রাশিয়ার রসকসমস সংস্থা স্থির করেছে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আবার “মঙ্গল – ৫০০” নামের পরীক্ষা করে দেখার. এর জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মহাকাশচারীদের পাঠানো হবে এক বছরের জন্য, যা সাধারন ভাবে চলে আসা মহাকাশে যাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ বেশী সময়ের. রাশিয়ার সংস্থায় এই যাত্রা শুরুর সময় মোটামুটি ঠিক করা হয়েছে, তবে সেটা ২০১৫ সালের আগে নয়, সেই বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সমস্ত সহকর্মী দেশই এই প্রকল্পের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে. নাসা সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট করে দিয়ে বলেছেন: এই প্রকল্পের বিষয়ে এখন শুধু পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত আপাততঃ নেওয়া হয় নি.

মঙ্গল গ্রহে অভিযানের মডেল হিসাবে “মঙ্গল – ৫০০” পরীক্ষা করা হয়েছিল মস্কোর চিকিত্সা-জৈব বিদ্যা সমস্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটে, তা শেষ হয়েছিল ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে. ছয়জন স্বেচ্ছা স্বীকৃত মানুষ ৫২০ দিন সম্পূর্ণ ভাবে জগতের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে ৫২০ দিন এক পরীক্ষা মূলক মহাকাশ যানের ভিতরে কাটিয়েছিলেন – এটা মঙ্গল গ্রহে গিয়ে ফিরে আসার জন্য ন্যূনতম সময়. সত্যিকারের যাত্রার সঙ্গে প্রধান তফাত ছিল যে, এই ক্ষেত্রে অভিযাত্রীদের জন্য সবচেয়ে খারাপ দুটি মহাকাশের আনুষঙ্গিক ছিল না, একটি হল মহাকাশের তেজস্ক্রিয় বিকীরণ ও অন্যটি ভরশূন্যতা. কক্ষপথে ভর শূন্য অবস্থায় এই পরীক্ষা হবে সবচেয়ে বেশী রকমের বাস্তব. একই সঙ্গে সেই প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া যাবে যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জীবন ধারণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গুলি ভবিষ্যতের চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানের জন্য উপযুক্ত, না কি নতুন করে যান তৈরী করতে হবে. কি করে যাত্রীদের মধ্যে ছয় জনকে আলাদা করতে হবে ও “মঙ্গল অভিযাত্রীরা” কি যারা “মঙ্গল গ্রহে যাবে না”, তাদের সাহায্য করবে, নাকি তা করার দরকার হবে না? সমস্যা এই ক্ষেত্রে হবে না, এই রকম মনে করে রাশিয়ার মহাকাশ একাডেমীর অ্যাকাডেমিশিয়ান আলেকজান্ডার ঝেলেজনিয়াকভ বলেছেন:

“এই ধরনের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের এমন কোন মানে নেই যে, মহাকাশ অভিযাত্রীদের প্রতিদিনের বাঁধা ধরা কাজকর্মের থেকে রেহাই দিতে হবে. তারা ঠিক একই ভাবে এই মহাকাশ স্টেশনের কাজ করার ক্ষমতাকে বজায় রাখবেন. এক সময়ে মীর মহাকাশ স্টেশনে একজন মহাকাশ যাত্রীর বহু দিনের জন্য মহাকাশে থাকার পরীক্ষা করা হয়েছিল – ভালেরি পলিয়াকভ সেই যাত্রা করেছিলেন. তিনি তিনটি মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, আর নিজে সব সময়েই ছিলেন মহাকাশে – ৪৩৭ দিন ধরে. যদি বহু দি ধরে যাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে, খুব সম্ভবতঃ, তা হবে সেই ভাবেই আয়োজিত. বোধহয় তিনজন মহাকাশচারী এক বছরের জন্য মহাকাশে যাবেন, আর সেখানে এই সময়ের মধ্যেই বাকী তিনজন বদলী হয়ে স্থান পরিবর্তন করবেন”.

রাশিয়ার একটি মডিউলে, যেখানে মঙ্গল – ৫০০ যাত্রার পরীক্ষা করা হবে, তা প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হবে, আর অন্য সব মডিউল সাধারন সময়ের মতোই পরিবহন মহাকাশযান দিয়ে পরিষেবা করা হবে. সমস্ত জীবন যাত্রার উপযুক্ত ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রয়েছে, তা বোধহয় সম্ভাব্য চন্দ্র অভিযানের জন্য ব্যবহার যোগ্য হতে পারে, যে অভিযান সম্বন্ধে রাশিয়াতে বর্তমানে ভাবা হয়েছে, তাই আলেকজান্ডার ঝেলেজনিয়াকভ যোগ করে বলেছেন:

“চন্দ্রাভিযান বর্তমানে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার দৈর্ঘ্য দুই সপ্তাহের বেশী নয়. এই সমস্ত ব্যবস্থা এই রকম দৈর্ঘ্যের মহাকাশ যাত্রার জন্য খুব ভাল করেই পরীক্ষা করা হয়েছে. মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ ব্যবস্থাই, যা এখন রয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে, তাও ব্যবহার করা যেতেই পারে”.

“অ্যাভিয়াপ্যানোরামা” জার্নালের সম্পাদক সের্গেই পুখভ এই মতের সঙ্গে একমত হয়েই বলেছেন:

““ইলেকট্রন” নামের একটা ব্যবস্থা রয়েছে, যা জলের বিভাজন করতে সক্ষম – হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে. এই রকমের ব্যবস্থা রয়েছে, যা মানুষের শরীর থেকে নির্গত বাষ্পকে এক সাথে করে জল করতে পারে, অন্য গুলি মূত্র এবং প্রযুক্তির উপযুক্ত জলকেও পরিশ্রুত করতে সক্ষম. এই জল গুলিকেও “ইলেকট্রন” ব্যবস্থায় পাঠানো যেতে পারে”.

কক্ষপথের “মঙ্গল -৫০০” পরীক্ষার জন্য সব থেকে ভাল হবে যাত্রীরা পুরুষ ও মহিলা উভয় লিঙ্গের হলে, কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে বর্তমানে মাত্র একজন মহিলা মহাকাশচারী তৈরী আছেন, তিনি এলেনা সেরভা, আর তিনি এখনই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মূল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন. আমেরিকার পক্ষ থেকে মহিলা মহাকাশচারী বাছাই করা সহজ, তাই বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করে বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহিলা অধিকার সম্বন্ধে দাবীদার মেয়েরা অনেকদিন আগেই দেশের বিমান বাহিনীতে পাইলট হওয়ার অধিকার পেয়ে গিয়েছেন. সাধারণতঃ এই ধরনের মহিলা পাইলটদের থেকেই অ্যাস্ট্রোনট তৈরী করা হয়ে থাকে. তাঁদের থেকেই নেওয়া যেতেই পারে”.

সংবাদ মাধ্যমে এই রকমের যাত্রার উপযুক্ত মহিলা অ্যাস্ট্রোনটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: ইনি হতে পারেন ৫২ বছরের পেগী হুইটসন, যিনি এর আগে দুইবার মহাকাশে গিয়েছেন. কিন্তু নাসা সংস্থা জানিয়েছে যে, এখনই তাঁর সম্বন্ধে বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. যেমন একই ভাবে সেই কথা বলা যে, এক বছর ধরে পৃথিবীর কাছের কক্ষপথে “মঙ্গল – ৫০০” নামের মঙ্গল অভিযানের নকল করা ঠিকই হবে বলা.