লেবাননের উত্তরে ত্রিপোলি শহরে চরমপন্থী সুন্নী গোষ্ঠী, যারা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে ও আলাভিত গোষ্ঠী, যারা সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে সমর্থন করে, তাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে. এর ফলে কম করে হলেও ৮ জন নিহত হয়েছে, আহতদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই কয়েক দশক ছাড়িয়েছে. দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্য নেওয়া সমস্ত প্রয়াস এখনও কোনও ফল দিতে পারে নি.

“রেডিও রাশিয়াকে” পরিস্থিতি সম্বন্ধে খবর দিয়ে “লেবাননের উত্তরে জাতীয় কেন্দ্রের” ডিরেক্টর আল- হাজ কামাল আল-খৈর মন্তব্য করে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

“বোঝাই যাচ্ছে যে, যা এখন লেবাননের উত্তরে ঘটছে, তা সরাসরি ভাবেই সিরিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত. এখানে সমস্যা হল যে, দেশের এই অঞ্চল বর্তমানে প্রথম কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে নানা রকমের অস্ত্র সৈন্য ও রসদ সরবরাহের জন্য. এখানেই সিরিয়া ও লেবাননের সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ভাড়া করা সেনা বাহিনী, যারা রে সিরিয়া বিদ্রোহীদের দলে গিয়ে ভিড়ছে, তারা জড়ো হয়েছে, সিরিয়ার সেনা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য. তাছাড়া, লেবাননের উত্তর দিক দিয়েই পাচার করে পাঠানো হচ্ছে অস্ত্র ও রসদ. দেশের সেনা বাহিনী চেষ্টা করছে এটা বন্ধ করতে, যা খুবই স্বাভাবিক যে, অনেকেরই ভাল লাগছে না. এই প্রসঙ্গে বোঝা দরকার যে, বাইরের থেকে নির্দিষ্ট সহায়তা না পেলে - প্রাথমিক ভাবে আর্থিক, - এই ধরনের সংঘর্ষের আয়োজন করাও সম্ভব হত না. অর্থাত্ বলা যেতে পারে যে, সিরিয়া সংক্রান্ত মার্কিন স্ট্র্যাটেজির অংশ হচ্ছে এই লেবাননের সংঘর্ষও”.

একই ধরনের মতামত বর্তমানের ঘটনার কারণ নিয়ে ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভিয়াচেস্লাভ মাতুজভ:

“লেবাননের ঘটনা, কোনও সন্দেহ নেই যে, সেই কানা গলি থেকেই টেনে আনা হয়েছে, যাতে সিরিয়া নিয়ে আমেরিকার রাজনীতি পৌঁছেছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করে সরাসরি বর্তমানের ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে, অর্থাত্ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যবহার করে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী দিয়ে সিরিয়াকে ধ্বংস করে ও সেখানে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দখল করতে না পারাতে, মনে হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের দেশ গুলি এই এলাকার সিরিয়ার বিষয়ে শান্তি আলোচনায় বিমুখ বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র ও আরও নানা বিষয়ে সাহায্য করে চলেছে. এই অস্ত্রের কিছুটা লেবাননের উত্তরের এলাকা দিয়ে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে এই এলাকার অনেক স্থানীয় বাসিন্দাই খুশী নয়, তাদের অঞ্চল দিয়ে যুদ্ধ রপ্তানী করায়. ফলে বিরোধের জমি তৈরী হয়েই রয়েছে. লেবানন এই জন্যই সারা বিশ্বে খ্যাত, যে, সেখানে বহু ধর্ম মতের লোকের একত্রে বাস, যাদের পরস্পরের বিষয়ে খুবই গভীর মত বিরোধ রয়েছে. আর এটা কোনও গোপন কথা নয় যে, বহু রাজনৈতিক শক্তিই দেশে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তাদের মতের ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পায় নি. রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক বড় অংশ চায় সিরিয়ার প্রশাসনের পতন, আবার একই সময়ে লেবাননের সরকার বেশী রকমের মধ্য পন্থার পক্ষে. আর তারা ভাল করেই বোঝেন যে, এই বিরোধে নিজেদের দেশকে ঢুকতে দিলে তা ব্যুমেরাং এর মতই লেবাননে ফিরে আসবে”.

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, লেবানন, বাস্তবে, আরও একটি নিকটপ্রাচ্যে আন্তর্ধর্মীয় বিরোধে আগুন জ্বালানোর জায়গা হতে চলেছে. এই শৃঙ্খলের পরবর্তী অধ্যায়ে, পর্যবেক্ষকরা, যেমন উল্লেখ করেছেন যে, হতে পারে ইরাক থাকবে, যেখানে এমনিতেই পরিস্থিতি মোটেও শান্ত নয়.

যাই হোক না কেন, আন্তর্ধর্মীয় বিরোধ বর্তমানে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে. এখানে উল্লেখ যোগ্য যে, আমেরিকার স্ট্র্যাটেজি নির্মাতারা কয়েক বছর আগে নতুন বৃহত্ নিকট প্রাচ্যের মানচিত্র প্রকাশ করেছিল. এই খানে বেশীর ভাগ দেশেরই সীমান্ত আঁকা হয়েছিল ধর্ম ও জাতি বিভেদ নির্ভর করে. সেখানে যেমন, এই অঞ্চলে মনে করা হয়েছে যে, স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্রের উদ্ভব হবে, সুন্নী ধর্মাবলম্বী ইরাক তাদের সীমান্তে অনেকটাই ছোট হয়ে যাবে, আর আরব শিয়া ধর্মাবলম্বী রাষ্ট্র গুলি, উপসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত উত্তরাংশ জুড়ে থাকবে. এই মানচিত্র এক সময়ে বহু বিশেষজ্ঞ খুব একটা মন দিয়ে দেখেন নি. আর দেখা যাচ্ছে যে, তারা এটা ঠিক করেন নি – অন্তত, যদি এই এলাকার সদ্য বিগত সময়ের ঘটনাবলীর দিকে লক্ষ্য করা হয়.