রাশিয়া ভারত সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও উন্নতি করছে. এই সপ্তাহের শুরুতে এক দলিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে, যার ফলে যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করা হবে, যেখানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য যুদ্ধের রসদ তৈরী করা হবে, তার মধ্যে থাকবে “ঘূর্ণি ঝড়” নামের রিয়্যাক্টিভ রকেট ব্যবস্থা. এই চুক্তি মস্কো ও দিল্লীর মধ্যে একই ধরনের অন্যান্য অস্ত্র প্রযুক্তি তৈরীর উদ্যোগের চুক্তির সারিতে যোগ হয়েছে, যা এই বছরেই করা হয়েছে.

মে মাসে রাশিয়া ও ভারত চুক্তি করেছিল সামরিক পরিবহনের নতুন ধরনের বিমান নির্মাণের জন্য যৌথ উদ্যোগে কারখানা তৈরীর. মার্চ মাসের শেষে ভারতে সফল ভাবে যৌথ উদ্যোগে তৈরী ডানাওয়ালা শব্দাতীত গতি সম্পন্ন “ব্রামোস” রকেট তৈরী করা হয়েছিল. এই রকেটের নাম দেওয়া হয়েছিল ব্রহ্মপুত্র ও মস্কো নদীর সম্মানে. তার শেষ রকমের ধরনে গতিবেগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বিশ্বে সবচেয়ে বেশী প্রচলিত আমেরিকার একই ধরনের রকেট “হারপুনের” চেয়ে সাড়ে তিন গুণ বেশী, এই কথা উল্লেখ করে সামরিক পর্যবেক্ষক ভিক্টর বারানেত্স বলেছেন:

“এই রকেটের সামরিক সম্ভাবনা একেবারেই অশেষ. এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার প্রযুক্তি – সবই সবচেয়ে ভাল গুণমানের. রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিন ও জ্বালানী. এই ধরনের সহযোগিতার ফলে সম্ভব হয়েছে খুবই বিরল ধরনের সামরিক অস্ত্র নির্মাণের এক জোট”.

নতুন ধরনের রকেটে সেই নীতি ব্যবহার করা হয়েছে, যাকে বলা হয়ে থাকে গুলি করে ভুলে যাও. অর্থাত্ “ব্রামোস” রকেট নিজের লক্ষ্য নিজেই স্থির করতে পারে. ভারতের সরকার স্থির করেছে এই ধরনের রকেট দিয়ে রাশিয়াতে তৈরী সু- ৩০ ধরনের যুদ্ধ বিমান সজ্জিত করাকে সমর্থন করতে. এর আগে “ব্রামোস” ভারতের পদাতিক বাহিনী ও নৌবাহিনী পেয়েছে. এর পরের দশকে দুই দেশ যৌথ ভাবে এই ধরনের এক হাজার রকেট তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. এর প্রায় অর্ধেক বিদেশে রপ্তানী করা হবে, এই কথা উল্লেখ করে সামরিক বিশ্লেষক কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন

এই ধরনের চুক্তি করে, যে কোন দেশই বুঝতে পারে যে, বিদেশী সহকর্মী তাদের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে. এই ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে শুধু সেই ক্ষেত্রেই, যদি সেই বিদেশী সহকর্মীর দেশকে দেখা হয় খুবই ভরসা যোগ্য জুটি হিসাবে”.

তারই মধ্যে ফ্রান্স এই বছরের শুরুতে রাশিয়ার সামরিক বিমান গুলিকে ভারতীয় বাজারে খানিকটা স্থান সংকোচন করিয়েছে. তারা জিতে নিয়েছে ১২৬টি বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম চতুর্থ প্রজন্মের “রাফালে” যুদ্ধ বিমান সরবরাহের জন্য টেন্ডার. প্রসঙ্গতঃ, আজ ভারতের প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ সামরিক প্রযুক্তি হল রাশিয়ায় তৈরী. আর যুদ্ধ বিমান সু – ৩০ ও ট্যাঙ্ক টি – ৯০ সেখানে মনে করা হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র বলেই. তার ওপরে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে একসাথে নতুন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরীর চুক্তি করেছে, যেটি ফ্রান্সের “রাফালের” চেয়ে এক প্রজন্ম এগিয়ে রয়েছে.