জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের ১৬-তম শীর্ষ সম্মেলন তেহেরানে শুরু হওয়ার আগে কেচ্ছা হওয়ার আশঙ্কা ছিল. উত্তেজনা বেড়েছিল আমন্ত্রিতদের তালিকা নিয়ে, বিশেষতঃ যখন জাতিসংঘের সাধারন সম্পাদক ঘোষণা করেছিলেন, যে তিনিও আসবেন. ইরানে শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে সরকারীভাবে ২৬শে আগস্ট, কিন্তু যোগদানকারীরা সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছেন.

পান কি মুন শেষপর্যন্ত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে যাবেন. ইস্রায়েল ও ইউরোপীয় সংস্থাগুলির আপত্তি সত্ত্বেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. তারা ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদনেজাদের আরও একবার ইস্রায়েল বিরোধী মন্তব্যে ক্ষুব্ধ. কিন্তু পান কি মুন বলেছেন. যে ইরানের পারমানবিক প্রকল্প ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সাথে আলাপ করার এরকম সুযোগ ছাড়া যায় না.

সম্মেলনের সংগঠকদের প্যালেস্টাইনের শীর্ষ নেতাদের নেমন্তন্ন করা নিয়েও সমস্যা হয়েছিল. প্যালেস্টাইন পুরোমাত্রার স্বীকৃত রাষ্ট্র না হলেও ঐ সংস্থার সদস্য্. ২০০৭ সালে হামাজ গাজা সেক্টরে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটানোর পরে ঐ রাষ্ট্র দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে. প্রথমে ইরান উভয়পক্ষের শীর্ষনেতা ইসমাইল হানিয়ু ও মাহমুদ আব্বাসকে নেমন্তন্ন করেছিল. কিন্তু উভয় নেতাই ঘোষণা করেছিলেন, যে বিরোধী নেতার উপস্থিতিতে তারা সম্মেলনে যোগ দেবেন না. অবশেষে শুধু মাহমুদ আব্বাস সেখানে গেছেন.

জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পত্তন হয়েছিল ১৯৬১ সালে, যাতে কোনো সামরির ব্লকের সাথে যুক্ত হতে না হয়. আজকের দিনে ঐ সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১২০ – যাদের অধিকাংশই এশিয়া, আফ্রিকা এ লাতিন আমেরিকার. মস্কোর প্রাচ্যতত্ত্ববিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সের্গেই দ্রুঝিলোভস্কির মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই আন্দোলনের গূঢ় কর্তব্য আছে.

নতুন সব কর্তব্য হাজির হয়েছে. যেমন পারমানবিক শক্তির প্রয়োগ থেকে বিরত হওয়া অথবা উল্টে পারমানবিক প্রযুক্তি হাতে পাওয়ার অধিকার নেওয়া. তেহরানে সমবেত হয়েছে অনেক দেশের প্রতিনিধিরা, যাদের পরিস্থিতি ইরানের মতোই. কখন নিজস্ব রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জোরদার করতে হবে, সেটা পশ্চিমী দুনিয়ায় কারো পছন্দ হচ্ছে কিনা – সেটা না ভেবেই করবার জন্য্ ইচ্ছুক দেশের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে.

তেহরানে জড়ো হয়েছেন ১২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা, যাদের মধ্যে ৫১টি দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীরা. সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীও তেহরানে যাবেন.

রোববারে ইরানের রাজধানীতে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠাণে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনকে সব আন্তর্জাতিক অধিকার মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে. কায়রো তেহরানকে সংস্থার সভাপতিপদ অর্পণ করেছে. ইরান আগামী ৩ বছর ধরে সংস্থার সভাপতির আসনে থাকবে.