রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই লাভরভ সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ ও সবচেয়ে বড় জাতীয় কোঅর্ডিনেশন কমিটি নামের বিরোধী পক্ষের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন. এই উদ্যোগ সমস্ত পক্ষের তরফ থেকেই অবিলম্বে অগ্নি সম্বরণ করা, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও জোর করে ধরে রাখা লোকদের মুক্তি, আর তারই সঙ্গে খুবই দ্রুত ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী সমস্ত পক্ষের মধ্যেই আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে. লাভরভের মতে, এই উদ্যোগ সিরিয়ার সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে পারে.

তার মধ্যে ওয়াশিংটনে স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আমেরিকার এই ধরনের সিদ্ধান্তে প্রয়োজন নেই. আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হল সিরিয়াতে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতার হস্তান্তর ও তারা এটা রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাঠামোর বাইরেই করার চেষ্টা করবে. বাস্তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি সিরিয়াতে লিবিয়ার মতই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাইছেন.

এই বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভের মন্তব্য তিনি নিজেই বলেছেন:

“নিজের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীণ জর্জ বুশ জুনিয়র একবার ঘোষণা করেছিলেন: “ধীরে হলেও খুবই নির্দিষ্ট ভাবেই আমরা বৃহত্ নিকট প্রাচ্যে ভারসাম্য হীনতার বৃত্তচাপ থেকে স্বাধীনতার বৃত্তচাপে নিয়ে আসতে সাহায্য করছি”. এই মন্তব্য তখন মনে করা হয়েছিল খুবই আত্ম সন্তুষ্ট থাকার জন্য করা হয়েছে. লেবাননের কেদার বিপ্লব, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খোলাখুলি ভাবেই সমর্থন করেছিল, তা তখন ততটাই খোলাখুলি ভাবে সফল হতে পারে নি. আর আফগানিস্তানে ও ইরাকে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের লোহার হাত দিয়ে স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে, তা তখনই মনে করা হয়েছিল স্পষ্টই নতুন উপনিবেশবাদী প্রকল্প হিসাবে. পরিস্থিতি এই সমস্ত দেশে বর্তমানেও খুব একটা ভাল নয়. আর এই বিষয়ে সমস্ত অভিযোগ সব মিলিয়ে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকেই করা হচ্ছে.

কিন্তু এখানে পশ্চিমের স্ট্র্যাটেজি রচয়িতাদের জন্য উপযুক্ত স্বীকৃতী দিতেই হয় – তারা প্রাথমিক সব ভুল এবারে হিসাবের মধ্যে এনেছে. লিবিয়াকে ন্যাটো জোট আর নিজের হাত দিয়ে মুক্ত করে নি, বরং করেছে বেশীটাই স্থানীয় ভাড়াটে সেনা দিয়ে. আর এবারে সেখানে যা কিছুই হচ্ছে, তাতে সরকারি ভাবে পশ্চিমের আর জবাবদিহি করতে হচ্ছে না. আর সেখানে কি হচ্ছে – তা জানাই রয়েছে সকলের. বাস্তবে ঐক্যবদ্ধ দেশ আর নেই, যা আছে, তা হল বেশ কিছু প্রান্তিক রাজ তন্ত্রের এক লক্ষ্যহীণ জোট, যা স্থানীয় মাফিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে. সিরিয়াতেও এই রকমের কিছু একটা ওয়াশিংটন দেখতে চেয়েছে”.

আর এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি তাঁর মূল্যায়ন করে বলেছেন:

“পরিস্থিতি বর্তমানে এই ভারসাম্যহীনতার বৃত্তচাপে যা হচ্ছে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রেই রয়েছে. তারা নিজেদের জোটের লোকদের নিয়ে খুবই সক্রিয়ভাবে এখানের প্রক্রিয়া গুলিতে অংশ নিচ্ছে. বিগত বছর গুলিতে বৃহত্ নিকট প্রাচ্যে সেই লক্ষণই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যে সেখানে থাকা লোকরা নিজেদের অন্য রকম করে ভাবতে শুরু করেছে. এখানে প্রাথমিক ভাবে কথা হচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজকে নিয়ে. তারা ইন্টারনেট জমানার লোক – যদিও সেটাই সবটা নয়. বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট, যার পরিনাম পশ্চিম তাদের অভ্যাস বসতই উন্নতিশীল দেশ গুলির দিকে দিক পরিবর্তন করে দিয়েছিল, তা নিকট প্রাচ্যের যুব সমাজের উপরে খুবই বেদনা দায়ক ভাবে আঘাত করেছে ও তাদের প্রতিবাদ করতে সক্রিয় করেছে. আরব বসন্তের শক্তি প্রাথমিক ভাবে এই অঞ্চলকে পশ্চিমের তরফ থেকে শোষণের প্রতিবাদে লক্ষ্য করে তৈরী হয়েছিল. এলাকার পশ্চিম পন্থী ও পশ্চিমের তরফ থেকে প্রেরিত ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধেই তা ছিল. এই শক্তি দিয়েছিল এলাকার বাস্তব সুযোগ সন্ধান, যা নিঃশেষ হয়ে যাওয়া অন্যায্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার থেকে মুক্তি ঘটাতে সক্ষম ছিল. কিন্তু যখন আরব বসন্তের স্লোগান চুরি হয়ে গিয়েছিল, তখন আর এই এলাকা সামনের দিকে এগিয়ে যায় নি, বরং পিছিয়েই গিয়েছে, এক মধ্য যুগীয় খণ্ডিত রাষ্ট্র ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে”.

ফলে বিগত দেড় বছরে ভারসাম্যহীনতার বৃত্তচাপ এই এলাকাতে শুধু থেকেই যায় নি – সেখানে ভারসাম্যহীনতা আরও অনেক বেশীই হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ স্বাধীনতাও অনেক বেড়েছে. কিন্তু কোন রকমের ভারসাম্য না থাকায় ও স্বাধীনতাতে কোন শৃঙ্খলা না থাকায় - এই স্বাধীনতা হয়েছে শুধু বেশী শক্তিধরদের জন্যই. তাই এই এলাকায় আবার করে সবচেয়ে শক্তিশালী আগের মতই সেই উপনিবেশবাদীরাই এসে গিয়েছে. আর অবশ্যই, তাদের স্থানীয় তোষামোদ কারী লোকরাও – যদিও এটা খুব সম্ভবতঃ খুব একটা বেশী দিন চলবে না.