আদাব, প্রিয় বন্ধুরা!

শুরু করছি আমাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান – ‘ইসলাম ও মুসলমানেরা’.

রেডিও রাশিয়ার স্টুডিও থেকে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে ভাষ্যকার কৌশিক দাস.

আজ আপনারা শুনবেন---

ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্র হজের প্রস্তুতি নিচ্ছে. এই বিষয়ে বলবেন মুসলমানদের আধ্যাত্মিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান মুফতি ইসা-হাজি হামহোয়েভ.

সদ্য জর্ডানে হয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার হাফিজ প্রথম ষষ্ঠ স্থানে ঠাঁই পেয়েছে.

বাশকোরতাস্তান প্রজাতন্ত্রে মাদ্রাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করার প্রস্তুতি.

অতএব, আপনারা শুনছেন, আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান – ‘ইসলাম ও মুসলমানেরা’.

উত্তর ককেশাসের ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্রে হজযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে বাক্যালাপ হয়েছে. প্রজাতন্ত্রের মুখ্য প্রশাসক ইউনুস-বেক ইভকুরভের তত্ত্বাবধানেই ঐ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে. আমাদের সংবাদদাতাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ সম্পর্কে বিষদে জানিয়েছেন ইঙ্গুশেতিয়ায় মুসলমানদের আধ্যাত্মিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান মুফতি ইসা-হাজি হামহোয়েভ.

হজযাত্রার বিষয় আমাদের এখানে প্রজাতন্ত্রের প্রধান প্রশাসকের পর্যায়ে আলোচিত হয়. কেন? কারণ এবার হজে যাচ্ছে ১৫০০ জন – এটা ইঙ্গুশেতিয়ার জন্য খুব বড় সংখ্যা, যেখানে জনসংখ্যা ৫ লাখেরও কম. প্রজাতন্ত্রের মুখ্য প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সব পরিষেবা দপ্তরের প্রধানদের ঐ সভায় ডেকেছিলেন – সীমান্তরক্ষীদের, ডাক্তারদের, কাস্টমসের প্রধানদের. আমাদের জন্য ১৫০০ কোটা এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই পূরণ হয়ে গেছে. আমাদের হজযাত্রার জন্য ইচ্ছুক আরও ৪০০ জনের জন্য কোটা দরকার.

আগামী দেড়মাস ধরে গ্রুপের প্রধানরা তীর্থযাত্রীদের সাথে মিলিত হবেন ও তাদের হজের সব আচার-বিচার ব্যাখ্যা করে জানাবেন.

তীর্থযাত্রীদের শেখানোর জন্যে কাবার মডেল বানানো হবে. প্রজাতন্ত্রের মুখ্য প্রশাসকই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন. ইসা-হাজি বলছেন, যে ইঙ্গুশেতিয়ার রাজধানীতে ১ হাজারেরও বেশি লোক ধরতে সক্ষম, এরকম একটা গ্যালারীর উদ্বোধন করা হয়েছে. ওখানেই তীর্থযাত্রীদের তালিম দেওয়া হবে.

বছরের শুরুতে ইঙ্গুশেতিয়ার রাজধানী মাগাসের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা পেয়েছে. এটাও স্থানীয় মুসলমানদের জন্যে শুভসংবাদ.

ইসা-হাজি বলছেন – আমরা মাগাসের বিমানবন্দর থেকে রওনা দেব, এটাও তীর্থযাত্রীদের ঝক্কি কমাবে. আমরা মুনা পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছি, আর ফিরবো জিদ্দা থেকে. আমার মনে হয়, এই জন্যেই হজযাত্রায় ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে. ১০টা সরাসরি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে. সব প্লেনগুলি বোয়িং, যেখানে ১৬০ জনের বেশি যাত্রী ধরবে. তাছাড়া ২টো ফ্লাইটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে জর্ডান পর্যন্ত, যেখান থেকে তীর্থযাত্রীরা মক্কা ও মদিনায় পৌঁছাবে স্থলপথে. ইঙ্গুশেতিয়ার হজযাত্রা কমিটির সভাপতি বর্তমানে সৌদী আরবে আমাদের প্রজাতন্ত্রের তীর্থযাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা বলছেন.

মনে করিয়ে দিতে চাই, যে এই বছরে সৌদী আরব রাশিয়ার মুসলমানদের জন্যে সাড়ে কুড়ি হাজার আসন ধার্য করেছে.

রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা সম্মন্ধে শুনুন এবার.

জর্ডানের রাজা আবদেল্লার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত কোরান পাঠ প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার প্রতিনিধি আলি ইয়াকুপভ ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে. ৩৩ জন প্রতিযোগী প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল. রাশিয়ার প্রতিনিধি শুধুমাত্র লিবিয়া, মরক্কো, আলজিরিয়া, জর্ডান ও সৌদী আরবের পাঠকদের কাছে পরাজিত হয়েছে. আলির মতে, অনুরূপ কোরান পাঠের প্রতিযোগিতার বিপুল তাত্পর্য্য রয়েছে. প্রথমতঃ, পাঠকদের নিজেদের জন্যেই এটা উপকারী, কারণ তারা প্রতিযোগিতার জন্যে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়, নিজের জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করে. তারপরে প্রতিযোগিতা চলাকালীন নিজস্ব জ্ঞানের মাত্রাও পরখ করে নেওয়া যায় – বলছেন আলি. তাছাড়া এরকম প্রতিযোগিতা মুসলমানদের বন্ধুত্ব গড়তে ও যোগাযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে. জানাতে চাই, যে আলি এই নিয়ে ৪র্থ বার আন্তর্জাতিক কোরান পাঠের প্রতিযোগিতায় অংশ নিল.

ভোলগা তীরবর্তী অঞ্চলের মুসলিম আধ্যাত্মিক অধ্যাপনার প্রধান মুকাদ্দাস বিবারসোভ রাশিয়ার মুফতি পরিষদ প্রদত্ত সর্ব্বোচ্চ পদক পেয়েছেন – ‘আল-ফাহর’ পদক. পদক দেওয়া হয়েছে ভোলগা তীরবর্তী অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্যে গত ২৫ বছর ধরে, ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য, আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সদ্ভাব বজায় রাখার জন্য. মুকাদ্দাস বিবারসোভের জন্ম হয় ১৯৬০ সালে, তিনি ধর্মীয় পরিবারের সন্তান, বুখারার ‘মীর-আরব’ নামক মাদ্রাসা থেকে পাশ করেছিলেন. ১৯৮৭ সালে তাকে সারাতভে পাঠানো হয়েছিল. ভোলগা তীরবর্তী অঞ্চলের মুসলিম ইমামের পদে তাকে নিযুক্ত করা হয়. ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি বিকল্পহীন ‘মুসলমানদের সংবাদ’ খবরের কাগজের মুখ্য সম্পাদক. তিনি দুবার- ১৯৯২ ও ১৯৯৫ সালে মক্কায় হজযাত্রা করেছিলেন. বিবারসোভার গবেষণা কাজ রাশিয়ায় ও বিদেশে নিয়মিত প্রকাশিত হয়. তিনি সারাতভ শহরে জুম্মা মসজিদ গড়ার অন্যতম সংগঠক.

রাশিয়ার জাতীয় প্যারা-অলিম্পিক দলে ১৭ জন মুসলমান. লন্ডনে রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে তারা মস্কোর জুম্মা মসজিদে গেছিল. তাদের স্বাগত জানান রুশী মুসলমান সমাজের প্রধান রুশান হাজিয়াত আব্বাসভ. রাশিয়ানরা ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ড, সাঁতার, অশিচালনা, টেবিল টেনিস, বাইচ, জ্যুডো, তীরচালনা, সাইক্লিং শুদ্ধ মোট ১২টি ইভেন্টে অংশ নেবে.

দাগেস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাচ্চাদের গ্রীস্মকালীন ক্যাম্প ‘স্বর্গের পাখিরা’ বন্ধ করা হলো. বাচ্চাদের জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীল কাজের আয়োজন করা হয়েছিল. বাচ্চারা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছে, যে কি তারা শিখেছে গত দেড়মাসে. আর এটা ছিল কোরান পাঠ, সঠিকভাবে নমাজ পড়া ও আরবী ভাষা শিক্ষা. আপনারা নিজেরাই বাচ্চাদের সাফল্য মূল্যায়ণ করতে পারবেন.

রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলে বাশকিরিয়া প্রজাতন্ত্রে ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ৮টি মাদ্রাসা চালু আছে. সেরকম একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইলদার মালাখভ.

 

আমাদের নিয়মিত দিবস বিভাগে ২৫ জন পড়ে, সান্ধ্য বিভাগে পড়ে ১০০ জনেরও বেশি. মুলতঃ এরা ইমাম, যারা গ্রামে-গঞ্জের মাদ্রাসায় শিক্ষা দেয়. তারা আমাদের মাদ্রাসায় হায়ার কোয়ালিফিকেশন পাওয়ার জন্য এসেছিল. রবিবারের স্কুলও আছে, যেখানে আমরা সব ইচ্ছুককে ইসলামের মুলনীতি শিক্ষা দিই – বলছেন ইলদার হজরত. শিক্ষকদের মধ্যে ৩ জন বিদেশে উচ্চ ঐশ্লামিক শিক্ষা পেয়েছে. ভবিষ্যতে আমরা মুসলমানদের আধ্যাত্মিক পরিচালনার বিষয়ে সরকারী প্রকল্পের আওতায় পাশ করা ছাত্রদের উপর আশা রাখি. সুফল ইতিমধ্যেই আছে. ১ জন স্নাতক মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে এখন আমাদের মাদ্রাসায় পড়াচ্ছে. সবচেয়ে আনন্দজানক ব্যাপার হচ্ছে, যে সরকার আমাদের মদত দিচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন সাহায্য করছে, ধর্ম সম্পর্কিত পরিষদ মদত দিচ্ছে.

ঐ মাদ্রাসায় শিক্ষারতরা বাশকিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামতত্ত্বের ওপর লেকচার শোনে, প্রাচ্যের দেশগুলির ইতিহাস সম্পর্কে লেকচার শোনে বি.টি. বিশ্ববিদ্যালয়ে. ইলদার মালাখভ বলছেন – আমি সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে কোনো বিভেদ রাখতে চাই না. এই ব্যাপারে উনি ঐতিহ্য রক্ষা করছেন, কারণ, উফার মাদ্রাসার বরাবর সুখ্যাতি ছিল একইসাথে সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় শিক্ষা দেওয়ার জন্য.

ইলদার হজরত বলছেন – আমরা এখন আমাদের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখাচ্ছি, যাতে তাদের পেশাগত শিক্ষার মান উন্নত হয়. ইমামের মাইনের ওপর আজকের দিনে নির্ভর করা শক্ত, তাই আমরা বাড়তি রুজি-রোজগারের সামর্থ্য তৈরি করে দিচ্ছি.

এটাই মুসলিম যুব সম্প্রদায়কে আকর্ষন করে ঐ মাদ্রাসায়. সেপ্টেম্বর থেকেনতুন ১৯ জন ছাত্র ওখানে পড়াশোনা শুরু করবে.