ভারত তোলপাড় করা আন্তর্সামাজিক বিরোধ বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে. শনিবারে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধি পাকিস্তানকে নানা রকমের কানাঘুষো ও দেশের উত্তর পূর্বের রাজ্য আসাম থেকে আসা লোকদের, যারা দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে রয়েছেন, তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চারের জন্য প্রচার করার দোষে অভিযুক্ত করেছেন. সোমবারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান রেহমান মালিক কঠোর ভাবে এই দোষ অস্বীকার করেছেন ও ভারতকে অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রামাণ্য হিসাবে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে.

আসামের আদিবাসী জনগন (প্রধানতঃ বোড়ো উপজাতির সদস্য) ও সেই রাজ্যে থাকা মুসলমানদের মধ্যে, যাদের স্থানীয় জনগন আগন্তুক বলেই মনে করেন, তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল সেই জুলাই মাস থেকেই. সংঘর্ষের ফলে কম করে হলেও ৮০ জন নিহত হয়েছেন, আর বিভিন্ন মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রায় কয়েক লক্ষ লোক, তিন থেকে চার লক্ষ, বাধ্য হয়েছিলেন ঘরবাড়ী ছেড়ে পালাতে. এর ঠিক পরেই ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আসাম থেকে আসা লোকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল (বিশেষ করে এদের মধ্যে অনেকেই ভারতের সিলিকন ভ্যালি – বাঙ্গালোরে থাকা লোক). অনেকেই ভয় পেতে শুরু করেছিলেন যে, মুসলমানরা প্রতিশোধ নেবেন. আর তার পরেই উল্টো দিকে মানুষ চলে যেতে শুরু করেছিল – দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক থেকে ভারতের উত্তর পূর্ব দিকে. এরই মধ্যে এই সমস্যা একেবারেই নতুন নয় ও তা ভারতের ভিতরেই থেকে যায়নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“আসামে মুসলমান লোকরা বেশ কয়েক পুরুষ ধরেই রয়েছেন – সেই ব্রিটিশ ভারতের সময় থেকেই ও তারাও এই রাজ্যে জন্ম নেওয়ার অধিকারেই অধিবাসী বলে নিজেদের মনে করতে পারেন. বর্তমানের আন্তর্সামাজিক সংঘর্ষ, যা আসামে হয়েছে, তার অনেকটাই পার্শ্ববর্তী মায়ানমার দেশের বিশৃঙ্খলার ফল, যা সেখানে হয়েছে স্থানীয় বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে. ফলে বহু বর্মার মুসলমান সেখান থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছেন. আর কিছু অংশে আসামেও. সুতরাং বিদেশের কারণ সত্যই এই সংঘর্ষকে বাড়িয়ে দিয়েছে”.

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঘোষণা যে কিছু পাকিস্তানে থাকা শক্তি এই ঘটনায় উস্কানি দিয়েছে বিভিন্ন রকমের সাইট ও এসএমএস করে ভীতি ছড়িয়ে, তা একেবারেই ফাঁকা আওয়াজ নয়. আজ, সর্ব অলিন্দে বজায় হওয়া ইন্টারনেট ও মোবাইল টেলিফোনের যুগে জনতাকে ভাল কাজে ও একই রকম ভাবে মন্দ কাজে লিপ্ত করার পথ হয়েছে এই সব মাধ্যম.

ভারত ও পাকিস্তানের দিক থেকে পারস্পরিক দোষারোপ – সাধারন ব্যাপার, তাই ভলখোনস্কি বলেছেন:

“আপাততঃ বিচার করার তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে কে ঠিক বলছে: ভারত, যারা পাকিস্তানকে দুষছে, নাকি পাকিস্তান, যারা অস্বীকার করছে. যাই হোক না কেন, আপাততঃ পাকিস্তানের কোন না কোন বিভাগের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ প্রমাণিত হয় নি. যদিও সম্পূর্ণ ভাবে এই ধরনের অভিযোগকেও অস্বীকার করা যায় না.

কিন্তু একটা বিষয় সম্বন্ধে ভেবে দেখতে হবে. কোন বিদেশী শক্তিই কখনই, এমনকি সামাজিক মতামতকে খুবই বড় মাপের প্রচার করে পাল্টাবার চেষ্টা করেও কোন ধ্বংস করার ধারণা চাপিয়ে দিতে পারে না, যদি না এই সমাজই তৈরী থাকে এই ধরনের প্রচারে কান দিতে. আর বর্তমানের পরিস্থিতিতে টুইটার, ফেসবুক বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব হয়েছে সমাজ এই ধরনের খবরের ভাল করে জন্য তৈরী ছিল বলেই. আর এর জন্য শুধু ধর্মীয় বিবাদই কারণ হয় নি, এই সমস্যা অনেক সিরিয়াস ও তাতে অনেক রকমের নিজেদের অন্যের ধরনের ব্যাপারও রয়েছে”.

এখানে বলার মতো কিছুই নেই যে, কোথাও আগন্তুক দের ভাল চোখে দেখা হয় না – এমনকি রাজনৈতিক ভাবে সঠিক ও সহিষ্ণু পশ্চিমেও. আসামের বহু লক্ষ লোক, যারা মুম্বাই বা বাঙ্গালোরে ছিলেন, তারা টুইটার বা ফেসবুক দেখে জায়গা ছেড়ে মোটেও যেতেন না, যদি না এই ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা তাদের থাকত.

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে যে, বাইরের কারণ, যদি তা থেকেও থাকে, তা মোটেও একমাত্র নয়, এই কথাই মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.