২২শে আগষ্ট রাশিয়াতে পালন করা হচ্ছে জাতীয় পতাকা দিবস. এই উত্সব ১৯৯৪ সালে রাশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিন ঘোষণা করেছিলেন.

এই উত্সবের দিনটি ১৯৯১ সালের রাষ্ট্র বিদ্রোহের ঘটনার সঙ্গে জড়িত, যখন একদল পার্টির ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, যাঁরা সোভিয়েত দেশের পতনের জন্য আয়োজিত মার্কিন সহায়তায় তত্কালীন দেশের কর্ণধার মিখাইল গরবাচেভ নির্দেশিত তথাকথিত গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে এসে চেষ্টা করেছিলেন দেশে রাজনৈতিক সংশোধনের পথ বদল করতে ও গরবাচেভ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের দেশের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিতে. তাঁরা এর জন্য জরুরী অবস্থা কালীণ রাষ্ট্রীয় পরিষদ গঠন করেছিলেন ও চেয়েছিলেন দেশের মন্ত্রীসভা ভবন দখল নিয়ে সেই সময়ের পশ্চিম পন্থী তথাকথিত গণতান্ত্রিক লোকদের হঠিয়ে দিতে. এই ঘটনাকে নানা ভাবে ঘটতে দেওয়া হয় নি আর এতে বহু পশ্চিমী দেশের হাতও ছিল বলে পরবর্তী কালে জানতে পারা গিয়েছিল. কিন্তু একদল যুবক এই কারণে মস্কো শহরে বিশেষ করে ডেকে আনা সামরিক বাহিনীর পথ রোধ করার চেষ্টা করেছিল ও তাদের মধ্যে তিন জনের ২১শে আগষ্ট রাত্রে সংঘর্ষে ও পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়, পরের দিন ২২শে আগষ্টই এই তিন জনের মৃতদেহ নিয়ে স্থানীয় জনতা মিছিল করে যাওয়ার সময়ে রাশিয়ার সম্রাট প্রথম পিওতর যে তেরঙ্গা পতাকা জাতীয় পতাকা হিসাবে প্রচলন করেছিলেন, সেই পতাকার একটি অতিকায় সংস্করণ নিয়ে গিয়েছিল. এই রকমই একটি পতাকা মন্ত্রীসভার ভবনের উপরেও কমিউনিস্ট সোভিয়েত দেশের কাস্তে হাতুড়ী ও তারা খচিত লাল পতাকা নামিয়ে আলাদা করে তোলা হয়েছিল এবং বরিস ইয়েলতসিনকে নেতা ঘোষণা করে দেশে কমিউনিস্ট শাসনের পতন হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছিল. গরবাচেভ যে সময়ে সোভিয়েত দেশের নেতৃত্বে আসেন, সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও অন্যান্য পারস্য উপসাগরের দেশ গুলির সঙ্গে যঢ়যন্ত্র করে বেশ কয়েক বছর ধরে খনিজ তেলের দাম ব্যারেল পিছু ছয় ডলারে নামিয়ে এনে সোভিয়েত দেশকে তাদের মূল বিদেশী আয়ের উত্স থেকে বঞ্চিত করে প্রায় নিঃস্ব দেশে পরিণত করেছিল. এটা ছিল সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি ও স্বজন পোষণের নীতি এবং সাধারন মানুষের প্রতি অবহেলা করা সোভিয়েত ব্যবস্থার পতনের মূল কারণ.

যাই হোক রুশ তেরঙ্গা জাতীয় পতাকার ইতিহাস শুরু হয়েছে পিওতর দি গ্রেট এর সময় থেকে, তিনি ইউরোপে সামরিক নৌ বিদ্যায় শিক্ষা পেয়ে ফিরো এসে রাশিয়ার অন্যান্য সংশোধনের সঙ্গে দেশের জাতীয় পতাকা যা তাঁর আগে ছিল, সেটির বদলে এই তেরঙ্গা পতাকার পত্তন করেছিলেন আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগে. ১৬৬৭ সালেই যখন প্রথম রুশ সামরিক পোত নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন সেই সময়ের সম্রাট আলেক্সেই মিখাইলোভিচ নির্দেশ দিয়েছিলেন তার উপরে সাদা, নীল ও লাল রঙের ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল রেখা দিয়ে তৈরী পতাকা উত্তোলনের. পরে সম্রাট প্রথম পিওতর এই পতাকার মাঝামাঝি সোনার দুই মাথা ওয়ালা ঈগল পাখীর প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন. আর ১৭০৫ সালে এক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে রাশিয়ার সমস্ত বাণিজ্য পোতকে এই তেরঙ্গা পতাকা বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল.

একেবারে সঠিক করে ব্যাখ্যা করা যে, রাশিয়ার এই তেরঙ্গা পতাকার তিনটি রঙের সঠিক অর্থ কি, তা রাষ্ট্রীয় প্রতীক সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞরাও বলতে পারেন না. একটি সবচেয়ে বেশী প্রচলিত ও প্রসারিত অর্থ, যা রুশ জাতীয় পতাকা সম্বন্ধে রয়েছে, তা হল, সাদা রঙ – স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক, নীল রঙ – খ্রীষ্ট ধর্মের মাতা মেরীর পোষাকের রঙ, যাঁর আঁচলের আড়ালে রয়েছে রাশিয়া, আর লাল রঙের অর্থ হল শৌর্য ও সেই সব রক্তক্ষয়, যা দেশের লোক দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষ করাতে গিয়ে করেছেন.