এবছর মস্কোর জন্মদিবস পালিত হবে এই স্লোগানে – ‘পৃথিবীর সেরা শহর’. ১লা ও ২রা সেপ্টেম্বর মস্কো ও নিকটবর্তী শহরতলীতে ৮৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠাণের আয়োজন করা হবে. সংগঠকরা উত্সবে দেখাতে চায়, যে মস্কোয় বসবাস করা আরামপ্রদ.

‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নগরী’ – এটা প্রয়াত জনপ্রিয় গায়ক মুসলিম মোগামায়েভের মস্কো নগরীর প্রতি উত্সর্গীকুত একটি গান. সংগঠকেরা এবছরে চেষ্টা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মস্কোবাসী তাদের স্বাদ অনুযায়ী কোনো ফাংশান খুঁজে পায় – বলছেন মস্কোর সংস্কৃতি দপ্তরের প্রধান সের্গেই কাপকোভ.

আমরা চাই, যাতে নগরীর প্রত্যেকটি স্কোয়ারে ক্রীড়ামোদীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেন তারা সপরিবারে সেখানে আসে, উঁচু মানের গান-বাজনা শুনতে পারে অথবা আধুনিক শিল্প প্রত্যক্ষ করতে পারে. আমরা চেষ্টা করেছি নগরীর জন্মদিবসকে সরকারী বা গুরুগম্ভীর না করতে, বরং এটা হবে সাংস্কৃতিক উত্সব.

১লা সেপ্টেম্বর রেড স্কোয়ারে ‘ভালোবাসার নগরী-নাচের জমানা’ নামক অভিনয় দিয়ে উত্সব শুরু হবে. ঐ অভিনয় দর্শকদের মস্কো নগরীর গত ২০০ বছরের ইতিহাস সবিষদে জানাবে.

নগরীর মিউজিয়ামগুলি ঐতিহ্যগতভাবে বিনামূল্যে এই দুইদিন ইচ্ছুক সবাইকে ঢুকতে দেয়, শহরের থিয়েটার ট্রুপগুলি রাস্তায় অভিনয় করে, ‘লাইব্রেরীর সদস্য হও’ বলে এ্যাকশনও করা হবে. মস্কোর কিছু কিছু কল-কারখানায়ও অবাধে ঐ দুদিন যাওয়া যাবে, যেখানে উত্পাদন প্রক্রিয়া দর্শকদের বিষদে দেখানো হবে.

নগরীর ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে বেষ্টনী করা রিং-রোডে এক কিলোমিটার ব্যাপী টেবিল পাতা হবে, যেখানে খাওয়া যাবে, পাঠ করা যাবে, আড্ডা মারা যাবে. আর একটা ব্যুলেভারে নিজের মনপসন্দ ফুলের ব্যুকে সাজানো যাবে.

রাশিয়ায় ফ্রান্সের রাষ্ট্র দূতাবসের তত্ত্বাবধানে ১লা সেপ্টেম্বর নগরীর কেন্দ্রে একটি স্কোয়ারে ‘প্যাসেঞ্জার’ নামক ফরাসী ট্রুপ এ্যাক্রোব্যাটিক অভিনয় প্রর্দশন করবে. তাদের বিষয় হবে – বিশ্বের সৃস্টি.

সলিয়ানকায় অবস্থিত মিউজিয়ামের অধ্যক্ষ ফিওদর পাভলোভের দৃঢ়বিশ্বাস এই, যে জন্মোত্সব সবাইকে দেখাবে, যে আধুনিক মস্কোয় থাকা কত আরামপ্রদ.

 

মস্কোয় বসবাস করা সবার পক্ষেই আরামপ্রদঃ যে সব পরিবারে বহু সন্তান, যারা জীবিকার্জনের জন্যে বিদেশ থেকে এখানে এসেছে, ছাত্রদের জন্য, শিশুদের জন্য. যারা কাঠিণ্যের অভিযোগ করে, তাদের জন্যেও মস্কো ভালো. নগরীর জন্মদিবস তাদের সেটা অনুভব করতে সাহায্য করবে.

বিপুল মাত্রায় ফাংশান হলেও নগরীর অধিকাংশ রাস্তাঘাটই অবরোধ করা হবে না, যেখানে হবে তাও সাময়িক. সুতরাং গাড়িচালকদের তেমন কোনো অসুবিধা হবে না.