ভারত পরিকল্পনা করেছে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে এক বৈজ্ঞানিক যন্ত্র পাঠানোর. দেশের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের কথামতো, দেশের মন্ত্রীসভা এই মিশনের ধারণাকে সমর্থন করেছে, যা তুলনামূলক ভাবে খুবই কম খরচ অর্থাত্ মাত্র ৮ কোটি ২০ লক্ষ ডলার দিয়েই সম্পন্ন হয়ে যাবে.

ভারত নিজেদের বৈজ্ঞানিক কর্মীদের জন্য পৃথিবী খ্যাত, বিশেষ করে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, আর যথেষ্ট উন্নত বিমান মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও. ২০০৮ সালে এই দেশ চাঁদের কক্ষপথে পাঠিয়েছে “চন্দ্রায়ন – ১” নামের কৃত্রিম উপগ্রহ. কিন্তু একা মঙ্গল গ্রহে অভিযান করা তাদের জন্য খুবই কঠিন হতে পারত – এখনও শুধু রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এটা করতে পারে, এমনকি ইউরোপীয় সঙ্ঘও এটা করতে পারে নি. এই ধরনের পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করার মধ্যে কিছুটা চিনের প্রতি যুদ্ধ আহ্বান রয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই মহাকাশে বেশ কয়েকটি সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক একাডেমীর প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, ভারতবর্ষ মঙ্গল গ্রহে উপগ্রহ পাঠানোর কথা বলে কিছু কারণের দিকে দৃষ্টিপাত করাতে চাইছে. প্রাথমিক ভাবে এটা চিনকে দেখানো যে, তাদেরও এই ধরনের কাজ চলছে ও তারা মহাকাশ গবেষণার বিষয়ে চিনের থেকে পিছিয়ে নেই. দ্বিতীয়তঃ, এটা দেশের সামাজিক মতামতের উপরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, যারা নিজেদের দেশে উচ্চ প্রযুক্তি সৃষ্টিতে আগ্রহী. তৃতীয় বিষয় হল: এটা হতে পারে অন্যান্য দেশকেও সহযোগিতার আহ্বান. হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়তো রাশিয়া কোন না কোনও ভাবে এই ধরনের যৌথ প্রকল্পে উল্লিখিত হবেই”.

এই মুহূর্তে খুবই কঠিন হবে বলা যে, এই মিশন আদৌ হবে কি না. যদি তা হয়, তবে খুব সম্ভবতঃ, অন্য কোনও দেশের সঙ্গে একসাথেই হবে. আর সেই সমস্ত উল্লিখিত খরচের পরিমান, তা খুবই কম করে দেখানো হয়েছে, এমনকি যদি ধরাও হয় যে, ভারতের কর্মচারীদের বেতন অন্যান্য উন্নত দেশের লোকদের চেয়ে ৭- ৮ ভাগ কম, এই রকম মনে করে আন্দ্রেই ভলোদিন মন্তব্য করেছেন. যদিও তার সঙ্গে “মহাকাশ গবেষণার খবর” জার্নালের পর্যবেক্ষক ইগর লিসভ একমত হতে পারেন নি, তিনি বলেছেন:

“যদি ভারতের কোন একটা দেশ এই কাজ করতে পারে, তবে সেটা হবে – ভারতবর্ষ. সেখানে কর্ম শক্তির মূল্য কম ও যথেষ্ট উন্নত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে. অন্য যে কোন দেশের জন্যই, যারা এই পথে পা দিয়েছে, তাদের প্রথম যন্ত্র সব সময়েই হবে যথেষ্ট কম ক্ষমতা সম্পন্ন, সেখানে মূল কথা হল এই কাজ কে বোঝার চেষ্টা. অন্য দিক থেকে, নিজেদের প্রথম চন্দ্রে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষ একটি আগ্রহ জনক আমেরিকার যন্ত্র পাঠিয়েছে, আর তা এই প্রথম চাঁদে জল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে. সুতরাং আগ্রহোদ্দীপক সাফল্য হতেই পারে বলে মনে করা যায়”.

ভারতবর্ষের এই ক্ষেত্রে সাফল্য রয়েছে: প্রয়োজনীয় রকেট আছে, যা তারা পৃথিবীর চারপাশে স্থায়ী কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর জন্য ব্যবহার করেছে. আর নিজেদের মঙ্গল গ্রহের জন্য যন্ত্র ভারতীয়রা স্থায়ী কক্ষপথে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহের ভিত্তিতেই তৈরী করবে, যা “চন্দ্রায়ন – ১” এর ক্ষেত্রে করেছে. সুতরাং এই মিশন পসিবল্, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইগর লিসভ.

একই সময়ে ভারতের পার্লামেন্টে সমালোচকদের গলা শুনতে পাওয়া গিয়েছে, যারা প্রধানমন্ত্রীকে ও তাঁর দল “ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে” উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, মন্ত্রীসভার উচিত্ নয় মঙ্গল গ্রহ নিয়ে ভাবার, তাদের উচিত্ পরিস্কার খাওয়ার জলের অভাব ও খারাপ শক্তি সরবরাহ নিয়ে ভাবার. তারা বুঝতে পেরেছে যে, দুই সপ্তাহ আগে ভারতের ইলেকট্রিক গ্রিডে দুর্ঘটনার ফলে প্রায় ৬০ কোটি ভারতীয় বিদ্যুতের অভাবে আলো জ্বালাতে পারেন নি.