ভারতে মনে হয় রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষরা প্রাক্ নির্বাচনী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে. শুক্রবার – এই নিয়ে চতুর্থ দিন হল – যখন ভারতীয় লোকসভা স্বাভাবিক কাজকর্মই শুর করতে পারে নি. বিরোধী পক্ষ চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির ও শিব সেনার নেতৃত্বে পার্লামেন্টের কাজকর্ম বয়কট করেছে ও এমনকি নিজেদের লোকসভা সদস্যদের পদত্যাগের হুমকি দিয়েছে. তাদের মোদ্দা দাবী হল – প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের পদত্যাগ.

এবারে মন্ত্রীসভার উপরে আক্রমণের কারণ যথেষ্ট সিরিয়াস দেখানো হয়েছে. জাতীয় হিসাব পরীক্ষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দেওয়া কয়লা খনির কয়লা উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে অস্বচ্ছ ভাবে, কোনও রকমের উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই ও কম করে উল্লিখিত মূল্য, যার ফলে দেশ নাকি ১, ৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বা তিন হাজার সাতশো কোটি ডলারের সমান অর্থ মূল্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে.

প্রধানমন্ত্রী নিজে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ও তিনি তৈরী আছেন পার্লামেন্টের পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রীসভার এই সম্বন্ধে বক্তব্য সমেত রিপোর্ট পেশ করতে. তার উপরে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের দিক থেকেও বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, এই কথা ঘোষণা করে যে, যদি কোনও নিয়ম ভঙ্গ হয়েও থাকে, তবে তা হয়েছে সেই সমস্ত রাজ্যে, যেখানে ক্ষমতায় ছিল বিরোধী পক্ষরা, যারা কেন্দ্রের সমস্ত শক্তি প্রয়োগকে এই ক্ষেত্রে ধ্বংস করেছে.

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের নেত্রী শ্রীমতী সোনিয়া গান্ধী একই সঙ্গে তাঁর জোটের দলের লোকসভা সদস্যদের আহ্বান করেছেন কোন রকমের প্রতিরক্ষার অবস্থান না নিয়ে বরং উল্টো আক্রমণ করতে. আর এর জন্য ভিত্তিও রয়েছে. যেমন, কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে একটি সদ্য হওয়া স্ক্যান্ডাল অনুযায়ী, তা সরাসরি ভাবেই বিজেপি দলের সঙ্গে যুক্ত. জুলাই মাসের শেষে কয়লা খনির ছাড়পত্র সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কর্নাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি দলের এক নেতা বি. এস. ইয়েদ্যুরাপ্পা.

প্রসঙ্গতঃ, বর্তমানের স্ক্যান্ডালের অর্থ অনেকটাই সুদূর প্রসারিত, তা শুধু একটি নির্দিষ্ট কারণেই হয় নি. পার্লামেন্টে বিরোধ সেই জটিল পরিস্থিতিকেই প্রতিফলিত করেছে, যা আজ ভারতে হয়েছে - আর তা শুধু কয়লা শিল্প নিয়েই নয়, এই কথা মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“বাস্তবে বর্তমানের স্ক্যান্ডালের অর্থ হল যে, সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিই প্রাক্ নির্বাচনী লড়াই করতে নেমে পড়েছে, যা হওয়ার কথা ২০১৪ সালে, আর সেই নির্বাচন হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই এই লড়াই খুবই ঝুঁকি পূর্ণ, তাই বর্তমানের চাপান উতোর মনে তো হয় না যে, কোন রকমের নির্দিষ্ট পরিবর্তনে উপনীত করবে. কারণ যেহেতু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তাদের জোটের দল গুলিকে নিয়ে পার্লামেন্টে যথেষ্ট ভাল করে থাকার মতো বেশী সংখ্যক আসন দখলে রেখেছে, তাই কোন রকমের মন্ত্রীসভায় অবিশ্বাস সংক্রান্ত ভোট গ্রহণ এখানে হতে পারবে না, অন্তত অতি আসন্ন ভবিষ্যতে. বিরোধী পক্ষের প্রধান শক্তি বিজেপি, যতই ভয় দেখাক না কেন যে, তারা পার্লামেন্টে ইস্তফা দেবে, মনে তো হয় না যে, এই পথে হাঁটবে. প্রথমতঃ, কারণ হল যে, আরও ছোট যে সব দলের সঙ্গে তাদের জোট, তাদের মধ্যে একমাত্র শিব সেনা বাদ দিলে অন্য কেউ এই ধরনের চরমপন্থী ব্যবস্থা মানতে তৈরী নয়, আর দ্বিতীয়তঃ, পার্লামেন্ট থেকে এখন চলে গেলে তা দলের জন্য মঞ্চ ত্যাগ করার মতো হবে ও তা খুবই সিরিয়াস ভাবে নির্বাচনের আগে ভোটারদের সঙ্গে কাজকর্মকে জটিল করে দেবে”.

এই ভাবেই, কার্য ক্ষেত্রে কোন রকমের চূড়ান্ত পরিবর্তন কেউই চায় না. প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন না ও কোন ভাবেই অন্তর্বর্তী নির্বাচন ঘোষণা করবেন না. আর বিরোধী পক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবী করেই যাবে, যাতে বিরোধী মানসিকতার একটা মাত্রা বজায় থাকে, সেই আশায় যে, এটা তাদের পক্ষের জন্য ভালই হবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে.