নিকটপ্রাচ্য দক্ষিণ আমেরিকা থেকে তৈরী হচ্ছে খাওয়ার জল আমদানী করতে ও খুবই দ্রুত তার স্ট্র্যাটেজিক সঞ্চয় ভাণ্ডার তৈরী করে ফেলতে চায়. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরেই জলের ভাগ নিয়ে বিরোধ রয়েছে. বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়েছেন যে, এশিয়াতে জলের অভাব এই মহাদেশে নতুন যুদ্ধের সূচনা করতে পারে.

খরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া, যা নিয়ে ইরান নিয়মিত ভাবে ভয় দেখাচ্ছে, তা প্রাথমিক ভাবে জড়িত রয়েছে বিশ্ব জোড়া খনিজ তেল বিপর্যয়ের সঙ্গে. তারই মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় এলাকার বেশ কিছু রাজতন্ত্রের জন্য এই হুমকি হবে পানীয় জল ছাড়া থাকার মতো. সৌদি আরব, কুয়েইত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমীরশাহীতে খরমুজ প্রণালী দিয়েই খাওয়ার জল আমদানী করা হয়. সামরিক ভাবে বাধার মুখে যাতে পড়তে না হয়, তার জন্য একেবারেই অবিশ্বাস্য সব পরিকল্পনা করা হচ্ছে. যেমন, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী ধারণা করেছে যে, তারা দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া এলাকার হিমবাহের প্রস্রবণ থেকে জল আমদানী করবে. সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর সরকারি কর্মচারীরা এমনকি ইতিমধ্যেই চিলি গিয়েছিলেন হিমবাহ সরেজমিনে দেখে আসতে.

পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের সময়ে ১৯৯১ সালে সাদ্দাম হুসেইনের সেনা বাহিনী আঘাত হেনেছিল জল পরিষ্কার করার কারখানা গুলির উপরে. এখন বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে যে, একই ধরনের ব্যাপার হতে পারে, যদি খরমুজ প্রণালীতে বিরোধ বাধে. তাই এলাকায় এখন ঐক্যবদ্ধ পাইপ লাইন ব্যবস্থা বসানো নিয়ে কথা হচ্ছে. তা জল পরিষ্কার করার কারখানা গুলির মধ্যে সংযুক্ত থাকবে ও জাতীয় পরিশ্রুত জল পরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তে কাজে লাগবে, যদি তা ধ্বংস হয়ে যায়. একই সঙ্গে জানা গিয়েছে যে, কাতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে প্রায় তিনশ কোটি ডলারের সমান অর্থ দিয়ে সঞ্চয় ভাণ্ডার বানানোর, যেখানে এক সপ্তাহের মতো ব্যবহার যোগ্য জল থাকবে. একই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর.

বোঝাই যাচ্ছে যে, এই রকমের কল্পনাকে চমকে দেওয়ার মতো সব প্রকল্প জলের সঙ্কটে কোন সর্বরোগহর দাওয়াই হতে পারে না. আর তখন জলের খুবই তীক্ষ্ণ অভাব একটা সমাধানের জন্য মুখ্য যুক্তি হতে পারে যে, অস্ত্রের শক্তি দিয়ে বহু লক্ষ মানুষের তৃষ্ণা পূরণের ব্যবস্থা করা হবে.

আরও বেশী তীক্ষ্ণ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়াতে: সেখানে বেশ কিছু দেশ, এখনই তৈরী আছে নদীর জন্য লড়াই করতে নামতে. যেমন ইসলামাবাদ দিল্লীকে জল নিয়ে “সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের” জন্য অভিযুক্ত করেছে, - সীমান্তবর্তী সিন্ধু নদের উপরে জল বিদ্যুত প্রকল্প তৈরীর জন্য জলের প্রবাহ বদলে দেওয়া হচ্ছে বলে. আর এর অর্থ হল – পার্শ্ববর্তী দেশকে সেচের জল থেকে বঞ্চিত করা ও তাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা.

ভারত ও চিনের মধ্যেও জল নিয়ে সমস্যা রয়েছে.চিনের ব্রহ্মপুত্র নদীর উপরে করা জল বিদ্যুত প্রকল্পের কারণে ও তিব্বতের অন্যান্য নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে বহু লক্ষ ভারতীয় কৃষকের সেচের জল না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে. মস্কোর কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি মসিয়াকভ “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করেছেন যে, একই ধরনের সমস্যা অনেক দিন ধরেই কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও লাওসের সামনে রয়েছে. তারও জলের অপ্রতুলতার সমস্যার সামনে পড়েছে, কারণ চিন মেকঙ্গ নদীর উপরে জল বিদ্যুত প্রকল্প করে বাঁধ দিয়েছে, তাই তিনি যোগ করে বলেছেন:

“মিস্টি জল নিয়ে বিরোধ এই সব অঞ্চলে – তার সঙ্গে যদি খুবই দ্রুত বেড়ে ওঠা জনসংখ্যার সমস্যাকে যোগ করা হয়, অর্থনৈতিক উন্নতিকেও হিসাবে আনা হয়, তাহলে জলের খরচ বৃদ্ধিও দেখা যাবে আর তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়েছে. এখানে দরকার, সম্ভবতঃ, কিছু খুবই সিরিয়াস আন্তর্জাতিক ভাবে শক্তি প্রয়োগের, যাতে কোন একটা জলের উত্স ভাগ ও ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বা অধিকার তৈরী করা সম্ভব হয়. অনেক পরিস্থিতি রয়েছে, যখন নদীর উত্স এক দেশে ও মোহনা অন্য দেশে. এটা খুবই সিরিয়াস বিরোধের কারণ হচ্ছে. কারণ যে দেশ এই মুহূর্তে এই সব জল সম্পদের অধিকারী, তারাই বাস্তবে তা নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারে, প্রতিবেশী দেশের ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা মাথায় না রেখেই.

আর তাও মনে রাখা দরকার, যে, এশিয়া মহাদেশ বিগত দুই দশক ধরে খুবই লক্ষ্যণীয় রকমের উন্নতি করেছে, আর বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উন্নতি করা এলাকা হয়ে রয়েছে. সুতরাং তাদের খুবই বেশী রকমের সুবিধা রয়েছে এশিয়ার দেশ গুলির সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য এই হুমকির একটা উত্তর খুঁজে বার করার”.