কূটনৈতিক ভুল হিসাবের ফল. সিরিয়া সঙ্কটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গিয়ে, আঙ্কারা ধরে নিয়েছিল যে, ওবামা প্রশাসন ইউরোপীয় সঙ্ঘের বিপরীতে ভার প্রয়োগ করে ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে খুবই জোর দিয়ে অবস্থান মজবুত করবে. লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশনের ক্ষেত্রে এমনিই ওয়াশিংটন খুব একটা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে নি. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাততঃ এই সঙ্কটে “অন্যের হাত” দিয়েই কাজ করতে চাইছে”.

অন্য দিক থেকে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার সঙ্কট, যা ইউরোপের অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছে, তা প্যারিস ও ব্রাসেলস শহরকে সিরিয়ার সম্পর্কে আরও বেশী সক্রিয় অবস্থান নিতে অসুবিধা করেছে, তার বদলে বিরোধী পক্ষের শক্তির কাজে বাছাই করে পথ নিতে বাধ্য করেছে. এটা – আঙ্কারার দ্বিতীয় হিসাবে ভুল. ফলে তুরস্কের এলাকায় সেই ধরনের সিরিয়ার চরমপন্থীরা জুটেছে, যাদের লক্ষ্য ও কাজ সেই সমস্ত বিরোধীদের চেয়ে অনেকখানিই আলাদা, যারা ইউরোপের দিকে লক্ষ্য স্থির করেছে, তাদের চেয়ে.

“দ্য হাফিংটন পোস্ট” সংবাদপত্রে, ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় দপ্তর যাদের সেই “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ব্যবসায়িক কর্মীরা” নামের সংস্থার প্রধান স্ট্যানলি ওয়াইস যেমন লিখেছেন যে, ধর্ম নিরপেক্ষ তুরস্ক, ধর্ম নিরপেক্ষ দামাস্কাসকে সমর্থন করার জায়গায়, শুধু তাদের সঙ্গে লড়াই করতেই নামে নি, বরং একই সঙ্গে একমাত্র দেশ হয়েছে, যারা মেনে নিয়েছে যে, তাদের দেশের এলাকা সিরিয়ার সেই বিরোধী পক্ষের জন্য ঘাঁটি হবে, যারা এবারে হুমকি দিচ্ছে যে, অসামরিক বিমান ধ্বংস করবে.

আর শুধু এটাই নয়. তুরস্ক একটা অস্থিতিশীলতার অগ্নিকুণ্ড পেয়েছে নিজেদেরই সীমান্তে গায়ে, আর এর মধ্যেই নিজেদের এলাকাতেই সন্ত্রাসবাদের সক্রিয়তার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে. তুরস্কের সংবাদপত্রের প্রথম পাতাগুলি সেই সমস্ত সচিত্র বিবরণে ভর্তি যে, তুরস্কের পুলিশ বাহিনী, এখন গ্রেপ্তার করছে, সেই সমস্ত লোকদের, যাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী দলের নেটওয়ার্ক “আল- কায়দার” যোগাযোগের সম্ভাবনা রয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, তারা চাঁদ থেকে তুরস্কে এসে নামে নি. সুতরাং ইরানের সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রধানের সেই কথাই মিলে যাচ্ছে যে, সিরিয়ার পরে এই হিংসার ঢেউ তুরস্কেও উঠতে পারে. প্রসঙ্গতঃ, ইজরায়েলের গুপ্তচর বিভাগের পূর্বাভাসও মিলে যাচ্ছে যে, নিকট প্রাচ্যে মাথা উঁচু করতে পারা চরমপন্থী শক্তি গুলি ধর্ম নিরপেক্ষ প্রশাসন গুলিকেই আক্রমণ করবে, যা এখন অবধি তুরস্ক ও সিরিয়া প্রশাসন ছিল. আর এটা দামাস্কাস বা আলেপ্পো শহরের বিমান বন্দরে নামতে যাওয়া অসামরিক বিমান ধ্বংস হওয়ার চাইতে মনে হয়, এমনকি বেশী করেই সম্ভব.