রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিরিয়া সংক্রান্ত জরুরী অধিবেশনে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন. এই অধিবেশন ফ্রান্স ৩০শে আগষ্ট ডেকেছিল. তারা এই মাসে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্ব করছে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয়ের এক কাছের উত্স থেকে পাওয়া খবর জানিয়ে মস্কোর “কমেরসান্ত” সংবাদপত্র লিখেছে যে, এই অধিবেশনে মস্কোর হয়ে উপস্থিতি থাকবেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন. আমেরিকার তরফ থেকে – আপাততঃ জানা নেই, তবে খুব সম্ভবতঃ, এমনকি চুরকিনের সহকর্মী স্যুজান রাইস নন, বোধহয় তাঁরও সহকারী. খুব সম্ভবতঃ, গ্রেট ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উইলিয়াম হেগ একই সঙ্গে এই অধিবেশনে যোগ দিতে হয়তো অস্বীকার করবেন. তাই ফ্রান্সের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান হতে পারেন একমাত্র সিরিয়া নিয়ে সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মরত এই পর্যায়ের পদাধিকারী লোক, যিনি এই অধিবেশনে যোগ দেবেন.

কূটনৈতিক মহলে বুঝতে দেওয়া হয়েছে যে, এই জরুরী অধিবেশনের প্রস্তুতির সময়েই নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোন পরিনামে হওয়া সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরী করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে. রাশিয়া ও চিন সেই বিষয়েই জোর দিয়েছে যে, যাত এই খসড়াতে উদ্বাস্তু ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সক্রিয় সহায়তা করার কথাই বেশী করে রাখতে ও তারই সঙ্গে বিরোধের দুই পক্ষকেই রক্তক্ষয় বন্ধ করার আহ্বান করতে. ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দিক থেকে আদায় করতে চেয়েছে রাজনৈতিক ঘোষণা, যেখানে বলতে চাওয়া হয়েছে বাশার আসাদের অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বানের কথা. বোঝাই যাচ্ছে যে, মস্কো ও বেজিং এই ধরনের ঘোষণা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ দিয়ে বার হয়ে যেতে দেবে না. তারা মনে করে যে, এটাই হবে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পরিস্থিতি এই অধিবেশনের আগে বলা যেতে একটা দাবা বোর্ডের স্টেলমেট অবস্থা, এই রকমই মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

“ফ্রান্সের এই যে চেষ্টা, একটা জরুরী অধিবেশন ডেকে দেওয়ার, তা সম্ভবতঃ অসফল হতে চলেছে. বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, এই পরিষদ কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না. আর এটাও ঠিক যে, তারা এটা করতেও পারে না, কারণ দুই পক্ষের অবস্থান জানাই রয়েছে – তারা একেবারেই পরস্পর বিরোধী. জানা আছে চিন ও রাশিয়ার অবস্থান, তেমনই জানা আছে ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও. আর এটাও বোঝা যাচ্ছে যে, যদি কোনও একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়, তবে অন্য তরফ থেকে সেই দলিলে ভেটো প্রয়োগ করা হবেই. বাস্তবে এটা ছিল ফ্রান্সের চেষ্টা আরও একবার মনোযোগ আকর্ষণ করা সিরিয়ার সমস্যা নিয়ে. কিন্তু সিরিয়ার সমস্যা এমনিতেই আলোচ্য বিষয় গুলির মধ্যে খুবই তীক্ষ্ণ হয়ে রয়েছে”.

আর এখন প্রধান হল যে, টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে আরও একবার করে এমনিতেই জানা অবস্থানের কথা না বলা, বরং অবস্থান নিকটবর্তী করার জন্য ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা. এটা যেমন এই বিরোধের সরাসরি প্রতিপক্ষদের করার কথা, তেমনই বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্র গুলিরও করার কথা. রাশিয়া নিজেদের পক্ষ থেকে তৈরী রয়েছে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান খোঁজার জন্য. এখনই বলে দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ সিরিয়ার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন তাঁর সহকর্মী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে ভ্লাদিভস্তক শহরে. এই সাক্ষাত্কার হবে আগামী সপ্তাহেই. তার আগে হিলারি ক্লিন্টন চিনে সেই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ইয়ান শ্জেচির সঙ্গে ৪- ৫ সেপ্টেম্বর বেজিংয়ে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন.