পাকিস্তানের পদাতিক বাহিনীর সদর দপ্তরের প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানি এই প্রথমবার সরকারি সফরে মস্কো আসছেন. সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সফর হতে চলেছে. এই বিষয়ে জানিয়েছে পাকিস্তানের “এক্সপ্রেস ট্রিবিউন” সংবাদপত্র. মস্কো শহরে আশফাক কিয়ানির আশা রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ও দেশের অন্যান্য সামরিক বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে দেখা করার. সংবাদপত্র যে রকম উল্লেখ করেছে, তাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়েই আলোচনা হবে, তার মধ্যে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সহযোগিতার কথাও থাকবে.

বর্তমানে পাকিস্তান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই সহকর্মী দেশ হিসাবে নেই, যা তারা বিগত কয়েক দশক ধরেই ছিল. বোঝাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সহযোগিতার বাস্তব দিকটিকে মলিন করেছে, তার মধ্যে সামরিক দিকও রয়েছে. অংশতঃ, বর্তমানে পাকিস্তানের নেতৃত্ব সেই ধরনের রাজনীতিই করছে, যা আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজকর্মের সমর্থন গুটিয়ে নিচ্ছে, আর বেশী করেই তারা প্রতিবেশী দেশ গুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করেছে. মস্কোতে আশফাক কায়ানির সফর সম্বন্ধে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ মনে করেছেন বিশেষ “সংজ্ঞাবহ” বলেই ও তিনি তাই বলেছেন:

“বিগত সময়ে পাকিস্তান মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার দিকে নজর দিয়েছে. এটা ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক বেশ গুরুতর ভাবেই ঠাণ্ডা হওয়ার পাশাপাশি শুরু হয়েছে. এর কারণও অনেকটা জানা রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা বহু দিন ধরেই পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ লোকজনের অভিভাবকত্ব করেছে, তারা কোন রকমের আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করেই একাধিকবার পাকিস্তানের দেশের ভিতরেই নানা রকমের ঘটনা ঘটিয়েছে, শক্তি প্রয়োগ করে নিজেদের সামরিক অপারেশন করেছে. ফলে পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় জনগন নিহত হয়েছেন ও সামরিক বাহিনীর লোকরাও মারা পড়েছে. এই ধরনের কাজকর্ম, অবশ্যই, দেশের মানুষের পক্ষ থেকে বিরোধের ও প্রতিবাদের কারণ হয়েছে, আর সরকার এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পারে নি. আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের জন্য রসদ সরবরাহের ট্রানজিট আবার এই সম্পর্ক খারাপ হওয়ার বিষয়ে নিজের ভূমিকা পালন করেছে. পাকিস্তানের সরকার একাধিকবার এই ট্রানজিট বন্ধ করে দিয়েছে, আর তা অবশ্যই ওয়াশিংটনের পক্ষে ভাল লাগে নি. বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জটিল হয়েছে. একই সময়ে রয়েছে বাস্তব ও সুবিধাজনক পরিস্থিতি, যা পাকিস্তানকে প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার সুযোগ করে দিয়েছে”.

প্যারাডক্স হলেও, পাকিস্তানের আজ রাশিয়ার সঙ্গে নৈকট্যের অনেক বেশী জায়গা তৈরী হয়েছে, আমেরিকার লোকদের চেয়ে বেশী করে, এই রকমই মনে করা হয়েছে কূটনৈতিক উত্স গুলিতে. রাশিয়া ও পাকিস্তান সেই শক্তি প্রয়োগকেই সমর্থন করে, যা আফগানিস্তানের জাতীয় শান্তি প্রয়াসে তাদেরই দেশের লোকদের সম্মিলিত ভাবে করার কথা হয়েছে. রাশিয়া ও পাকিস্তান খুবই সিরিয়াস ভাবে এই এলাকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ প্রসারের হুমকির প্রতি মনোযোগ দিয়েছে. দুই দেশই আগ্রহ প্রকাশ করেছে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ভাবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে, এলাকায় ব্যবসা সংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে. অংশতঃ, উভয় পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে সেই সমস্ত জ্বালানী শক্তি প্রকল্প গুলি সম্পর্কে, যেমন তাজিকিস্থান থেকে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে যাওয়া বিদ্যুত শক্তি পরিবহন প্রকল্প “CASA – 1000” ও তুর্কমেনিস্থান – আফগানিস্তান – পাকিস্তান – ভারত গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী করা নিয়ে. পাকিস্তান এই সব প্রকল্পে রাশিয়ার অংশ গ্রহণকে সমর্থন করেছে ও বিশেষ করে উল্লেখ করেছে এই গুলির যথাসম্ভব দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতি নিজেদের আগ্রহ. নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়াও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাজকর্মে পাকিস্তানের অংশ গ্রহণকে সমর্থন করেছে. দুই দেশই উল্লেখ করেছে চার পক্ষের কাঠামোয় (আফগানিস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও তাজিকিস্থান) আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ও সহযোগিতার বিষয়ে. এটা আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যত সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে, যাতে রাশিয়া ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও উন্নত হয়.