সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সৈন্যবাহিনী বড় বাণিজ্যিক শহর আলেপ্পোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোমাত্রায় কায়েম করেছে. বিরোধী জঙ্গীদের দামাস্কাসের শহরতলী থেকেও তাড়ানো হচ্ছে. কিন্তু পশ্চিমী দেশগুলি এই সমস্যার মীমাংসা শুধুমাত্র চলতি শাসনব্যবস্থার উচ্ছেদের মূল্যেই দেখছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক বিশেষকরে আয়োজিত অধিবেশনে এই নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত করেছে. মস্কোয় কিন্তু তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে অন্য পন্থা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছিল.

আঙ্কারায় তথাকথিত ‘দ্রুত প্রতিক্রিয়া গ্রুপে’র প্রথম সাক্ষাত্কার হয়ে গেল. ঐ বৈঠকে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তুরস্কে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ছাড়াও উপস্থিত ছিল দুই দেশের সামরিক নেতারা. কোন সিদ্ধান্তে তারা পৌঁছেছে, সেটা জানানো হচ্ছে না. তবে জানা গেছে, যে বাশার আসাদকে উচ্ছেদ করার পরে সিরিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে কথা হয়েছে. সেরকম ভবিতব্যকে এগিয়ে নিয়ে আসার পদ্ধতি সম্মন্ধে চলতি সপ্তাহে মন্তব্য করেছেন বারাক ওবামা. তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যে যদি সিরিয়া রাসায়নিক বা জীবানু অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে সে দেশে সামরিক অনুপ্রবেশ করা হবে.

অন্যদিকে এর আগে সিরিয়ার বিদেশমন্ত্রী জিহাদ মাকডিসি আভ্যন্তরীন সংঘর্ষে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছিলেন. একই সাথে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যে বিদেশী অনুপ্রবেশ ঘটলে তারা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে. তবে অন্য বিপদও আছেঃ রাসায়নিক অস্ত্রভান্ডার দখল করতে পারে বিরোধীরা.

রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ বলেছেন, যে আপাততঃ সিরিয়ার শাসকরা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ না করার গ্যারান্টি দিচ্ছে.

আমরা সিরিয়ার সরকারের সাথে এই বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলেছি ও এই গ্যারান্টি পেয়েছি, যে রাসায়নিক অস্ত্রশস্ত্র যেখানে মজুত করা আছে, সেখানেই লুকিয়ে রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে. তবে সিরিয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল. সবাই জানে, যে বিরোধীদের মধ্যে ‘আল-কায়িদা’র ক্যাডার সহ বহু উগ্রপন্থী আছে. যদি কোনোক্রমে উগ্রপন্থীদের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র পৌঁছায়, তবে তার পরিণতি হবে মারাত্মক.

সবচেয়ে ভালো পন্থা হল সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীদের আলোচনার টেবিলে জড়ো করা. গত সপ্তাহে সিরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাদ্রি জামিল মস্কো সফর করে গেছেন. তার সাথে সাক্ষাত্কারে সিরিয়ার বৃহত্তম বিরোধী গোষ্ঠী- জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাথে আলাপ-আলোচনা করা নিয়ে কথা হয়েছে. কথা চলছে সবপক্ষের তরফ থেকে হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করা নিয়ে. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভের মতে এছাড়া অন্য কোনো গতি নেই.

৩০শে জুন জেনেভায় সিরিয়ার ব্যাপারে উদ্যোক্তা দেশগুলির দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্তের সাথে এটা পুরোপুরি মানানসই. আমার এখনো দৃঢ়বিশ্বাস, যে ঐ বোঝাপড়া পালন করা মঙ্গলজনক. সিরিয়ার আভ্যন্তরীন বৃহত্তম বিরোধী গোষ্ঠী যে এই পথেই এগোচ্ছে, সেটা আমাদের পক্ষে কল্যানজনক. সম্ভাবনা অবশ্যই ১০০ শতাংশ নয়, তবে সম্ভাবনা আছে.