মস্কোর রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল হলে কোনোমতে ইচ্ছুক সকলের ঠাঁই হয়েছিল ‘হিন্দুস্তানী সমাজে’র ৫৫-বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে. সভাপতি যোগেন্দ্র নাগপাল বলছেন – “আমরা ঘটনাচক্রে মস্কো রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করিনি. গত কয়েক দশকে কয়েক হাজার ভারতীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি পেয়েছে. তারা ভারতে, রাশিয়ায় ও অন্যান্য দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সাথে কাজ করে ও হিন্দুস্তানী সমাজের কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়”.

যোগেন্দ্র নাগপাল বিস্তারিতভাবে বলছেন, যে ‘হিন্দুস্তানী সমাজের’ প্রথম পায়ে হাঁটা শুরু হয়েছিল ৫০-এর দশকের শেষ দিকে, যখন ইন্দো-সোভিয়েত সহযোগিতা সক্রিয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল. সেসময় দুই দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে ২৫ জন গুণী ব্যক্তি ভারত থেকে মস্কোয় এসেছিলেন – সাহিত্যিক, অনুবাদক, সাংবাদিক, বেতার ভাষ্যকার. তাদের কর্মনিয়োগ করা হয়েছিল মস্কোর বিভিন্ন প্রকাশনালয়ে, যেখানে ভারতীয় সাহিত্যের অনুবাদ করা হতো, ‘মস্কো রেডিও’য়, এখন যার নাম ‘রেডিও রাশিয়া’, যেখান থেকে বিভিন্ন বিদেশী ভাষায় বেতার সম্প্রচার করা হতো ও এখনো হয়. মস্কোস্থিত ভারতীয়রা তাদের বিভিন্ন উত্সবে স্থানীয় মস্কোবাসীদের নিমন্ত্রণ করতো ও করে, সাহিত্যপাঠের সন্ধ্যার আয়োজন করতে শুরু করে, যা দুই দেশের সংস্কৃতির গীঁট আরও মজবুত হতে সাহায্য করেছিল. ‘হিন্দুস্তানী সমাজে’র বর্তমান সদস্যদের সামনেও সেই একই কর্তব্য.

গত ১ বছরে মস্কোয় কর্মরত, শিক্ষারত ভারতীয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে. এখন এই নগরীতে মোটামুটি ১৫ হাজার ভারতীয় বসবাস করে. তাদের অধিকাংশ এই যুগ মাফিক ব্যবসাজীবি. রাশিয়ার রাজধানীতে বহু সামাজিক, বানিজ্যিক, শিক্ষামুলক সংস্থার পত্তণ হয়েছে. তবে সবচেযে প্রাচীণ অবানিজ্যিক সামাজিক সংস্থা - হিন্দুস্তানী সমাজ – উল্লেখ করেছেন রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা. তিনিই সদ্যপ্রকাশিত অনুবাদক মদনলাল মধুর আত্মজীবনী দর্শকদের বিলি করেন. পুশকিন ও অন্যান্য ধ্রুপদী রুশী সাহিত্যিকদের রচনাবলীর হিন্দী অনুবাদক মধুর রুশী সাহিত্যসমাজে নিয়মিত যাতায়াত. মদনলাল মধু বলছেন – এই বইটি আমার কাছে অমূল্য. – বইটা সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্পর্কে, ভারতবর্ষ সম্মন্ধে, কখনো কখনো ইতিহাসের মোড়বদল করানো ঘটনাবলী সম্পর্কে ও মহান পুশকিনের দেশে আমার জীবনযাত্রা সম্মন্ধে.

মদনলাল মধু বলছেন, যে ১৯৫৭ সালে এই দেশে এসে তিনি ভারতের সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্যের প্রতি ঔত্সুক্য লক্ষ্য করে খুব আনন্দিত হয়েছিলেন. এই দেশে বসবাসকালে তার বহু রাজনৈতিক নেতা, শিল্পী, সাহিত্যিকের সাথে সাক্ষাত করার সৌভাগ্য হয়েছে. তার চোখের সামনে বহুমুখী ইন্দো-রুশী মৈত্রী দৃঢ়তর হয়েছে. ঐ মৈত্রী তার স্বদেশের জন্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা ভারতকে অর্থনৈতিক দিক থেকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মজবুত হতে সাহায্য করেছিল. ৯০-এর দশকের নাটকীয় ঘটনাবলী, যার দরুন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলো, বহু ভারতীয় সেটাকে ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসাবে গণ্য করে থাকে. দুই দেশের সহযোগিতার বর্তমান পর্যায়ে দৃঢ় অবস্থায় তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট.

‘হিন্দুস্তানী সমাজে’র ৫৫-তম বার্ষিকী পূর্তি উত্সবে ভারতীয় ও রুশী সঙ্গীত শোনানো হয়েছে, উভয় দেশের কবিদের লেখা কবিতা আবৃত্তি করা হযেছে. উত্সব উদযাপন করা হয়েছে গভীর রাত পর্যন্ত.