ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার নতুন এক পর্যায় আগষ্ট মাসের শেষেই হওয়ার কথা. দেখাই যাচ্ছে যে, এই আলোচনায় ব্যর্থতা, সেই সব লোকদের জন্য একটা যুক্তি হতে পারে, যারা এই সমস্যার সমাধান যুদ্ধ করেই করতে চায়.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিবের সহকারী ভেন্ডি শেরম্যান যেমন ঘোষণা করেছেন যে, খুবই আসন্ন সময়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পররাষ্ট্র বিষয়ক হাই কমিশনার ক্যাথরিন অ্যাস্টন ও ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান সৈদ জালিলি একটি প্রাথমিক বৈঠক করবেন. তাছাড়া, ছয় দেশের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যেও পরামর্শ হবে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানী রয়েছে. তারপরে আলোচনার দিন স্থির করা হবে, যা আগে থেকে ঠিক হয়েছিল যে, আগষ্ট মাসেই হবে.

আলোচনার সময় যে এগিয়ে আসছে, তা ইরানের উপরে চাপ বেড়ে যাওয়া দেখেই বুঝতে পারা যাচ্ছে. প্রথমতঃ, ইজরায়েলের দিক থেকে, যারা “নিষ্ঠুর পুলিশের” ভূমিকা নিয়েছে. ইরানের উপরে আঘাত হানা যে আগের মতই তেল- আভিভের পরিকল্পনায় রয়েছে, তা কয়েকদিন আগে খুবই স্বচ্ছ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নাথানিয়াখু ও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইত্শাক আরনোভিচ.

কিন্তু এই অবস্থান বোঝাই যাচ্ছে কিছুটা মিথ্যাচারের আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে, এই রকমই মনে করে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সভার ডিরেক্টর আন্দ্রেই কোরতুনভ বলেছেন:

“আমরা এই ধরনের হুমকি এই প্রথম বছর শুনছি না, আর, অবশ্যই, এই ধরনের হুমকিতে এক রকমের মিথ্যাচারের জায়গা রয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের উপরে চাপ সৃষ্টির একটা যা অঙ্গ, তাই ইজরায়েলের ও তাদের সহকর্মীদের কাজ দেখে মনে হয়েছে. অর্থাত্ এটা একটা ইঙ্গিত সেই বিষয়ে যে, সহকর্মীরা যেন আরও কঠোর মনোভাব দেখায় ও সেই রকমের আঘাত যেন ইরানের পক্ষ থেকে ইজরায়েলের উপরে না পড়ে”.

একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে দিয়েছে যে, তারা ইরানকে একটা সুযোগ দিচ্ছে. ভেন্ডি শেরম্যান যে রকম উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের উচিত্ হবে আলোচনার টেবিলে খুবই সিরিয়াস ইচ্ছা নিয়ে বসার, যাতে একটা চুক্তিতে পৌঁছনো সম্ভব হয়. এর উল্টোটা খুবই সহজ: রাষ্ট্রপতি ওবামা একাধিকবার ঘোষণা করেছেন যে, “টেবিলে” সব রকমের পথই এখনও রয়েছে, তার মধ্যে সামরিক ভাবে সমাধানের পথও.

এই খানেই ইরান সমস্যা সমাধানে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অভিগমনের বা উদ্দেশ্যের তফাত. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ “স্কাই নিউজ আরাবিয়া” টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন: “বর্তমানের আলোচনা – এটা কোনও পথের শেষ নয়, আর এখন সবচেয়ে মুখ্য হল – বোঝা যে, আলোচনা – এটা ইরানের পারমানবিক সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ”.

এই প্রসঙ্গে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভের মত তিনি নিজেই বলেছেন:

“একটা সমঝোতায় আসার পথ আমার মতে সব সময়েই রয়েছে. আমি মনে করি না যে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা নিয়ে যারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, তারা সকলেই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই সমস্যার সমাধানে আগ্রহী.

সামরিক পথ অস্বীকার করে লাভরভ বিশ্বাস করেন যে, এই আলোচনার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে না. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরান ও ছয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারী দেশ গুলির মধ্যে মত বিরোধ অনেক বেশী. কিন্তু সেই গুলি এত বেশী সিরিয়াস নয় যে, তা প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের মধ্যে সমস্যা সমাধানের মতের ক্ষেত্রে বা নিকটপ্রাচ্যের গণ হত্যার অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল হওয়া নিয়ে লক্ষ্য সাধনের ক্ষেত্রে মত বিরোধের চেয়ে বেশী বলা যেতে পারে. কিন্তু যথেষ্ট হবে বললে যে, এটা খুবই ভারী যুক্তি, যদি তাঁর এই কথার দিকে লক্ষ্য করা হয় যে, ইজরায়েলের পারমানবিক ক্ষমতাই অনেক ক্ষেত্রে নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলিকে বাধ্য করেছে একটা বিপরীত দিকে ভারসাম্যের ব্যবস্থা খোঁজ করার জন্য, যা এমনিতেই গণহত্যা অস্ত্র. সিরিয়া যেমন, এই ভাবেই নিজেদের রাসায়নিক অস্ত্র সম্ভারের অস্তিত্ব সম্বন্ধে যুক্তি দিয়েছে”.

এই এলাকায় গণ হত্যার অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল তৈরী করা নিয়ে আলোচনার অস্তিত্বই ইরানের সমস্ত রকম বাস্তব যুক্তি, যা পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করা নিয়ে তারা দিতে পারে, তাকে বাতিল করে দেয়. অন্য কথা হল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি বাধ্য করতে পারবে ইজরায়েলকে নিজেদের পারমানবিক অস্ত্র থেকে বিরত হতে. তার চেয়েও বড় প্রশ্ন তারা সেটা করতে চাইবে কি না.