রাষ্ট্রসঙ্ঘের ও আরব লীগের সিরিয়া সংক্রান্ত সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাচিত নতুন বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি নিজের কাজের ক্ষেত্রে কোফি আন্নানের পরিকল্পনাকেই অনুসরণ করবেন ও তাঁর সৃষ্ট ভিত্তির উপরেই নির্ভর করবেন. এর আগে ব্রাহিমি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনের সঙ্গে দেখা করেছেন. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে খবর দিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের সরকারি মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধির মুখপাত্র লাখদার ব্রাহিমির সম্ভাবনাকে খুবই উচ্চ মূল্যায়ণ করেছেন – তিনি একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদ, যিনি বহু দিন যেমন রাষ্ট্রসঙ্ঘ, তেমনই আরব লিগেও কাজ করেছেন. এই প্রসঙ্গে মার্টিন নেসিরকি বলেছেন:

“লাখদার ব্রাহিমি খুবই অভিজ্ঞ ও সফল আলোচনার মধ্যস্থতাকারী, তিনি খুবই জটিল সব পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে, ইরাকে, হাইতি দ্বীপপূঞ্জে কাজ করেছেন. ব্রাহিমিকে এই এলাকায় সকলেই ভাল করে চেনেন, আর তারই সঙ্গে – মস্কোতেও এবং ওয়াশিংটনে. তাঁর নিজের অভিজ্ঞতাই অনেক, তার ওপরে তিনি এখানে নিউইয়র্কেই পরামর্শ দিয়ে থাকেন. আর সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হল তিনি এক খুবই সিরিয়াস ভিত্তির উপরে নির্ভর করেই কাজ করবেন. তাঁর সন্দেহ নেই যে, তাঁর পূর্বসূরি কোফি আন্নান এক খুবই মজবুত ভিত্তি সৃষ্টি করেছে এই সঙ্কট নিরসনের জন্য”.

সরকারি ভাবে সিরিয়াতে বিশেষ প্রতিনিধি হয়ে ব্রাহিমি কাজ শুরু করবেন ১লা সেপ্টেম্বর থেকে. কোফি আন্নান, এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এই পদে থেকে, এখন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন. এই সিদ্ধান্তে কোনও গোপন উদ্দেশ্য খোঁজার দরকার নেই বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের সরকারি মুখপাত্র বলেছেন:

“কোফি আন্নান সবই খুব নির্দিষ্ট ভাবে তাঁর পদত্যাগের সময়ে বলেছেন: সাফল্য লাভের পথে যথেষ্ট বড় সব বাধা ছিল. এই বিরোধের দুই পক্ষ সিরিয়ার সেনা বাহিনী ও সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ বেছে নিয়েছিল সশস্ত্র সংগ্রামের পথ. তারা আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে বারংবার করা অগ্নি সম্বরণের আহ্বান ও একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী হয় নি.

সকলেই খুব চমকে উঠলেও, সকলেই তাঁকে বুঝেছে. কোফি আন্নান কারও দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেন নি. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ও আন্তর্জাতিক সমাজেই এই সম্বন্ধে দ্বিমত রয়েছে, দুটি পক্ষ রয়েছে. আন্তর্জাতিক সমাজের কাজ একসাথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা, এই কথা সকলেই সমস্বরে বলেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ও তার বাইরেও, এই সঙ্কটের মোকাবিলার জন্যই”.

কোফি আন্নানের চলে যাওয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিরিয়া সঙ্কট মোকাবিলায় ভূমিকা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে নতুন এক সারি কৌতুহলেরই সৃষ্টি করেছে. আর এখানেই খুব তীক্ষ্ণ ভাবে উত্থাপন করা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে সম্ভাব্য শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা. কিন্তু রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাঠামোর বাইরে সিরিয়ার সঙ্কট আলোচ্য হতে পারে না বলে মনে করেই নেসিরকি বলেছেন:

“কি হতে পারে বা না হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা: আমিও সেই সব সংবাদ মাধ্যমের দেওয়া খবরই পড়ে থাকি, যা আপনারাও পড়েন. আমাদের উচিত্ হবে জানা বাস্তবের উপরেই নির্ভর করা: সিরিয়ার সঙ্কট – এটা এমন এক প্রশ্ন, য়া শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদেই আলোচিত হবে. এটা পাঁচ পক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব ও দশটি অস্থায়ী. তাঁরা খুবই সক্রিয়ভাবে এই সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন. এই বিষয় নিরাপত্তা পরিষদে প্রধান হয়েই রয়েছে. প্রথম প্রতিনিধি কোফি আন্নান ও তাঁর পরে ব্রাহিমির শক্তি প্রয়োগের ফলেই আসন্ন সপ্তাহ গুলিতে শেষ অবধি পক্ষরা বুঝতে পারবেন আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ও রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব হবে. আমরা আবারও বলছি যে, এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার. যখন আলোচনা শুরু হবে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ কাছেই থাকবে, যাতে এই আলোচনাকে সঠিক দিকেই নির্দেশ করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়”.

নেসিরকি বলেছেন যে, শুধু সিরিয়ার জনগনই আজ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন না, বরং তাঁদেরও দরকার, যাঁরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন. আর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত অবিলম্বেই নেওয়া দরকার.