ইন্টারনেট উদ্ভব হওয়ার সঙ্গেই একটা বোধ হয়েছিল যে, চিঠি আর গ্রিটিংস কার্ড এবারে পড়ে রইল ইতিহাসের পাতাতেই. কিন্তু চিঠি পত্রের ধারা শেষ অবধি বিজয়ী হতে পরেছে. ঠিক সাত বছর আগে পর্তুগালের এক কম্পিউটার প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ পাওলো মাগাল্যায়েশ postcrossing.com নামে একটা সাইট বানিয়ে ছিলেন, সেই সব লোকদের কথাই মাথায় রেখে, যাঁরা ঐতিহ্যগত ভাবেই হাতে লিখে কাগজের চিঠি পাঠাতে ও পেতে ভালবাসেন.

হঠাত্ করে বের হওয়া সব আচমকা ঠিকানায় সারা বিশ্ব জুড়েই চিঠি আর গ্রিটিংস কার্ডের বিনিময় “আপনার লেটার বক্সে সারপ্রাইজ” নামে আজ এই সাত বছর ধরেই চলছে. বিশ্বের যে কোনও কোনা থেকেই বিরল সব গ্রিটিংস কার্ড পাওয়া যেতে পারে এখন, যথেষ্ট হবে শুধু নিজের থেকেই একটা পাঠালে. আজ এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ২০৮টি দেশের বহু লক্ষ লোক. এই আধুনিক হবি খুবই জনপ্রিয় হয়েছে রাশিয়ার জনগনের মধ্যেও, যেমন সাইবেরিয়াতে.

স্ভেতলানা ভ্লাদিমিরোভা সাইবেরিয়ার তোমস্ক শহরে থাকেন. তিনি পোস্টক্রসিং সাইটে যোগ দিয়েছেন আজ প্রায় তিন বছর হয়েছে. তাঁর সংগ্রহে ইতিমধ্যেই সারা দুনিয়া থেকে আসা প্রায় দু হাজারেরও বেশী গ্রিটিংস কার্ড রয়েছে. আন্তর্জাতিক বিনিময়ের প্রকল্পে তিনি এই প্রকল্পের সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের ঐক্যবদ্ধ বৈদ্যুতিন ঠিকানা সংগ্রহশালার মাধ্যমেই যোগ দিয়েছেন. ইন্টারনেট সোর্স পোস্টক্রসিং সাইটের গ্রাহককে বিশ্বের যে কোন দেশেরই অজানা ঠিকানা বাতলে দেয়. সাইটের গ্রাহক সেই ঠিকানায় নিজের শুভেচ্ছা সহ সাধারন গ্রিটিংস কার্ডই পাঠিয়ে দেন, আর তার উত্তরে বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে পান চিঠি, এই কথাই উল্লেখ করে স্ভেতলানা ভ্লাদিমিরোভা বলেছেন:

“গুয়াতেমালা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এখন আর বিরল দেশের ঠিকানার মধ্যে পড়ে না. আমরা এই সব দেশ থেকেই বহু গ্রিটিংস কার্ড রয়েছে”.

এক জনের জন্য পোস্টক্রসিং – এটা অসাধারণ গ্রিটিংস কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদের জন্য – ইতিবাচক মনোভাবের উত্স, তৃতীয় দলের জন্য – এই প্রকল্পের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা ও পরিচিত হওয়ার সুযোগ, তোমস্ক শহরের পোস্টক্রসিং ক্লাবের আয়োজক অক্সানা কার্তাভায়া এই প্রসঙ্গে বলেছেন

পোস্টক্রসিং যারা করেন, তাদের প্রাথমিক আগ্রহ থাকে গ্রিটিংস কার্ড সেই ধরনের পাওয়া, যা, যেখান থেকে পাঠানো হয়েছে সেই দেশের রঙের বিন্যাস, জীবন যাপন ইত্যাদি সম্বন্ধে জানতে দেয়. প্রায়ই যখন এখান থেকে পাঠানো হয় ও লেখা হয় যে, আমি সাইবেরিয়া থেকে, তার উত্তরে চিঠি পাওয়া যায়, যেখানে লেখা থাকে: “কি মজার ব্যাপার! এটা আমার প্রথম সাইবেরিয়া থেকে পাওয়া চিঠি. তোমাদের ওখানে সত্যি এত বরফ পড়ে থাকে?!”

অক্সানা আরও বলেছেন যে, প্রত্যেকটি চিঠিই নিজের মতো করে ইন্টারেস্টিং. পোস্ট কার্ড গুলিও বিরল রকমের ভাবে তৈরী করা, তাতে লেখাও তাকে. সেখানে দেখতে পাওয়া যায় দূরের দেশের নিসর্গ চিত্র ও দ্রষ্টব্য স্থান, বিশিষ্ট ধরনের পশু ও পাখী, নানা রকমের রূপকথা ও কার্টুনের চরিত্র, খাবার ও আরও অনেক বিষয় নিয়ে নানা রকমের বর্ণনা ও ছবি.

৫০ হাজার কোটি কিলোমিটারেরও বেশী – এতটাই সব মিলিয়ে দূরত্ব, যা এই সাত বছর ধরে সমস্ত ডাক যোগে পত্র প্রেরক লোকরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে একে অপরকে চিঠি পাঠিয়েছেন. এই সংখ্যা ৩৩০ গুণ পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের চেয়ে বেশী. সুতরাং আজ পোস্টক্রসিং প্রকল্প বিশ্বের সবচেয়ে “লম্বা দূরত্বের” হবি বলে বিখ্যাত হওয়ার দাবী করতেই পারে.