আজ রাশিয়াতে – সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ঐক্য দিবস. আট বছর আগে এই দিনে উত্তর অসেতিয়া রাজ্যের বেসলান শহরে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে আটকে পড়া স্কুল পড়ুয়ারা, তাদের অভিভাবকরা ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের মুক্ত করা হয়েছিল. তিন দিন ধরে সেই বদমাস লোকরা ১ হাজার ২শো জনকে আটকে রেখেছিল বেসলান শহরের এক স্কুলের খেলাধূলা করার হল ঘরে, বিস্ফোরক দিয়ে গণ্ডী করে, আর কোন রকমের জল বা খাবার ছাড়া.

এই স্কুলে সন্ত্রাসবাদী হামলার ফলে মারা গিয়েছিলেন ৩৩৪ জন, তাদের মধ্যে ছিল ১৮৬ জন শিশু. আরও কিছু মানুষ পরবর্তী সময়ে এই সন্ত্রাসবাদী হামলার সময়ে পাওয়া আঘাতের কারণে নিহত হয়েছিলেন.

এই সন্ত্রাসবাদী হামলার আট বছর পূর্তি দিবসে বেসলান শহরের এই স্কুলের খেলার হলে দেওয়ালের সামনে প্রার্থনা সভা করা হয়েছে. সেই ঘটনা উপলক্ষে মস্কো শহরেও আজ শোক মিছিল হয়েছে. আজ বেলা বারোটার সময়ে মস্কোর বাসিন্দারা শহরের বারোটি জায়গায় এসে জমা হয়েছিলেন, যেখানে বিভিন্ন বছরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হয়েছিল. তাঁরা সেই সব মানুষের স্মৃতি তর্পণ করেছেন, যাঁরা এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত হয়েছেন.

রাশিয়ার অন্যান্য শহরেও আজ সন্ত্রাসবাদীদের হাতে মৃতদের স্মৃতিতে শোক পালন করা হচ্ছে. ৩রা সেপ্টেম্বর এক ঐক্য দিবস হয়েছে, সকলের সামনে উপস্থিত সন্ত্রাসবাদী বিপদের মোকাবিলায় ঐক্য, এই ঘোষণা “রেডিও রাশিয়াকে” করে রাশিয়ার লোকসভার নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইরিনা ইয়ারোভায়া বলেছেন:

“সন্ত্রাসবাদীদের লক্ষ্য – ভয় ছড়ানো, মানুষের মনে আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটানো. নতুন সব বিরোধের জন্ম দেওয়া. অস্থিতিশীলতা, একে অপরের প্রতি অবিশ্বাসের জন্ম দেওয়া. আর অবশ্যই, এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল সমাজে ঐক্য আর মনোবলের. একমাত্র ঐক্য ও মানসিক শক্তিই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিষমুক্ত করার মতো জিনিস. সরকার যে সমস্ত শক্তি প্রয়োগের পদ্ধতি সন্ত্রাসের দমনে ব্যবহার করছে, তা সমাজের ঐক্যের উপরেই ভিত্তি করে হওয়া দরকার, আমাদের সকলের সঙ্ঘবদ্ধ মোকাবিলা যে কোন রকমের আগ্রাসন ও হিংসার বিরুদ্ধে থাকার দরকার রয়েছে”.

রাশিয়াতে শেষ বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল ২০১১ সালের ২৪শে জানুয়ারী মস্কোর “দোমোদিয়েদোভা” বিমান বন্দরের আগমন ভবনে. এক সন্ত্রাসবাদী আত্মঘাতী বিমান বন্দরে সাক্ষাত্ করতে আসা জনতার ভীড়ে মিশে একটি বোমা বিস্ফোরণ করে, তাতে প্রচুর আঘাতের উপযুক্ত ধাতব খণ্ড ছিল. বিস্ফোরণে ৩৭ জন নিহত হয়েছিলেন, ১২০ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল.

রাশিয়ার শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী খুবই সক্রিয়ভাবে সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য কাজ করছে. আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাফল্য নির্ভর করছে অনেকটাই বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগের মাধ্যমে এক সাথে কাজের উপরে. বর্তমানে বৃহত্ রাষ্ট্র গুলির মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা খুব ভাল করেই তৈরী হয়ে গিয়েছে, সম্মিলিত ভাবে সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের প্রশিক্ষণ করা হচ্ছে. তারই মধ্যে রাজনৈতিক ভাবে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নিয়ে মতবিরোধ থাকায় আন্তর্জাতিক আইনে এই সম্বন্ধে বহু ফাঁকা জায়গা রয়ে গিয়েছে. আর এর ফলে সন্ত্রাসবাদের নতুন সব হুমকির সঙ্গে যথেষ্ট ভাবে প্রতিক্রিয়া করা যাচ্ছে না. অংশতঃ, বেশ কিছু ইউরোপের ও নিকট প্রাচ্যের দেশেই সন্ত্রাসবাদী ও ওয়াহাবি মতবাদের লোকরা নিজেদের লুকিয়ে থাকার জায়গা করে নিতে পেরেছে, যাদের রাশিয়ার আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়েছে. আর আপাততঃ যতদিন সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় দুই ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, ততদিন কোন ভরসা নেই যে, বেসলান শহরের ট্র্যাজেডি আবার করে বিশ্বের অন্য কোন বিন্দুতে হবে না.