বিশ্বে প্রথম রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা মানব বুদ্ধির কৃত্রিম কপি সৃষ্টি করেছেন, ‘ইয়েভগেনি’ নামক কম্পিউটার প্রোগ্রাম মানুষের বুদ্ধিসীমার উচ্চতম মাত্রা থেকে খুব একটা পেছিয়ে নেই. বৃটেনে সদ্য হয়ে যাওয়া সাইবারনেটিক প্রদর্শনীতে ঐ প্রোগ্রামটি শ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃত হয়েছে.

ব্রেন স্টর্মিংয়ে অংশগ্রহণকারী সবাইকে তথাকথিত টিউরিংয়ের টেস্টে পাশ করতে হয়েছিল. ঐ বৃটিশ গণিতজ্ঞকে কম্পিউটার প্রযুক্তির জনক হিসাবে গণ্য করা হয়. তিনি উদ্ভাবন করেছিলেন এমন সব গেমস যেখানে নির্ধারণ করা যেত, কে প্রতিদ্বন্দী – মানুষ নাকি যন্ত্র.

টিউরিংয়ের প্রথম প্রোগ্রাম মেটেরিয়ালগুলো ছেলেমানুষি করার জন্য বানানো হয়েছিল. প্রোগ্রাম একাধিকবার প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করতো, প্রশ্নে শব্দ পরিবর্তন করতো. আর উল্টোদিকে বসে থাকা লোকটি মনে করতো, যে সে বুদ্ধিদীপ্ত কোনো লোকের সাথে বাক্যালাপ করছে. কিন্তু এভাবে চিরকাল চলতে পারতো না.

ঐ সব প্রোগ্রাম মেটেরিয়াল গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ পালন করতে পারতো না, শুধু পার্টনারের ভূমিকা নিত. ওগুলোকে কৃত্রিম মস্তিস্ক বলে অভিহিত করাও ঠিক হবে না. তবে রাশিয়ার এ্যাপ্লায়েড ম্যাথামেটিক্স ইনস্টিটিউটের কর্মী মিখাইল গর্বুনোভের মতে, এই অভিমুখে গবেষণা সুফল দেবে.

এসব নিস্কর্মাদের কাজ নয়. এখানে বাস্তবিকই ভাষার বিভিন্ন সিনট্যাক্স, মরফোলজি বিশ্লেষণ করা হয়. যন্ত্রের তরফ থেকে কথাবার্তা হতে হবে পরিষ্কার, অন্যথায় মানুষ তাকে পার্টনারের ভূমিকায় মেনে নেবে না. এই স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রচুর চেষ্টা করা দরকার, যা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে কাজে লাগবে.

আপাততঃ যন্ত্রদের সামর্থ্য সীমাবদ্ধ. তবে মনে করা হচ্ছে, যে যন্ত্র যদি মানুষের প্রশ্নাবলীর ৩০% ক্ষেত্রে মানুষকে ঠকাতে সক্ষম হয়, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধির কথা বলা যাবে. রাশিয়ার ‘ইয়েভগেনি’ নামক প্রোগ্রাম ১৫০টি প্রস্তাবিত সংলাপে ২৯,২% ক্ষেত্রে মানুষকে ঠকিয়েছে. এই ফলাফলের সুবাদেই রাশিয়ার দল বৃটেনে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেছে.

সাইবারনেটিক্স ইনটেলেক্টের ক্ষেত্রে এটা বড়সড় অগ্রগতি. এই ধরনের প্রোগ্রামের দৌলতেই প্রোগ্রামারদের বিশ্বাস, যে মানবসমাজ কম্পিউটারকে প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক মানে বোঝাতে সমর্থ হবে, যেমন ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে.