মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার দুনিয়ায় রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থা সম্প্রসারনের তোড়জোড় শুরু করেছে. এবারে মতলব হচ্ছে এশিয়ায় ও দূরপ্রাচ্যে ঐ ব্যবস্থা বসানোর.

আমেরিকা জাপানের দক্ষিণে কোনো একটা দ্বীপে রাডার বসানো ও এশিয়ার অন্য কোনো দেশে আরও একটা রাডার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. ‘দ্য ওয়াল স্ট্রীট জার্ণাল’ এই খবর দিয়েছে. ওয়াশিংটন সেইসাথেই ২০১৮ সালের মধ্যে সামরিক নৌবাহিনীতে সমর জাহাজে রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থা বসানো জাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬টি পর্যন্ত করতে চায়. অধিকাংশ ঐ সব জাহাজ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নোঙর করে থাকবে.

অস্ত্রসজ্জা বাড়ানোর অজুহাত হিসাবে উত্তর কোরিয়া থেকে সম্ভাব্য বিপদের কথা বলা হচ্ছে. তবে সমর রাজনীতির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্দর পেরেনঝিয়েভের মতে এটা করা হচ্ছে চীনকে বশে রাখার জন্য.

আমেরিকা প্রকাশ্যে বলতে পারছে না, যে তারা চীনের বিরূদ্ধে অস্ত্রসজ্জা করছে, কারণ সেক্ষেত্রে তাদের মতিগতি পরিষ্কার হয়ে যাবে ও চীনের সাথে সংঘাত শুরু হবে. আর এটা উত্তর কোরিয়ার বিরূদ্ধে – এই বক্তব্য সংঘাত এড়াতে সাহায্য করে. কারণ পিয়ং-ইয়ং আন্তর্জাতিক স্তরে বিচ্ছিন্ন ও তার বিরূদ্ধে কথা বলা সুবিধাজনক.

তবে ইতিমধ্যেই আমেরিকার রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থা চীনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে. বিশেষজ্ঞদের করা হিসাব অনুযায়ী চীনের দখলে ২০০টা মতো পারমানবিক ওয়ার-হেড আছে. তাদের মধ্যে কেবল ৪০-৫০টা আমেরিকার ভূখন্ড পর্যন্ত উড়তে সক্ষম. তদুপরি চীনে আগে থেকে সময়মতো পারমানবিক আঘাত সম্পর্কে সতর্কবাণী দেওয়ার ব্যবস্থার অনুপস্থিতি আমেরিকাকে যে কোনো মুহুর্তে আঘাত হানার সুযোগ দেবে.

রুশী আমেরিকা ও ক্যানাডা ইনস্টিটিউটের হিসাব মতো বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের উপর সাবমেরিন থেকে ৫০০-রও বেশি ওয়ার-হেড বর্ষন করতে সক্ষম.

চীনের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার রকেটগুলোকে ধরে ফেলার জন্য আমেরিকা জাপানে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ও তাইওয়ানে ‘প্যাট্রিয়ট’ রকেট কমপ্লেক্স বসাচ্ছে.

সেইসাথেই রুশী এশীয়া ও নিকটপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপিকা ইভেত্তা ফ্রলোভার মতে অদূর ভবিষ্যতে চীনের পক্ষ থেকে আমেরিকার উপর আক্রমণের কোনো সম্ভাবনা নেই.

এশিয়ায় রকেট প্রতিরোধী কমপ্লেক্স বসানোর বিষয়ে আমেরিকার সিদ্ধান্ত প্রথমতঃ চীনকে জব্দ করে রাখার উদ্দেশ্যে, যেখানে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক স্বার্থই প্রধান. চীন রাশিয়ার সাথে সাথেই রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থার সম্প্রসারনের সমালোচনা করে. চলতি বছরে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ তাদের সাথে গলা মিলিয়েছে. জুন মাসে শাংহাই সংস্থার রাষ্ট্রপ্রধানরা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, যে কোনো একটা দেশ বা একসারি দেশের পক্ষ থেকে একপাক্ষিক রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থার সম্প্রসারন গোটা দুনিয়ার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক.