ভারত, ইরান ও আফগানিস্তান ইরানের চাবাহার বন্দরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. তেহরানে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সংস্থার সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগে ঐ ৩ দেশ তিনপাক্ষিক কার্যকরী কমিটি গঠণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে. ঐ কমিটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে কর্তব্য ও কাজের অভিমুখ নির্ধারণ করবে. ইরান ঐ বন্দরের উন্নতিকল্পে ৩৪ কোটি ডলার ব্যয় করবে. ভারত ঐ প্রকল্পে ৫,৫-৭ কোটি ডলার লগ্নি করবে.

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে ঐ বন্দরের প্রতি ৩টি দেশের এত আগ্রহ কেন? প্রথমতঃ, চাবাহার বন্দর ২০১৪ সালের পর থেকে আফগানিস্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে. ইরান ও ভারতের মধ্যে বোঝাপড়া আরও এই কারণে, যে পাকিস্তান ভারতকে তার ভূখন্ড দিয়ে সংক্ষিপ্ততম পথ দিয়ে যোগাযোগ করতে বাধা দিচ্ছে.

ভারত, ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বোঝাপড়া আঞ্চলিক স্বার্থেই সীমাবদ্ধ নয়. মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া বড়সড় খেলায় তারা প্রভাব খাটাতে চায়. আমাদের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলছেন, যে এই খেলায় পরিবহন করিডোরের মুখ্য ভূমিকা থাকবে.

আমেরিকার বড় রেশমী পথ পুণরূদ্ধার করার লবি মধ্য এশিয়ার দেশগুলিতে নিজের নাক গলানোর উদ্দেশ্যেই. আমেরিকার লক্ষ্য হচ্ছে খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ ঐ এলাকা থেকে রাশিয়া ও চীনকে উত্খাত করা. চীনও ভারতের চারদিকে উপগ্রহের বেষ্টণী গড়ছে. চীনের প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে মধ্য এশিয়ার সাথে চীনের পরিবহন যোগাযোগের জন্য একগাদা পথ গড়া হচ্ছে. এখানে পাকিস্তানের প্রচুর সম্ভাবনা. চীনের সাহায্যে নির্মীয়মান গোয়াদর বন্দর পারস্য উপসাগর থেকে চীনের দূরত্ব কমাবে, অন্যদিকে ঐ এলাকায় চীনের উপস্থিতি জোরদার করবে.

কয়েকদিন আগে ভারতের ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ লিখেছে, যে এই বছর শেষ হওয়ার আগেই চালু হবে চীনের ইয়ুননান প্রদেশ থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন, যা ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে. চীন উপরন্তু এরপরে মিয়ানমা ও বাংলাদেশেও পরিবহনের পরিকাঠামো বানানোর কাজে হাত দিতে চায়, যা ভারতের পূর্ব প্রতিবেশীদের সাথে ব্যবসার ক্ষতি করবে.

পরিবহন করিডোর আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়া হয়ে ককেশাস পেরিয়ে উত্তর ইউরোপ পর্যন্ত যাবে. এটা শুধু নতুন রুটেরই সৃষ্টি করবে না, য়া আমেরিকা ও চীন প্রস্তাবিত রুটগুলির বিকল্প, আরও যে সব দেশকে আজকাল আর পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না, তাদেরও পাল্লাভারী হবে.