রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এড়িয়ে সিরিয়াকে তাদের কাজ দিয়ে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছে. এই ধরনের সম্ভাবনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড বাদ দেন নি. সোমবারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এই সম্বন্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের সিরিয়া সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি কে জানাতে তৈরী হচ্ছে.

প্রধান শর্ত, যা লাখদার ব্রাহিমি সিরিয়া সংক্রান্ত এই কাজ নিজের কাঁধে নেওয়ার আগে দিয়েছিলেন – তা হল কোন রকমের শর্ত ছাড়াই তাঁর কাজকর্মে বৃহত্ রাষ্ট্র গুলির সমর্থন. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ডের ঘোষণা অনুযায়ী চেষ্টা করছে বিশেষ দূতকে বিশ্বাস করাতে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ সিরিয়ার সঙ্কট নিরসনে নিজেদের সম্ভাবনা ফুরিয়ে ফেলেছে. দেখাই যাচ্ছে যে, এই সূত্রে আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে শান্তি প্রয়াসে আবার করে সঙ্কট শুরু হয়েছে. কারণ কোফি আন্নান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এই কথা স্বীকার করে নিয়ে যে, তিনি সিরিয়াতে নিজের মিশন নিয়ে বৃহত্ রাষ্ট্র গুলির পক্ষ থেকে কোনও সমর্থন পান নি.

সবই সেই দিকে যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে সঙ্কট মোচনের প্রচেষ্টায় রত রাষ্ট্রসঙ্ঘের মর্যাদার উপরে নতুন করে আঘাত হানার, এই রকমই মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই পদশ্যেরব বলেছেন:

“এই যে ঘোষণা ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড করেছেন, তা কোনও ভাবেই অবাক করে দেয় না. আমেরিকার লোকরা একাধিকবার শক্তি প্রয়োগ আগেও করেছে, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্তকে এড়িয়েই করা হয়েছিল. মনে করা যেতে পারে অন্তত পানামা ও গ্রেনাডা রাষ্ট্রে তাদের আগ্রাসন ও অনুপ্রবেশকে. আর খুব একটা বেশী দিন আগের ঘটনা নয় – তাদের যুগোস্লাভিয়া দেশের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সালের আগ্রাসন. তারপরে ২০০৩ সালে ইরাকে অনুপ্রবেশ. সেটাও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে করা হয়েছিল, আর তা প্রসঙ্গতঃ একেবারেই কল্পিত কারণেই করা হয়েছিল – সাদ্দাম হুসেইনের নাকি জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র সম্ভার রয়েছে. সিরিয়াতে আঘাত হানা হলে তার ফল কি হতে পারে? এটা, অবশ্যই একটা সম্পূর্ণ আকারের যুদ্ধই হবে, যেখানে রক্তের বন্যা বইবে. সেটাই হবে পরিনাম. অবশ্যই সিরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না, এটা স্পষ্ট. কিন্তু অন্য দিক থেকে, আর আমি তা খুব ভাল করেই জানি সিরিয়ার লোকদের, তারাও শেষ অবধি প্রতিরোধ করবে. সুতরাং এটা হবে নিকট প্রাচ্যে এক নতুন ও অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ”.

সিরিয়াতে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ নিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামাও. তিনি সোমবারে এক অপরিকল্পিত সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, আপাততঃ অনুপ্রবেশের কোনও নির্দেশ তিনি দেন নি. কিন্তু তিনি তাঁর অবস্থান বদলানোর বিষয়ে হুমকি দিয়েছেন, যদি দামাস্কাস জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে. এই ধরনের কথা কি “ইরাকের অভিজ্ঞতার” দিকেই ইঙ্গিত নয়? কারণ নয় বছর আগে সাদ্দাম হুসেইন গণ হত্যার অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, এই ধরনের কল্পিত সম্ভাবনার কথা ভেবেই – আর তার সঙ্গে বাগদাদের “আল- কায়দার” সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের কথা ভেবেই অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল.

আসলে “আল- কায়দার” সঙ্গে সাদ্দাম যোগাযোগ করেন নি – এই সংস্থা ইরাকে আমেরিকার লোকদের উপস্থিতিতেই আবির্ভূত হয়েছিল. আর এবারে সিরিয়াতে তারা ইতিমধ্যেই উপস্থিত হয়েছে – আর তারা যুদ্ধ করছে সশস্ত্র বিরোধী জঙ্গীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে. আমেরিকার লোকরা, এই কথা সত্য যে, তারা যে রকম করে বলছে, তাতে মনে করতে হয় যে, তারা নাকি সশস্ত্র বিরোধীদের অস্ত্র সাহায্য দিচ্ছে না, কিন্তু সব রকম ভাবেই সৌদি আরব ও কাতার কে এই কাজে সাহায্য করছে. আর তারই সঙ্গে তুরস্ক ও লিবিয়াকেও, যাদের এলাকা থেকে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে টাটকা শক্তি ও রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে অস্ত্র সমেত. আর যদি বিরোধীরা আরও বেশী করে “আল- কায়দার” উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে থাকে, তবে তারাও এদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য না করে পারে না, সঙ্গে দিচ্ছে গুপ্তচর বৃত্তির পরিনামে পাওয়া খবর, যা তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই পাচ্ছে. এই সম্বন্ধে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক বরিস দোলগভ বলেছেন:

“আফগানিস্তানে ও ইয়েমেনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লড়াই করছে আল- কায়দার সঙ্গেই. তারা এই দলকে এক নম্বর শত্রু বলেই ঘোষণা করেছে. আবার একই সময়ে এই ধরনের সহযোগিতা, তারাই করছে আবার সিরিয়াতে সেই আল- কায়দা দলকেই. একই রকমের হয়েছিল লিবিয়াতেও. মনে করে দেখা যেতে পারে আফগানিস্তানে গৃহ যুদ্ধকেও, যখন আমেরিকার বিশেষ দপ্তর এক সময়ে বেন লাদেনকে সমর্থন করেছিল ও তাকে মনে করা হত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারে এক নম্বর দূত বলেই. এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের প্রধান দেশ গুলি চেষ্টা করছে চরমপন্থী ঐস্লামিকদের হাত দিয়েই – আর তাদের মধ্যে সেই আল- কায়দা দলের উপরেই নির্ভর করে, সিরিয়াতে নিজেদের অপছন্দের সরকারকে উত্খাত করতে. যাতে পরে এই ধরনের চরমপন্থী ঐস্লামিক শক্তিকে নিজেদের ফন্দি অনুযায়ী লক্ষ্য সাধনে ব্যবহার করা সম্ভব হয়. তারা যা করতে চেয়েছে আফগানিস্তানেও. কিন্তু এটা সেই ধরনেরই ভুল, যদি এটাকে আগুন নিয়ে খেলা না বলাও হয়, যা তারা আগেও করেছে আফগানিস্তানে”.

সিরিয়াতে “আল- কায়দা” আরও বেশী করে সক্রিয় হয়ে উঠছে, এই ধরনের খবর বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে সোমবারে মস্কো আবার করে সাবধান করে দিয়েছে এই দেশে অস্ত্র পাচার চলবে না বলেই. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্য অনুযায়ী অংশতঃ, উল্লেখ করা হয়েছে যে, লিবিয়া, তুরস্ক ও লেবানন দিয়ে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র পাঠানোর রাস্তা তৈরী করা হয়েছে.