জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সদস্য দেশ গুলির নেতৃত্ব ছয় দিন ব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন শেষ করছেন দেশ গুলির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বৈঠক দিয়ে. ১০০রও বেশী দেশের প্রতিনিধিরা ইরান এসেছেন, তাদের মধ্যে ৩৬ জন রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রী. এত শীর্ষ স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব এর মধ্যেই বলতে দিয়েছে যে, শীর্ষ সম্মেলন সফল হয়েছে, তার পরিনাম যাই হোক না কেন, এই কথাই উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা.

“জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন” – এটা এক সংস্থা, যা সদস্য সংখ্যার খাতিরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরেই সবচেয়ে বড় সংস্থা. তাতে রয়েছে প্রায় ১২০টি দেশ, আরও প্রায় পনেরোটি দেশ রয়েছে পর্যবেক্ষকের মর্যাদায়. কিন্তু এটিকে বর্তমানে প্রভাবশালী বলা যায় না, এই রকম মনে করে বিশেষজ্ঞ এলেনা মেলকুমিয়ান বলেছেন:

““জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন” – এটা এক সংস্থা, যা এক সময়ে ঠাণ্ডা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে গঠিত হয়েছিল, যখন প্রয়োজন ছিল কোনও সামরিক জোটেই যোগ না দেওয়ার, নিজেদের নীতি মেনে চলার. এটা ঠিক যে, তখন দেশ গুলির পক্ষে এটা সম্পূর্ণ ভাবে করা সম্ভব ছিল না. তবুও এই আন্দোলন সত্যই ছিল যথেষ্ট প্রভাবশালী. কিন্তু এখন এর সদস্যদের মধ্যে ঐক্য নেই”.

প্রসঙ্গতঃ, এই রকম মনে হয়েছে যে, এই বারে ইরানের পক্ষে, যারা আগামী তিন বছরের জন্য এই সংস্থার সভাপতিত্ব করবে, তারা নতুন একটি জোট সৃষ্টির কারণ নির্ণয় করতে পেরেছে – এটা সিরিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে. একদিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকার দেশ গুলি এই শীর্ষ সম্মেলনে আসতে অস্বীকার করেছে তেহরানের সঙ্গে সিরিয়া সংক্রান্ত প্রশ্নে মতবিরোধ থাকাতে, আবার অন্য দিকে ইজিপ্ট, বরং উল্টো, তৈরী আছে বহু দিনের শত্রুতা ভুলে যেতে. ইজিপ্টের নেতা ইরান আসছেন বিগত তিরিশের বেশী বছরের মধ্যে প্রথমবার, যাতে নিজের হাতে তেহরানকে সংস্থার সভাপতির পদ তুলে দেওয়া যায়, যা এর আগে বিগত বছর গুলিতে ছিল কায়রোর হাতে. একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মুহামেদ মুর্সি তেহরানে নিয়ে আসছেন তাঁর ব্যক্তিগত ভাবে সিরিয়া সংক্রান্ত ধারণাও.

এটা জানাই রয়েছে যে, ইরান তৈরী করেছে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের পরিকল্পনা. তা রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের প্রাক্তন বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের পরিকল্পনার মতই. এই সব প্রস্তাব শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করবেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনের উপস্থিতিতেই. এই সফরও এই সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, কারণ বান কী মুন স্থির করেছেন তিনি নিজে এই “জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন” সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন, যদিও এই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল আপত্তি তুলে ছিল.

তেহরানের পক্ষে যে সম্ভব হয়েছে সমস্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়াতে ও এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে, সেই বাস্তব বিষয়ই বলতে দেয় যে, এই অনুষ্ঠান সফল হয়েছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“এটা অবশ্যই হবে ইরানের কূটনীতির বিজয়. কারণ ইরানের পক্ষে সম্ভব হয়েছে নিজেদের এলাকায় শীর্ষ সম্মেলন করার বহু শীর্ষ স্থানীয় রাষ্ট্র নেতাদের উপস্থিতিতে ও তাই দিয়ে সারা বিশ্বকেই দেখিয়ে দেওয়ার যে, ইরান একেবারেই কূটনৈতিক ভাবে একঘরে হয়ে নেই”.

এই শীর্ষ সম্মেলন শেষ হবে শুক্রবারে, যেখানে নতুন ফলাফল নিয়ে ঘোষণা নেওয়া হবে. এর পরে তিন বছর ধরে তেহরান বিশ্বের মঞ্চে “জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের” সমস্ত সদস্য দেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য পেশ করবে.