বিগত সময়ে ন্যাটো জোটের বেশ কিছু দেশ সিরিয়া ঘিরে সামরিক অনুসন্ধানের কাজ সক্রিয় করে তুলেছে সামুদ্রিক ও আকাশ পথে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দিয়ে. এই ধরনের খবর দিয়েছে ইন্টারফ্যাক্স সংস্থা, এক আরব রাষ্ট্রের রাজধানীর সামরিক- কূটনৈতিক উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে. “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনের অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো বিমান গুলি প্রায় সমস্ত সময় ধরেই সিরিয়ার ভিতরে অনুসন্ধান করছে”, তার সীমান্ত বরাবর উড়ান জারী রেখে, - খবর দিয়েছেন সংস্থার প্রতিনিধি. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “একই সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্তের কাছে নিয়মিত ভাবে আকাশে ঝুলে রয়েছে আমেরিকার পক্ষ থেকে অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো পাইলট বিহীণ বিমান গুলি”. এর আগে জার্মানীর সংবাদপত্র “বিল্ড আম জন্টাগ” নিজেদের উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে জানিয়েছিল যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জার্মানীর নৌবাহিনীর এক জাহাজ রয়েছে, যার বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি সিরিয়ার সীমান্তের ভিতরে ৬০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিরিয়ার সেনা বাহিনীর চলাচল খেয়াল করতে পারে. সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ থেকে পাওয়া তথ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনের গুপ্তচর সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে, যারা সিরিয়ার জঙ্গীদের সঙ্গে এই খবর ভাগ করছে.

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা যে রকম উল্লেখ করেছেন যে, মনে তো হয় না যে, এত বিশাল রকমের অনুসন্ধানের প্রযুক্তি আনা হয়েছে স্রেফ জঙ্গীদের গুপ্তচর বৃত্তির ফলে পাওয়া তথ্য সরবরাহ করার জন্য. তাই এই ধরনের গুপ্তচর বৃত্তি বাড়ার অন্য কারণ দেখা দরকার, অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে, - এই রকম মনে করে ভূ রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর উপ সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“বাস্তবে, সিরিয়া নিয়ে লড়াইয়ের তৃতীয় পর্যায়ে উপনীত হওয়া গিয়েছে. প্রথম অধ্যায়ে চাওয়া হয়েছিল সিরিয়া সমস্ত জনতাকে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইতে সামিল করা – কিন্তু তা করা সম্ভব হয় নি, কারণ সরকার এক গুচ্ছ রাজনৈতিক সংশোধন করে সামাজিক পরস্পর বিরোধিতার তীক্ষ্ণ কোণ গুলিকে কিছুটা মসৃণ করে দিয়েছিল. তাছাড়া, জঙ্গীরা, যারা সে সময়ে কিছু জন বসতি দখলে আনতে পেরেছিল, তারা জানোয়ারের মতো স্থানীয় জনগনের উপরে অত্যাচার করেছিল, যদি তারা সরকারকে সমর্থন করে থাকে, আর জনগন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল. দ্বিতীয় অধ্যায় বর্তমানে বাস্তবে শেষ হতে চলেছে আলেপ্পো শহরে. এটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের যথেষ্ট শক্তিশালী দলকে দিয়ে, যাদের তুরস্ক, লিবিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে সিরিয়াতে আমদানী করা হয়েছিল, তাদের দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল, স্থানীয় জনতার উপরে নির্ভর না করেই সিরিয়াতে ক্ষমতা দখল করার. কিন্তু গত প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই অপারেশনও নিষ্ফল হয়েছে. সমস্ত শহর থেকেই জঙ্গীদের ধ্বংস করে বের করে দেওয়া হচ্ছে, আলেপ্পো, অংশতঃ এখনই মুক্ত হয়েছে.

এই ধরনের পরিস্থিতিতে সিরিয়ার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ন্যাটো জোটের আর কিছুই হাতে নেই, সরাসরি নিজেরা সম্পূর্ণ রকমের যুদ্ধ প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া. এই প্রসঙ্গে খুবই অল্প দিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সেই ঘোষণা, যা সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বা পরিবহন নিয়ে করা হয়েছে, তা এই বিষয়েরই ইঙ্গিত দিয়েছে. আর খুবই সক্রিয় ভাবে করা অনুসন্ধান – এটা সিরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অপারেশনের প্রস্তুতির একটা অংশ মাত্র”.

আপাততঃ সেই ধরনের অপারেশনের জন্য খুব একটা কম বাধা নেই. আর এর মধ্যে সবচেয়ে মুখ্য হল – রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্তের অনুপস্থিতি, যা সামরিক অপারেশনকে আগ্রাসনে পরিণত করবে, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ বিরুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক আইনেরও বিরুদ্ধ. এই সবের সঙ্গে, নির্বাচনের প্রাক্কালে ওবামা নিজেও সরাসরি ভাবে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে একটি আরব দেশের জন্য প্রত্যক্ষ বিরোধে যেতে দ্বিধা বোধ করছেন, যে দেশকে শতকরা ৯০ ভাগ আমেরিকার লোক মানচিত্রেও খুঁজে পাবে না. কিন্তু এটা – শুধু এখন. নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে, ভোটের ফলাফলের উপরে নির্ভর না করেই. আর সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, ন্যাটো জোট তাই এখনই তৈরী হচ্ছে এই মুহূর্তেরই জন্য.

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের লোকরা বাশার আসাদকে টেনে নামানোর জন্য রাস্তা ধরেছে ও তার থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেই না. আর সব বিচার করলে, ওয়াশিংটনের জন্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর ফলে সিরিয়াতে কি হতে পারে ও সমস্ত এলাকা জুড়ে কি হতে পারে. এই ভাবেই, সিরিয়াতে বর্তমানে শুধু সিরিয়ার ভবিষ্যতই নির্ধারণ করা হচ্ছে না. কারণ হঠাত্ করেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর আগে ঘোষণা করেন নি যে, “কিভাবে সিরিয়ার সঙ্কটের সমাধান হবে, তা একটা ভূমিকা পালন করবে সেই বিষয়ে যে, এর পরে বিশ্ব কি রকমের হবে, তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের উপরে নির্ভর করবে অথবা এমন একটা জায়গা বলে দেখা হবে, যেখানে “জোর যার মুল্লুক তার””.