সিরিয়াকে ঘিরে ঘটনা খুবই বেশী করে ইরানের উপরে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে ও তাদের বাধ্য করেছে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় মাত্রা বৃদ্ধি করতে. এই ভাবেই রুশ বিশেষজ্ঞরা তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের দেশের দক্ষিণে বৃহত্তম আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি তৈরী করার সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করেছেন.

ইরান খনিজ তেলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় খুবই বেশী কে আর্থিক অনটনের মধ্যে রয়েছে. তা স্বত্ত্বেও, জানানো হয়েছে যে, তারা খুব একটা কম বরাদ্দ নয় এমন অর্থ – প্রায় তিরিশ কোটি আমেরিকান ডলারের সমান অর্থ ব্যয় করতে চলেছে এই ঘাঁটি তৈরীর জন্য. নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি তৈরীর অর্থ হল যে, ইরান তৈরী হচ্ছে তাদের উপরে আঘাতের জন্য ও সিরিয়া নিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে বলে. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব ও ইসলাম গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক বরিস দোলগভ জানিয়ে বলেছেন:

“ইরান বর্তমানে – এক বিশ্ব মঞ্চের ক্রীড়নক, এটা শক্তির এক আঞ্চলিক কেন্দ্র. তারা এই সব ঘটনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা সিরিয়ার চারপাশ জুড়ে চলছে. কিছু দিন আগেই বারাক ওবামা একেবারে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার উপরে আঘাত হানতে পারে, সামরিক অনুপ্রবেশও করতে পারে. ইরান একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, তারা সিরিয়ার হয়ে প্রতিরক্ষা লড়াই করবে. তাই আকাশ প্রতিরক্ষা বিষয়ক ঘাঁটি তৈরী – এটা একটা সামরিক রাজনৈতিক উত্তর. বর্তমানে যে, সমস্ত রকমের সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা দিয়ে, - তা লিবিয়ার ঘটনা দেখেই বোঝা হয়েছে. তাই ইরানের পক্ষ থেকে একেবারেই যথেষ্ট রকমের ব্যবস্থা নেওয়াটা দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে একেবারেই চোখের সামনে”.

এই সূত্রে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ইরান গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ইরিনা ফিদোতভা মনে করেছেন যে, ইরানের উপরে আঘাতের সম্ভাবনা সিরিয়ার ঘটনা ব্যতিরেকেই বেড়ে গিয়েছে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা নিয়ে বেশী করেই বক্তৃতা দিচ্ছেন ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণধাররা. তাঁরা মনে করেন যে, সেই শেষ পদক্ষেপ, যা খড়ির গণ্ডী পার হওয়ার মতো বা অশনি সঙ্কেতের মতো হতে চলেছে, তা হল ইরানের পক্ষ থেকে দুটি কাজের যে কোনও একটি বা দুটিই একসাথে করা. হয় ইরানে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী হওয়ার একেবারেই কাছাকাছি চলে আসা অথবা তাদের পক্ষ থেকে খরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করা. সব মিলিয়ে নিকট ও মধ্য প্রাচ্যে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে. আর, খুবই স্বাভাবিক ভাবেই ইরানও নিজেদের শক্তি অনুযায়ী চেষ্টা করছে নিজেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির, সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার”.

ইজরায়েল দেশে এর মধ্যেই হিসাব করে দেখে নেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এক মাস ধরে চলতে পারে. তাদের দেশে সামরিক ভাবে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “লৌহ গম্বুজ” ও “হেত্স”, যেগুলি ইজরায়েলের জনসাধারনকে ইরানের রকেট থেকে রক্ষা করবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী, নিজেদের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগর এলাকায় ইরানের মাইনের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ও সেখানে ইরানের সঙ্গে বিরোধ বাধলে, মাইন মুক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণ চালু করেছে. অংশতঃ এক মাস বাদেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরও ২০টি দেশ, প্রাথমিক ভাবে ন্যাটো জোটের দেশ গুলি, পরিকল্পনা নিয়েছে সেখানে এক আকারের হিসাবে অনতিপূর্ব সামরিক প্রশিক্ষণ করার, যা হবে পারস্য উপসাগর এলাকায় মাইন ধ্বংস করা নিয়ে.