ইন্টারনেট আবার বেশী করে ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক মানসিকতা নিয়ে নানা রকমের ঘোঁট পাকানোর জন্য. কয়েকদিন আগে ভারতীয় সমাজে প্রভূত প্রসারিত ভীতি সঞ্চার সম্ভব হয়েছিল ফেসবুক ও টুইটার সাইট ব্যবহার করে বিকৃত তথ্য প্রচার করেই. হুমকি দেওয়া কানাঘুষো আর নকল সব ফোটো সামাজিক সাইট গুলিতে দেওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু সহস্র আসামের লোক পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল. ভারত সরকার এমনকি সামাজিক সাইট গুলিকে বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলেছে, যদি তারা আবারও এই ধরনের “উসকানি দেওয়ার মতো” খবর প্রচার করে.

অগ্নিতে ঘৃতাহুতি করেছিল সেই অপপ্রচার, যখন ইন্টারনেটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হয়েছিল. গত মঙ্গলবারে এমনকি টুইটারের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে ন্যক্কার জনক ও অপমান জনক অ্যাকাউন্ট গুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে.

এখানে বলা উচিত্ হবে যে, বর্তমানের সরকারি ভাবে দিল্লীর তরফ থেকে ইন্টারনেটে সেন্সরের চেষ্টা – এটা মোটেও প্রথমবার নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এখানে যথেষ্ট হবে মনে করলেই যে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই ধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল – তখন লক্ষ্য হয়েছিল সেই সমস্ত অপপ্রচার বন্ধ করার, যা ভারতের বেশীর ভাগ ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত. কিন্তু এই সব চেষ্টা সফল হয় নি ও এমনকি উল্টোটাই হয়েছিল – তা ইন্টারনেটে প্রচুর ব্যঙ্গের সৃষ্টি করেছিল খোদ টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী কপিল সিব্বলেরই উপরে”.

আসলে ইন্টারনেটকে আটকানোর সমস্ত রকমের প্রচেষ্টাই অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে, আর তার মধ্যে প্রধান হল – “বাক্ স্বাধীনতার” নীতি বিষয়ের সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের নীতিকে কি ভাবে মেলানো সম্ভব. সেই প্রশ্ন খোলাই থেকে যাচ্ছে যে, কে নিষেধ করবে ও কি করে সেই সব সাইট বাছা হবে, যা বন্ধ করা দরকার? আর এমন হবে না তো যে, নিষেধের আওতায় সরকারের সমালোচনা করা যে কোনও সাইটই তখন পড়বে?

আজ ইন্টারনেট ও সামাজিক সাইট গুলি মানুষের বুদ্ধি নিয়ে লড়াই করার সবচেয়ে প্রধান মঞ্চ হতে চলেছে. কিন্তু কোন রকমের নিষেধ বা তথ্যের প্রবাহে বাধা দেওয়ার চেষ্টাই সারা বিশ্ব জোড়া ইন্টারনেটে অসফল হতে বাধ্য, এই রকমই মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“শুধু ভারতেই ১০ কোটির বেশী ইন্টারনেট ব্যবহার করা লোক রয়েছেন, তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি লোকের “ফেসবুক” অ্যাকাউন্ট রয়েছে. আর এই ধরনের প্রাকৃতিক প্রসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা কোন সরকারের কর্ম নয়. বাস্তবে, ইন্টারনেট প্রায় প্রাকৃতিক দুর্যোগেই পরিণত হতে চলেছে, আর তাকে বন্ধ করার চেষ্টা হয়ে দাঁড়াচ্ছে হাওয়ার উল্টো দিকে থুথু ফেলা বা আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ আগুন নেভানোর জলের পাইপ দিয়ে বন্ধ করার মতো প্রচেষ্টা”.

সুতরাং রাজনীতিবিদদের জন্য, যারা চাইছেন ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাবকে বন্ধ করতে, অথবা নিজেদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক উপায় বের করতে, তাদের একমাত্র বেরোনোর পথ হল সেন্সর করা নয়, বরং নিজেদের তরফ থেকেই ইন্টারনেটের প্রসারকে আরও সক্রিয় ভাবে লক্ষ্য সাধনে ব্যবহার করা.