আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা পরিকল্পনা করছে এক নির্দিষ্ট কার্যকরী গোষ্ঠী তৈরী করার, যাতে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজা সম্ভব হয়. এই কথা বলা হয়েছে সংস্থার থেকে প্রকাশিত এক খবরে. আশা করা হয়েছে যে, নতুন দল নিজের কাজে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সিদ্ধান্তকেই ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করবে.

ইরানের নেতৃত্ব একাধিকবার ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের পারমানবিক পরিকল্পনা একেবারেই শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি রয়েছে, যা অনুযায়ী এই সংস্থার কর্মীরা ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির উপরে পর্যবেক্ষণের কাজ করতে পারেন. তবে অন্য কথা হল যে, ইরানের সরকার সব সময়ে এই ধরনের সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত নয়.

তাই নতুন কার্যকরী গোষ্ঠীর কাজকর্ম প্রাথমিক ভাবে নির্ভর করবে ইরানের সরকারের উপরে, তাদের ইচ্ছা ও প্রস্তুত থাকার উপরে, এই কথা মনে করে মস্কো কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“আমরা জানি না কোন রকম ভাবে এই ধরনের কার্যকরী গোষ্ঠী তৈরী করা হবে, কি ধরনের দায়িত্ব তাদের সংস্থা থেকে দেওয়া হবে, কতটা গভীর ভাবে ইরান এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা করবে. যদি এই সব প্রশ্নের উত্তর হয় ইতিবাচক –অর্থাত্ এই গোষ্ঠীর হাতে অনেক কিছু করার ক্ষমতা থাকে, সমস্ত রকমের প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের যন্ত্রপাতি থাকে, আর ইরান তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তৈরী থাকে এবং তাদের জন্য নিজেদের দেশের পারমানবিক কেন্দ্র গুলিতে সম্পূর্ণ ভাবে যাওয়ার পথ খুলে দেয় এবং নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্ত মৌল বিষয় গুলি জানতে দেয়, তবেই ফল হবে ইতিবাচক”.

আশাবাদী হওয়ার জন্য কারণ রয়েছে. কয়েকদিন আগে ভিয়েনাতে তেহরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রতিনিধিদের আরও এক রাউন্ড আলোচনা হয়েছে. আপাততঃ তার ফলাফল নিয়ে কোনও মন্তব্য প্রকাশিত হয় নি. কিন্তু বিষয় সম্বন্ধে ইরানের বিশেষজ্ঞদের কল্যাণে আগেই জানা ছিল – এই সংস্থার বিশেষজ্ঞদের জন্য পারচিন শহরের পারমানবিক কেন্দ্র ও পারমানবিক পদার্থ সমৃদ্ধ করার কারখানা ফোর্দো শহরে খুলে দেওয়া. সেখানেই, সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইরানের লোকরা বাড়তি যন্ত্রপাতি বসিয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার জন্য এবং পারমানবিক জ্বালানী বানানোর জন্য. যদি আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থা এই সব কেন্দ্রে যেতে পারে – তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সন্দেহ করার কোনও বাস্তব কারণ আর থাকবে না.