লন্ডন অলিম্পিকের ৩ বছর আগে ক্রীড়াবিদ হিসাবে তাকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল. তখন কেউ ভাবতে পারেনি, যে সে অলিম্পিক-২০১২তে অংশ নেবে. আর ঐ মহিলা সবার জন্য অপ্রত্যাশিতভাবে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতলো ৪০০ মিটার ব্যারিয়ারের রেসে.

৩১-বছর বয়সী মহিলার সাফল্য সবাইকে অবাক করে দিয়েছে. নাতালিয়া শুধুমাত্র সর্বশক্তি দিয়ে দৌড়াতেই যায়নি, গিয়েছিল নিজের সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে. রাশিয়ায় জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপের পরে, যেখানে নাতালিয়া দৌড় চলাকালে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল, তারপর থেকেই ভয় তাকে আঁকড়ে ধরেছিল. লন্ডন অলিম্পিকে শেষ ১০০-মিটারে নাতালিয়া ও আমেরিকার লাশিন্ডা ডেমাসের মধ্যে সত্যিকারের যুদ্ধ হয়েছিল. মার্কিনী দৌড়বিদ শুধুমাত্র স্বর্ণপদক পেতেই লন্ডনে গেছিল. তবুও ফিনিশ আগে ছুঁয়েছে নাতালিয়া. সে বলছে, যে ০,৭ সেকেন্ড, যেটা সে জিতেছে, বহু কষ্টে সেটা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে.

আমার মনে আছে শুধু শেষ ব্যারিয়ার ও ফিনিশ. শেষ ব্যারিয়ারের সামনে এসে আমি বুঝতে পারলাম, যে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে. মাথায় একটাই ভাবনা ছিল- কোনোভাবে ফিনিশ উতরানো. আবেগ ছিল অফুরন্ত. এই কারণে নয়, যে গত অলিম্পিকে আমি জাতীয় দলে ঠাঁই পাইনি, আমার অলিম্পিকে অভিষেকের পরে ৮ বছর কেটে গেছে. আর রিও পর্যন্ত খুব সম্ভবতঃ আমি আর দৌড়াবো না. আমি ধরে নিয়েছিলাম, যে এটা আমার শেষ অলিম্পিক, আর তাই আমি জয়লাভ করার জন্য সম্ভব ও অসম্ভব সবকিছু করতে বাধ্য.

নাতালিয়ার উপর একজন বরাবর অগাধ আস্থা রেখেছিলেন – তার শৈশবের প্রশিক্ষক ভাদিম পিনচুক. ১৯৯১ সালে ৯-বছর বয়সী বালিকা তার ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল, শুরু করেছিল হেপ্টাথলন দিয়ে. প্রশিক্ষক মেয়েটির উপর আস্থা রেখে ভুল করেননি. ১৯৯৮ সালে নাতাশা ঐ ৪০০ মিটার দূরত্বের ব্যারিয়ার রেসে বিশ্ব যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেছিল, যে রেস ১৪ বছর পরে তাকে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক এনে দিলো. ভাদিম পিনচুক শ্বাসবন্ধ করে লন্ডনে তার ছাত্রীর দৌড়ের ওপর নজর রেখেছিলেন. এমনকি তিনি আগে থেকেই বলতে পারতেন টাইমিং – ৫২,৭০ সেকেন্ড.

‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে পিনচুক বলছেন, যে নাতাশা ছেলেবেলা থেকেই ছিল নেত্রী. ক্লাসের অন্যান্য মেয়েরা ওর কথা মেনে চলতো, ওকে অনুসরন করার চেষ্টা করতো. তবে নাতালিয়া কখনো কম্যান্ড করতো না. চারিত্রিক দিক থেকে ও অত্যন্ত দয়াবতী ও নরম মনের মেয়ে. বড় কোনো প্রতিযোগিতায় স্টার্টের আগে নাতালিয়া পছন্দ করে একাকীত্ব, একা একা বেড়াতে.

0লন্ডন অলিম্পিক শুরু হওয়ার আগে নাতালিয়া আনত্যুখ একাধিকবার কেরিয়ার শেষ করার কথা বলেছিল. কিন্তু অলিম্পিকে জেতার পরে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়া ও ২০১৩ সালে মস্কোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে জেতার শখ হয়েছে তার. সুতরাং ২০১২ সালের ৪০০-মিটার ব্যারিয়ার রেসে বিজয়ী বোধহয় এখনো তার শেষ সোনালী ব্যারিয়ারটা টপকায়নি.