রাষ্ট্রসঙ্ঘ সিরিয়াতে মানবাধিকার অপারেশনের জন্য ১৮ কোটি ডলার চেয়েছে. আপাততঃ এই খাতে দেওয়া হয়েছে এর অর্ধেক অর্থ. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিরিয়া সংক্রান্ত এক জরুরী অধিবেশনে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের প্রথম সহকারী সচিব ইয়ান এলিয়াস্সন এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন. জরুরী সাহায্যের প্রয়োজন বোধ করেছেন প্রায় ২৫ লক্ষ সিরিয়ার নাগরিক.

কূটনীতিবিদ রাষ্ট্রগুলিকে সিরিয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে বেশী করে অর্থ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন. সিরিয়ার লোকেরা অস্ত্রের প্রয়োজন বোধ করে না. আর যারা এই অস্ত্র সরবরাহ করছে, তারা আরও বেশী করেই কষ্ট ও মাত্সান্যায়ের প্রতি রাস্তা তৈরী করে দিচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি মনে করেন যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত মিশন গুলির সিরিয়াতে উপস্থিতি আরও প্রসারিত করা দরকার ও তারই সঙ্গে থাকা দরকার বেসরকারি মানবাধিকার সংক্রান্ত সংস্থা গুলিরও. এই প্রসঙ্গে বিরোধের দুই পক্ষেরই উচিত্ এই মিশনের কর্মীদের নিরাপত্তা বজায় রাখা.

রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন এই বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার সাধারন মানুষদের জীবন আরও জটিল করে তুলেছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা বেশ কিছু দেশ রাষ্ট্রসঙ্ঘকে তোয়াক্কা না করেই জারী করেছে. অর্থনৈতিক বাধা সিরিয়ার লোকদের নিজেদের একেবারে মৌল প্রয়োজন গুলি পূরণ করতে দিচ্ছে না ও মানুষের প্রধান অধিকার গুলিকেও সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না.

এই বৈঠকের একটি তীক্ষ্ণ বিতর্কের বিষয় হয়েছে সিরিয়ার ভিতরে “নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাফার জোন” তৈরী করা অথবা “করিডর” তৈরী করা. এই বিষয়টি সক্রিয় ভাবে তুরস্ক এগিয়ে ধরতে চাইছে, তারা যারা যুদ্ধে কারণে ঘরবাড়ী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন সেই উদ্বাস্তু নাগরিকদের প্রতিরক্ষার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে চলেছে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু সমস্যা সংক্রান্ত হাই কমিশনার আন্তোনিও গুত্তিয়েরেস এই ধারণাকে সমর্থন করেন নি. তাঁর কথামতো, এই ধারণা আগেই অসফল বলে প্রমাণিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমাজেরই পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী. তাঁকে সমর্থন করেছেন ভিতালি চুরকিন. “বাফার জোন” তৈরী করার প্রস্তাব দিয়ে আসলে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়েই নতুন করে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে, এই রকমই মনে করে পাভেল স্ভিয়াতেনকভ বলেছেন:

“এটা হল ওই দেশের মধ্যে এমন সমস্ত জায়গা তৈরীর চেষ্টা, যেখানে জঙ্গীরা, যারা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তারা বিশ্রাম নিতে পারে, নতুন করে অস্ত্র পেতে পারে. আর যেখান থেকে তারা আবার নতুন উদ্যমে সিরিয়ার সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণে যেতে পারে, নিজেরা মনে করা যাক, ন্যাটো জোটে বিমান বাহিনীর নিরাপত্তার আশ্রয়ে লুকিয়ে থেকে. তাই স্বাভাবিক ভাবেই, নিরাপত্তার এলাকা নিয়ে এই ধরনের যুক্তি মেনে নেওয়া যেতে পারে না, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই যে, এই এলাকা হবে সরকার বিরোধী জঙ্গীদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গাতে পরিণত হতে পারে”.

শুক্রবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের সিরিয়া সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের মিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে. তাঁর উত্তরসুরী লাখদার ব্রাহিমির আপাততঃ সিরিয়া সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই. শুধু জানা রয়েছে যে, তা আসন্ন তিন সপ্তাহের মধ্যেই হবে. এর আগে তিনি সিরিয়ার সঙ্কটে কর্মরত দেশ গুলির কূটনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, আর তাঁদের অনুরোধ করেছেন তার মিশনে সমর্থন করতে.