ইস্রায়েলের প্রচার মাধ্যমগুলি আবার ইরানের পারমানবিক কেন্দ্রগুলির উপর আঘাত হানার সম্ভাবনার বিষয়ে সোরগোল করছে. যেহেতু সদ্য মিট রোমনি রিপাব্লিকান পার্টির তরফ থেকে পদপ্রার্থী হয়েছেন – সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে কার শ্রবনের জন্য এই সবকিছু. নেতানিহায়ুর ঘনিষ্ঠ চক্র মনে করে, যে বারাক ওবামা ইরানের পারমানবিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কনীতি অবলম্বন করছেন. ইস্রায়েল আশা করছে, যে রোমনি বেশি আক্রমণাত্মক হবে, তবে যদি সে আদৌ রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়.

অধিকাংশ রিপাব্লিকান বরাবর ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি ইস্রায়েলের সামরিক হামলার স্বপক্ষে. ডেমোক্র্যাটরাও সেই সম্ভাবনা বাতিল করে দিচ্ছে না. কিন্তু ওবামা শুধুমাত্র তখনই আক্রমণ করার আদেশ দিতে প্রস্তুত, যদি বোমা আবিস্কার করা যায়, কিন্তু এখনো তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি.

যদি রোমনি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়ও, তবুও কোনো গ্যারান্টি নেই, যে হোয়াইট হাউস তত্ক্ষণাত হানা দিতে যাবে. প্রাকনির্বাচনী বক্তৃতায় রাষ্ট্র্রপতিরা যতই বারফট্টাই করুক না কেন, হোয়াইট হাউসে ঢোকার পরে তাদের পরিমিতিবোধ ফিরে আসে. ইরানের উপর ইস্রায়েলের আঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিকট প্রাচ্যে অজানিত পরিণতিতে নিয়ে যেতে পারে.

এটাও মুখ্য নয়. রুশী বিশেষজ্ঞরা আদৌ বিশ্বাস করেন না, যে আক্রমণের কোনো সম্ভাবনা আছে. রুশী বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির বিশ্ব রাজনীতি বিভাগের উপ-প্রধান ভ্লাদিমির আনোখিনের মতে, ওয়াশিংটনের সব্বার চেয়ে বেশি দরকার ইস্রায়েলকে থামানো.

আমি মনে করি, যে ইরানের উপর কোনো হামলা হবে না. প্রথমতঃ এটার কারো দরকার নেই. যদি ইরানের তরফ থেকে সত্যিই পারমানবিক বোমা বানানোর আশংকা থাকতো, তবে আমেরিকা সবার আগে ইরানকে গার্ড করতো. কারণ ইউরোপে রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থা বসানোর জন্যে ইরানকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করা দরকার. ইরানের বিরূদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলির সংহতি পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় আমেরিকার অবস্থান জোরদার করছে.

বিদেশনীতি কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞা ইভগেনিয়া বোইকোর দৃঢ়বিশ্বাস, যে ইস্রায়েলের হানা দেওয়া সম্মন্ধে সোরগোল – শুধুমাত্র প্রাকনির্বাচনী কায়দা. আরও একবার ইস্রায়েল পরখ করে নিতে চায়, যে প্রয়োজনে আমেরিকার সাহায্যের ওপর ভরসা করতে পারে কিনা.

ইস্রায়েল বুঝতে পারছে, যে ওরা একা এই সমস্যা সামলাতে পারবে না. এখানে অবশ্যই আমেরিকার সামরিক ও রাজনৈতিক মদতের প্রয়োজন. আমার মতে এটা প্ররোচনা, যাতে এই বিষয়ে ওবামা ও রোমনির মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু করানো যায় ও বুঝতে পারা যায়, যে আমেরিকার কাছ থেকে কোন সাহায্যের আশা করা যেতে পারে কিনা.