তেহরানে এই বিগত সপ্তাহে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে, যা একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি স্ক্যান্ডাল শুদ্ধই চলেছিল. ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করে বিবৃতি দেওয়ার পরেই সিরিয়া থেকে আসা সরকারি প্রতিনিধিদল অধিবেশনের কক্ষ ত্যাগ করেছিল, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান গী মুন ইরানের সমালোচনা করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নাত্সী জার্মানীর দ্বারা বহুল পরিমানে ইহুদী নিধন বা হলোকস্ট ইরানের স্বীকৃতী না দেওয়াতে এবং এই দেশকে নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনার বিষয়ে আরও বেশী করে খোলামেলা হতে আহ্বান করেছেন.

ছয় দিনের এই শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীণ আন্দোলনের সদস্য দেশ গুলির মধ্যে অংশ নিয়েছেন ১০০রও বেশী দেশ. তাদের মধ্যে ৩৬টি দেশ থেকে এসেছেন রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের নেতা. এত বেশী পরিমানে উচ্চ পদস্থ নেতৃত্বের উপস্থিতির ফলে তেহরানের সম্ভব হয়েছে সম্মেলনের ফলাফল ঘোষণার আগেই তা সফল হয়েছে বলে দাবী করার, এই কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা. তাছাড়া এই সম্মেলনে কোন রকমের বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত সর্ব সম্মতি ক্রমে নেওয়া সম্ভব হয় নি. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন – রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরে সদস্য সংখ্যার বিচারে বিশ্বে সবচেয়ে বড় সংস্থা. তাতে রয়েছে ১২০টি দেশ ও ১৭টি পর্যবেক্ষক দেশ. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও এর প্রভাবের অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা উচিত্ হবে না, এই রকম মনে করে বিশেষজ্ঞ এলেনা মেলকুমিয়ান বলেছেন:

“জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন – এটা এমন এক সংস্থা, যা এক সময়ে ঠাণ্ডা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে উদ্ভব হয়েছিল, যখন প্রয়োজন ছিল কোন রকমেরই সামরিক জোটে অংশ না নেওয়ার, নিজেদের স্বাধীন পথে চলার. এটাও ঠিক যে তখনও দেশ গুলির পক্ষে এই পথে সম্পূর্ণ ভাবে চলা সম্ভব হয় নি. তা স্বত্ত্বেও সেই সময়ে এই আন্দোলন ছিল সত্যিই প্রভাবশালী. কিন্তু বর্তমানে এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলির মধ্যে কোনও ঐক্য নেই”.

প্রসঙ্গতঃ, এই বারে ইরানের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল নতুন ঐক্য বদ্ধ হওয়ার কারণ সৃষ্টি করার – এটা সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের নেতৃত্বে সেই দেশের ভবিষ্যত. একদিকে পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি এই শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিতি হতে রাজী হয় নি তেহরানের সঙ্গে এই সিরিয়া সংক্রান্ত প্রশ্নেই সহমত না থাকায়. আবার একই সময়ে ইজিপ্ট, বরং উল্টো, দামাস্কাসের জন্যই তৈরী হয়েছিল বহু দিনের শত্রুতা ভুলে যেতে. ইজিপ্টের নেতা মুহাম্মেদ মুর্সি ইরানে এসেছেন বিগত তিরিশ বছরের মধ্যে প্রথম ইজিপ্টের দেশ নেতার সরকারি সফরে ও নিয়ে এসেছেন তুরস্ক, ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একত্রিত ভাবে সিরিয়া সংক্রান্ত যোগাযোগের গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাব.

কিন্তু তাঁর বক্তৃতা এই শীর্ষ সম্মেলনে শেষ হয়েছে স্ক্যান্ডাল দিয়েই. মুর্সি তাঁর বক্তব্যে “শৌর্যের পরিচয় দেওয়া প্যালেস্তিনীয় ও সিরিয়ার জনগনের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে স্বৈরাচার ও দমনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা”. তাঁর কথামতো, ইজিপ্ট খোলাখুলি ভাবেই তাদের সমর্থন করছে, যারা সিরিয়াতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, আর এই সংগ্রাম শেষ হতে বাধ্য সেই দেশের প্রশাসনের সেই ধরনের পরিবর্তন দিয়েই, যা দেশের জনগনের স্বার্থ প্রতিফলিত করবে. মুর্সির এই বক্তৃতার পরেই অধিবেশন কক্ষে থাকা সিরিয়া থেকে আসা সরকারি প্রতিনিধিরা প্রদর্শনী মূলক ভাবেই কক্ষ ত্যাগ করেন. এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, ইরানের সরকার, যারা আসাদকে সমর্থন করছেন, তাদেরও বোধহয় সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষকে সমর্থন পছন্দ হয় নি.

এরই মধ্যে ইরানের সর্বময় নেতা আয়াতোল্লা আলি খোমেনেই এমনকি সিরিয়ার বিরোধের প্রসঙ্গই উত্থাপন করেন নি. তাঁর বক্তৃতার অংশ তিনি ইজরায়েলের সমালোচনায় ব্যয় করেছেন. তিনি একই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের রাজনীতির সমালোচনা করেছেন তীক্ষ্ণ ভাষায়, যা তাঁর মতে, চেষ্টা করছে বিশ্বকে নিজেদের মূল্যবোধ জোর করেই চাপিয়ে দিতে. উত্তর দিতে গিয়ে নিজের বক্তৃতায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান গী মুন ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হলোকস্ট অস্বীকার করার জন্য সমালোচনা করেছেন ও ইজরায়েল ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকির নিন্দা করেছেন. তাছাড়া, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব তেহরানকে আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমস্ত সিদ্ধান্তকে, যা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্পর্কে নেওয়া হয়েছে তা কঠোর ভাবেই পালন করার জন্য. “বিপরীত হলে বাক্ যুদ্ধ খুবই দ্রুত সত্যিকারের যুদ্ধে পরিণত হতেই পারে” – সারাংশ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব.