কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্কে “ড্যুরান্ড লাইন” নিয়ে সমস্যা আবারও “তীক্ষ্ণ” হয়েছে. বিশেষ করে এটা লক্ষ্যণীয় হয়েছে কুনার রাজ্যে “অন্য পার থেকে” অনুপ্রবেশ করা জঙ্গীদের নিয়ে মন্তব্য গুলিতে, যা করেছেন ভুলুসি জির্গা প্রতিনিধিরা. আফগানিস্তানের সাইট গুলিতে যেমন লেখা হয়েছে যে, কিছু পার্লামেন্ট সদস্য এমনকি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ে এই সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছেন. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক পিওতর গনচারভ তাঁর মন্তব্য করেছেন.

ড্যুরান্ড লাইন, যা ১৮৯৩ সালে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব মর্টিমার ড্যুরান্ড ও সেই সময়ের আফগানিস্তানের আমীর আবদুর রহমান খান চুক্তির মাধ্যমে এই সীমান্ত নির্ণয় করেছিলেন, আর তা আজও হয়েছে “ডিভাইড এন্ড রুল” নীতির এক ক্ল্যাসিক উদাহরণ. এই চুক্তি দিয়ে ইংল্যান্ড নিজেদের জন্য লাভ করেছিল দুটি. সমস্যারও সমাধান করেছিল দুটি. প্রথমতঃ – আফগানিস্তানকে বাধ্য করেছিল, নিজেদের দেশের উত্তরে সেই পামীর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জারী করতে, যে গুলিতে রাশিয়ার নজর ছিল. আর দ্বিতীয়তঃ – নিজেদের সেই পরিস্থিতি পেতে সুবিধা করে দিয়েছিল, যার ফলে আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশের হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করায়, যার ফলে দৃশ্যতই আবদুর রহমান খান বাধ্য হয়েছিলেন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে. পাকিস্তানের “ড্যুরান্ড লাইন” উত্তরাধিকার হিসাবে ব্রিটিশ ভারত থেকে পাওয়া হয়েছে, আর তা ইসলামাবাদের জন্য এমন এক উপহার হয়েছে, যা তাদের পক্ষে ত্যাগ করাও সম্ভব নয়.

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ মন্তব্য করে বলেছেন:

“ইসলামাবাদ মনে করে যে, ড্যুরান্ড লাইন একটা উপস্থিত বাস্তব আর সবসময় এই রকমই ভেবে এসেছে যে, সেখানে পরিস্থিতি যেন একই রকমের তাকে, যা সেখানে ছিল ও আজও রয়েছে. তার ওপরে, ইসলামাবাদ সব সময়েই বুঝতে দিয়েছে যে, ড্যুরান্ড লাইনের সমস্যা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই সমস্যা ও সব সময়ে যে কোন রকমের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা করার বিরোধী ছিল. তাই, তাদের মতে, যদি ড্যুরান্ড লাইনের সমস্যা এমনকি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনাতেও আনা হয়, যে রকম চেয়েছেন আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্যরা, তবু ইসলামাবাদ এর বিরুদ্ধে ভেটো দেবে ও খুবই কড়া অবস্থান নেবে”.

ভ্লাদিমির সোতনিকোভের কথার উপরে যোগ করা দরকার যে, কাবুলের ড্যুরান্ড লাইন নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট মত বা অবস্থান নেই. মনে হয়েছিল বোধহয় এর থেকে সহজ আর কি হতে পারে: সরকারি ভাবে বাস্তবে থাকা সীমান্ত ঘটে যাওয়া বলে ধরে নেওয়া. তার ওপরে বাস্তবে এই পরিস্থিতির বদল করাও সম্ভব নয়. আর তা স্বত্ত্বেও আফগানিস্তানের কোনও নেতাই, সে যেমন আগেও, তেমনই এখনও এর সরকারি ভাবে স্বীকৃতী নিয়ে কখনও কথা বলেন নি. যদিও নেপথ্যে, বিশেষজ্ঞ স্তরে কথাবার্তা হয়েছে কাবুলের পক্ষ থেকে এই সীমান্তকে মেনে নেওয়া নিয়ে নানা রকমের ঘটনা পরম্পরা সম্বন্ধে. অংশতঃ, ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট রকমের ছাড়ের বিনিময়ে.

তা স্বত্ত্বেও, কাবুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর নাসিরুল্লা স্তানিকজাইয়ের মত অনুযায়ী আজও সরকার এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে মনে তো হয় না যে দেশের জনতার মত এড়িয়ে ঝুঁকি নেবে, তাই তিনি বলেছেন:

“এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, ইসলামাবাদ এই সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের মত নিতে রাজী হবে অথবা হবে না. এটা আফগানিস্তানের জনগনের অধিকার এই সমস্যার ইতি করায়, যা এই সমস্যার ঐতিহাসিক কারণ ও আন্তর্জাতিক আইনের থেকেই উদ্ভব হয়েছে. একই সঙ্গে আমি মনে করি না যে, সরকারি ভাবে কাবুল নিজেদের উপরে ড্যুরান্ড লাইন স্বীকৃতী দিতে চাইবে, বা তার দায়িত্ব নেবে. এখানে দেশের জনগনের ইচ্ছাই প্রয়োজন. জনগনের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যে কি করা হবে, আর এই ধরনের ঐতিহাসিক ভাবে বহু গভীরে প্রোথিত সমস্যার কোনও সরল সমাধান হতে পারে না”.

আর তাই, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, “ড্যুরান্ড লাইন” আসন্ন ভবিষ্যতে এক তথাকথিত শর্ত সাপেক্ষ লাইন হয়েই থাকবে, তা দুই দেশের মধ্যে সরকারি ভাবে স্বীকৃত সীমান্ত হবে না. আর এটাই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জনগনের মধ্যে ঐক্য বা বিরোধের কোনটা তৈরী করবে, তা নির্ভর করছে দুই দেশের জনগনের উপরেই.