বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির প্রোটোকল চালু হয়েছে. ২২শে আগস্ট সব অপরিহার্য দলিল অনুমোদনের ১ মাস পূর্তি হয়েছে. খুব শীঘ্রই রাশিয়া থেকে রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সমাজের অধিকাংশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সদস্য পদপ্রাপ্তী সমর্থন করছে.

আলাপ-আলোচনা শুরু হওয়ার ২০ বছর পরে অবশেষে রাশিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ পেলো. অতঃপর মস্কোকে ঐ সংস্থার আওতায় সব দায়ভার বহন করতে হবে, তবে বাণিজ্যিক বিতর্কের ক্ষেত্রেও নিজস্ব অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে. এই মুহুর্তে বিশ্বের ২০টি দেশে ৭০টিরও বেশি রুশী পণ্য বেচার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে. শরত্কাল থেকে ধাপে ধাপে রুশী পণ্য বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে. এইভাবে রাশিয়া বিদেশের বাজারে স্থিতিশীল বাণিজ্য করতে সমর্থ হবে, বলছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির অর্থনৈতিক বিভাগের উপাধ্যক্ষ দমিত্রি সরোকিন-

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ না দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না. আজকের বিশ্ব -অভিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা. প্রায় সব দেশই সেই সব আইন মেনে ব্যবসা করে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নিরূপন করে. সুতরাং সংস্থায় যোগ না দেওয়া হল একপাক্ষিক পরাজয়. অন্ততঃ এই কারণে, যে রাশিয়ার পণ্যদ্রব্য বিক্রির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়. এখন থেকে সেটা আর খাটবে না, দরকার হলে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবো.

অর্থনীতিবিদ ভিক্তর সুপিয়ান বলছেন, যে এটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, যে অবশেষে মস্কো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি নির্দ্ধারনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে.

 

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের সুফল অনেক, তবে রাতারাতি তা হাতের মুঠোয় আসবে না. দীর্ঘ মেয়াদে অবশ্যই রাশিয়ার এর থেকে লাভ হবে. এটা বিস্ময়কর, যে এত বিশাল একটা দেশ এত দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিতর্কের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি. তাছাড়া, রাশিয়ার রপ্তানীকারকদের জন্যেও এটা হবে লাভজনক. বিশেষতঃ লৌহ ও ইস্পাত, এ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য ধাতু উত্পাদনকারীদের জন্য, যারা রীতিমতো পৃথিবীতে প্রথম সারিতে.

তবে অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অন্তর্ভুক্তির নেতিবাচক প্রভাবও পড়বে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর. যেমন, আমদানী করা পণ্যদ্রব্যের উপর থেকে সীমান্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে. অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্যিক সংস্থায় রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার স্ট্র্যাটিজিক পরিকল্পনা ভেবে বার করেছে. মস্কো স্বদেশী কৃষিপণ্য উত্পাদকদের স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়ে সংস্থাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে. আমদানী শুল্ক কমানো হবে ধাপে ধাপে কয়েকবছর ধরে. তবে রাশিয়ার ভোগ্যপণ্য ক্রেতারা এর থেকে ফয়দা তুলবে.