লাতিন আমেরিকার দেশ গুলি ইকোয়েডরকে গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে জুলিয়ান আসাঞ্জ সংক্রান্ত বিরোধে সমর্থন করেছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই সমর্থন সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সম্মিলিত প্রয়াসের অংশ ও ব্রিটেনের বিচার ব্যবস্থার দুই ধরনের নীতির প্রতি সমালোচনার অংশ.

১২টি লাতিন আমেরিকার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, যারা দক্ষিণ আমেরিকার জনগনের জোটের অংশ, তাঁরা সম্পূর্ণ ভাবেই ইকোয়েডরের সরকারের পক্ষ থেকে জুলিয়ান আসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন. এই বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের জরুরী বৈঠকের পরে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইকোয়েডরের অনুরোধে আয়োজন করা হয়েছিল নিউইয়র্কেই. কারণ ছিল সেই কূটনৈতিক স্ক্যান্ডাল, যা গ্রেট ব্রিটেন ও ইকোয়েডরের মধ্যে জুলিয়ান আসাঞ্জকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে হয়েছিল.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র “দাঁত শানাচ্ছে” আসাঞ্জের উপরে, কারণ তিনি এক গুচ্ছ আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের গুপ্ত দলিল প্রকাশ্য এনেছেন, যা তাদের দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঘৃণ্য কাজ কারবার বিশ্ব বাসীর সামনে উপস্থিত করেছে. তাকে গুপ্তচর বৃত্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে. অনেক সময় ধরেই আসাঞ্জ খুবই বুদ্ধি করে সেই সব জায়গা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে তিনি আমেরিকার বিচার ব্যবস্থার হাতে ধরা পড়তে পারতেন. কিন্তু ২০১০ সালে সুইডেন তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে চেয়েছিল. আসাঞ্জকে কোনও অভিযোগ করা হয় নি, তবে তিনি পুলিশের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য জানাতে অস্বীকার করায় তাঁর নামে সারা ইউরোপ জুড়েই গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে. গ্রেট ব্রিটেনের সরকার, যেখানে বিগত কিছু কাল ধরে আসাঞ্জ ছিলেন, তারা রাজী হয়েছে আসাঞ্জকে সুইডেনে পাঠানোর জন্য. কিন্তু আসাঞ্জ এক মাস আগে ইকোয়েডর দেশের দূতাবাসে ঢুকে পড়ে রাজনৈতিক শরনার্থী হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন. আসাঞ্জের অনুরোধ মেনে নেওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করে ইকোয়েডর দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান রিকার্ডো পাতিনিও তাঁদের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারে উল্লেখ খরে বলেছেন:

“ইকোয়েডর দেশের সরকার নিজেদের নীতির প্রতি অবিচল থেকেই – স্থির করেছে যে সেই সমস্ত লোককে রক্ষা করবে, যারা তাদের দেশের এলাকার মধ্যে অথবা তাদের দেশের কূটনৈতিক মিশনের এলাকার মধ্যে আশ্রয় চেয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জুলিয়ান আসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হবে”.

এখন জুলিয়ান আসাঞ্জ ইকোয়েডর দেশের কাছ থেকে অথবা তাদের লন্ডনের দূতাবাসের কাছ থেকে সেখানে থাকার বা সেই দেশে যাওয়ার বিষয়ে সাহায্য চাইতে পারে. এই ধরনের সম্ভাবনা ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের রয়েছে. কিন্তু ব্রিটেনের সরকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্বন্ধে নিজেদের বানানো ধারণা রয়েছে. তাদের স্থানীয় আইন অনুযায়ী তারা দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনের মর্যাদা হানী করতেই পারে, যদি মনে করে যে, সেখানে তাদের মতে আইন বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে – আর তারা দূতাবাসে ঢুকে পড়ে সেখানের মর্যাদা না মেনেই আসাঞ্জকে জোর করে ধরে আনকে পারে. এই রকমের বিষয়ই ব্রিটেনের সরকার ইকোয়েডরের দূতাবাসকে লিখিত ভাবে জানিয়েছে.

এই ধরনের বিশ্ব স্বীকৃত নিয়মের অবমাননা বহু দেশেরই সমালোচনার কারণ হয়েছে. এই কারণেই লন্ডন কিছুটা গলার জোর কমিয়েছে, স্বীকার করেছে যে, আসাঞ্জের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, যদিও তারা নিজেদের দৃঢ় ইচ্ছা যে, তারা আসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করে সুইডেনে পাঠাবেই, তা লুকিয়ে রাখে নি. আর সেখান থেকে তার – আমেরিকায় পৌঁছনোর রাস্তা সোজা, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ না করেই রাজনীতিবিদ পাভেল স্ভিয়াতেনকভ বলেছেন:

“আমার মনে হয়েছে যে, ইকোয়েডর আসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে তৈরী থাকলেও, খুব সম্ভবতঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসাঞ্জ সম্বন্ধে নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করবেই. কারণ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সেই ধরনের কাজ, যা “উইকিলিক্স” করেছে, তা যেন শাস্তির উর্দ্ধে না হয়. এমনকি যদি আসাঞ্জ ইকোয়েডর চলেও যায় অথবা তাদের দূতাবাসেও থেকে যায়, তবুও আমেরিকার লোকরা তাকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়েই যাবে আর হয় আগে নয়তো পরে নিজেদের হাতেই পেয়ে যাবে”.

0শরনার্থী হওয়ার পরিস্থিতি আসাঞ্জের উপরে থেকে কিন্তু যার বিশেষ খোঁজ চলছে, সেই রকমের অপরাধীর পরিস্থিতি বদল করে নি. ইন্টারপোল সমর্থন করে জানিয়েছে যে, “উইকিলিক্স” সাইটের স্রষ্টা তথাকথিত লাল তালিকায় রয়েই গিয়েছেন. ইন্টারপোলের সাইটের লাল রঙের কোনায় দাগানো যে দলিলের অর্থ হল যে, সেই সব দেশ ও সংগঠন, যারা এই সংস্থায় রয়েছে, তারা যে কোন ধরনেরই ব্যবস্থা নিজেদের আইন সম্মত ভাবে নিতে পারে যাতে সেই লোককে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়.